শ্রমিক আন্দোলনে ফ্যাসিস্টদের অনুপ্রবেশ ঘটলে দায় সরকারের: নাহিদ ইসলাম
সংগৃহীত
জেলা প্রতিনিধি
পোশাকশ্রমিকদের মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলনকে যৌক্তিক উল্লেখ করে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেছেন, সঠিক সময়ে যথাযথ পরিকল্পনা নিতে না পারায় শ্রমিক আন্দোলন বড় আকার ধারণ করেছে। এ আন্দোলনে ফ্যাসিস্টদের অনুপ্রবেশ ঘটলে এর সম্পূর্ণ দায়ভার সরকারকেই নিতে হবে।
মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) বিকেলে পাবনা জেলা শিল্পকলা একাডেমি প্রাঙ্গণে দলীয় কর্মী সভা ও সুধী সমাবেশে যোগ দিতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
নাহিদ ইসলাম বলেন, দুই সপ্তাহ ধরেই বোঝা যাচ্ছিল পোশাক খাতে মজুরি বৃদ্ধির আন্দোলন হতে পারে। শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে সরকারের আগেভাগেই মজুরি পুনর্নির্ধারণ করা উচিত ছিল। কোনো ন্যায্য আন্দোলনকে ‘ষড়যন্ত্র’ আখ্যা দিয়ে দায় এড়ানোর সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, আন্দোলনে কোনো গোষ্ঠী অনুপ্রবেশ করে নৈরাজ্য সৃষ্টি করে থাকলে তা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর চরম ব্যর্থতা। সরকারের গোয়েন্দা সংস্থাগুলো বিরোধী দল কোথায় যাচ্ছে, বসছে বা কী করছে, তা নজরদারিতে ব্যস্ত। কিন্তু দেশের শত্রুরা কী করছে, সে বিষয়ে তাদের কোনো খোঁজ নেই।
ক্ষমতাসীন দল বিএনপির সমালোচনা করে এনসিপির আহ্বায়ক আরও বলেন, সারা দেশে আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মী ও তাঁদের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বিএনপির আশ্রয়-প্রশ্রয়ে রয়েছে। বিএনপি তাদের সুযোগ দিলে আওয়ামী লীগ সেই সুযোগ কাজে লাগানোর দায়ও বিএনপিকে নিতে হবে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত আট মাসে সরকার পরিচালনায় বিএনপি পুরোপুরি ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষা ও আন্দোলন মোকাবিলায় সরকারের দক্ষতার অভাব রয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে কীভাবে আলোচনা ও সমঝোতার মাধ্যমে আন্দোলন নিরসন করা হয়েছে, তা সবাই দেখেছেন। সরকারের ওপর জনগণের আস্থা না থাকায় আন্দোলন থামছে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
রাজনৈতিক কৌশল সম্পর্কে নাহিদ ইসলাম জানান, ১১-দলীয় জোট সংসদীয় জোট হিসেবে থাকলেও আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এনসিপি স্বতন্ত্র ও এককভাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। এ লক্ষ্যে সারা দেশে আঞ্চলিক সমাবেশের মাধ্যমে দলকে প্রস্তুত করা হচ্ছে।
আওয়ামী লীগ প্রসঙ্গে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ বলেন, ডিসেম্বর নিয়ে আওয়ামী লীগের অপপ্রচার রাজপথে প্রতিহত করা হবে। ১৯৭১ সালের মতো ডিসেম্বর সব সময় জনগণেরই থাকবে।
ডিসেম্বরে গঙ্গা চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, সরকারের ‘নতজানু’ পররাষ্ট্রনীতির কারণে নতুন চুক্তি তো দূরের কথা, মেয়াদ নবায়নও করা যাচ্ছে না। উল্টো ভারতকে কীভাবে করিডোর দেওয়া যায়, তা নিয়ে পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির যুগ্ম সদস্যসচিব এস এম সাইফ মুস্তাফিজ, জাতীয় স্বেচ্ছাসেবক শক্তির আহ্বায়ক মাহিন সরকারসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
এমকে/বিএম২৪








