রাজারহাট ইউএনওর ছুটি নিয়ে সংবাদ প্রকাশ ঘিরে বিতর্ক, নথিতে ছুটি মঞ্জুরের তথ্য
সংগৃহীত
শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
কুড়িগ্রামের রাজারহাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানজিলা তাসনিমের নৈমিত্তিক ছুটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি সংবাদকে কেন্দ্র করে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। দৈনিক কালবেলার রাজারহাট উপজেলা প্রতিনিধির প্রকাশিত ‘ছুটি নিয়ে প্রশ্নের মুখে ইউএনও, সেবা না পেয়ে ফিরছেন মানুষ’ শীর্ষক সংবাদটির তথ্যগত ভিত্তি ও উপস্থাপন নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন জেলার সাংবাদিক ও সচেতন মহলের প্রতিনিধিরা।
জেলা প্রশাসনের নথি অনুযায়ী, ইউএনও তানজিলা তাসনিম ২০২৬ সালের ২২ অক্টোবর জেলা প্রশাসক অন্নপূর্ণা দেবনাথের কাছে ২৫ থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত চার দিনের নৈমিত্তিক ছুটির আবেদন করেন। পরদিন ২৩ অক্টোবর তাঁর আবেদন মঞ্জুর করা হয়। একই সঙ্গে এক দিন স্টেশনে অনুপস্থিত থাকার অনুমতিসহ ছুটির প্রজ্ঞাপন জারি করে জেলা প্রশাসন।
অন্যদিকে, প্রকাশিত সংবাদে ইউএনওর ছুটির আবেদন পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে সংবাদটির তথ্য যাচাই নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকেরা। তাঁদের মতে, কোনো সরকারি কর্মকর্তার ছুটি-সংক্রান্ত সংবাদ প্রকাশের আগে সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নথি যাচাই এবং কর্তৃপক্ষের বক্তব্য নেওয়া জরুরি।
এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সাধারণ সম্পাদক মাহফুজার রহমান খন্দকার বলেন, একজন ইউএনও বিধি অনুযায়ী ছুটি নিতে পারেন। নিয়মতান্ত্রিক ছুটিকে কেন্দ্র করে ইচ্ছাকৃতভাবে বিভ্রান্তিকর সংবাদ প্রকাশ করা সাংবাদিকতার নীতিমালার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে তিনি মনে করেন।
ছুটি নিয়ে ইউএনওর বক্তব্য
এ বিষয়ে ইউএনও তানজিলা তাসনিম বলেন, একজন সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বিধি অনুযায়ী নৈমিত্তিক ছুটি ভোগ করার অধিকার তাঁর রয়েছে। নিয়মতান্ত্রিক ছুটি গ্রহণের মতো একটি স্বাভাবিক বিষয়কে কেন্দ্র করে গণমাধ্যম ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এত আলোচনা কেন হচ্ছে, তা নিয়েও বিস্ময় প্রকাশ করেন তিনি।
‘স্যার’ সম্বোধন নিয়ে তৈরি হওয়া বিতর্কেরও ব্যাখ্যা দিয়েছেন ইউএনও। তাঁর ভাষ্য, কোনো মন্ত্রীকে সম্মানসূচক ‘স্যার’ সম্বোধন করা শিষ্টাচারের অংশ। সম্মান প্রদর্শনের প্রচলিত এই রীতিকে ঘিরে অযৌক্তিক সমালোচনা করা হচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।
তানজিলা তাসনিম আরও বলেন, পূর্ববর্তী কর্মস্থলেও তিনি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে সাধারণ মানুষের সেবা দেওয়ার চেষ্টা করেছেন।
দায়িত্বশীল সাংবাদিকতার আহ্বান
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত ও তথ্যভিত্তিহীন সংবাদ প্রকাশের অভিযোগ তুলে ইউএনও বলেন, এ ধরনের চর্চা একজন সরকারি কর্মকর্তার সম্মানহানির কারণ হতে পারে। বিশেষ করে একজন নারী কর্মকর্তাকে লক্ষ্য করে অপপ্রচার চালানো হলে তা হয়রানি ও হেয়প্রতিপন্ন করার শামিল হতে পারে।
তিনি সাংবাদিক সমাজের প্রতি দায়িত্বশীল, তথ্যনির্ভর ও পেশাদার সাংবাদিকতা চর্চার আহ্বান জানান।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ ধরনের ঘটনায় সংবাদ প্রকাশের আগে ছুটির আবেদন, অনুমোদনপত্র ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরের বক্তব্য যাচাই করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সংবাদে জনসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ থাকলে তার পক্ষে নির্দিষ্ট তথ্য, ঘটনা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য তুলে ধরা জরুরি।
এমকে/বিএম২৪








