আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও কমেনি দাম, ভোগান্তিতে নাসিরনগরের মানুষ

প্রকাশিত: ৩০ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:৩১ পিএম
আগাম শীতকালীন সবজির সরবরাহ বাড়লেও কমেনি দাম, ভোগান্তিতে নাসিরনগরের মানুষ

সংগৃহীত

 জায়েদ হোসেন, নাসিরনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি


ব্রাহ্মণবাড়িয়ার হাওরবেষ্টিত নাসিরনগরে শীতকালীন আগাম সবজির সরবরাহ বাড়তে শুরু করেছে। তবে বাজারে সবজির পর্যাপ্ত সরবরাহ থাকলেও কমছে না দাম। বরং বিভিন্ন অজুহাতে কিছু পণ্যের দাম বাড়তি রাখা হচ্ছে বলে অভিযোগ ক্রেতাদের। এতে বিপাকে পড়েছেন নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ।


পণ্যের দাম বাড়ার পুরোনো প্রবণতার প্রতিফলন শীতের শুরুতেই দেখা যাচ্ছে উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজারে। কাঁচাবাজার থেকে মুদি পণ্য, পোশাক, মুরগি ও মাংস—প্রায় সব ক্ষেত্রেই দামের ঊর্ধ্বগতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতে সীমিত আয়ের মানুষের সংসার খরচে বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে।


শুক্রবার (৩০ অক্টোবর) সকাল থেকেই উপজেলার বিভিন্ন হাট-বাজার ও সাপ্তাহিক বাজারে ক্রেতাদের ভিড় ছিল চোখে পড়ার মতো। তবে বাজারে গিয়ে পণ্যের দাম দেখে হতাশা ও ক্ষোভ প্রকাশ করেন অনেকেই। ক্রেতাদের ভাষ্য, গত সপ্তাহের তুলনায় বেশ কিছু পণ্যের দাম বেড়েছে। আবার কিছু পণ্যের দাম আগে থেকেই বেশি। শীতকালীন আগাম সবজি বাজারে উঠতে শুরু করলেও সেগুলো বিক্রি হচ্ছে চড়া দামে।


উপজেলার কয়েকটি কাঁচাবাজার ঘুরে বিক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্তমানে লম্বা বেগুন প্রতি কেজি ১২০ টাকা, গোল বেগুন ১০০ টাকা, টমেটো ৭০ থেকে ৮০ টাকা, শিম ৬০ থেকে ৮০ টাকা, শসা ১২০ টাকা, ক্ষিরা ৭০ টাকা, পুঁইশাক ৪০ থেকে ৫০ টাকা, করলা ১০০ টাকা, কাঁচামরিচ ২০০ থেকে ২৬০ টাকা এবং গাজর ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।


এ ছাড়া প্রতি কেজি পেঁয়াজ ৫০ থেকে ৬০ টাকা, লাউ ৭০ থেকে ৮০ টাকা, কাঁচকলা ৬০ টাকা হালি, ফুলকপি ৬০ থেকে ৭০ টাকা এবং বাঁধাকপি ৫০ থেকে ৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। বাজারভেদে দামে কিছুটা পার্থক্য থাকলেও সামগ্রিকভাবে পণ্যের দাম ঊর্ধ্বমুখী।


বাজার করতে আসা সোহেল মিয়া বলেন, শীতকালীন আগাম সবজির সরবরাহ থাকলেও চাহিদার অজুহাতে কিছু ব্যবসায়ী আগেভাগেই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। ফলে শীতের শুরুতেই বাজারে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকে দৈনন্দিন খরচের তালিকা থেকে বিভিন্ন পণ্য বাদ দিতে হচ্ছে।


দাম বাড়ার কারণ হিসেবে বিক্রেতারা পাইকারি বাজারে বেশি দামে পণ্য কেনার কথা বলছেন। তাঁদের দাবি, পাইকারি বাজারে দাম বেশি থাকায় খুচরা পর্যায়ে কম দামে বিক্রি করলে লোকসান গুনতে হবে। এক বিক্রেতা বলেন, শীতকালীন সবজি এখন বাজারে আসছে। আড়তে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।


আরেক বিক্রেতার ভাষ্য, শীত শুরুর আগে থেকেই কিছু পণ্যের চাহিদা বেড়েছে। এতে পাইকারি বাজারে দামের ওপর চাপ পড়েছে। তাঁরা নিজেরা দাম নির্ধারণ করেন না; আড়তের দামের ওপর নির্ভর করেই বিক্রি করতে হয়।


ক্রেতা মো. মিজানুর রহমান বলেন, ভোক্তারা সব সময়ই কোনো না কোনোভাবে ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। ব্যবসায়ীরা নিজেদের মতো করে দাম বাড়িয়ে দিচ্ছেন। নানা অজুহাতে ক্রেতাদের পকেট কাটা হচ্ছে। অন্য অনেক দেশে মৌসুমভেদে পণ্যের দাম কমে বা স্থিতিশীল থাকে। কিন্তু বাংলাদেশে অনেক সময় এর উল্টো চিত্র দেখা যায়। কিছু অসাধু ব্যবসায়ী অতিরিক্ত মুনাফার চেষ্টা করেন। সরকারি তদারকি বাড়ানো হলে এ প্রবণতা কমে আসত।


অনেক ক্রেতার অভিযোগ, বাজারে কার্যকর নজরদারি না থাকায় সুযোগসন্ধানী ব্যবসায়ীরা সহজেই পণ্যের দাম বাড়ানোর সুযোগ পাচ্ছেন। ফলে ন্যায্য দামে পণ্য না পেয়ে বাধ্য হয়েই বেশি দামে কিনতে হচ্ছে তাঁদের।


ভোক্তা অধিকার নিয়ে কাজ করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, শীতের আগমনকে কেন্দ্র করে বাজারে কৃত্রিম সংকট, অতিরিক্ত মুনাফা ও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ নতুন নয়। নিয়মিত বাজার তদারকি, পাইকারি ও খুচরা পর্যায়ে দামের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং অনিয়মের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হলে পরিস্থিতি অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।


শীতের শুরুতেই বাজার পরিস্থিতি নিয়ে সাধারণ মানুষের উদ্বেগ বাড়ছে। সামনে আসছে রমজান মাস। পুরো রমজানজুড়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম স্থিতিশীল রাখা, কৃত্রিম সংকট ঠেকানো এবং ন্যায্য বাণিজ্য নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সক্রিয় ভূমিকা চান ক্রেতারা। তাঁদের প্রত্যাশা, কঠোর নজরদারি ও কার্যকর উদ্যোগের মাধ্যমে নিত্যপণ্যের বাজারে স্বস্তি ফিরিয়ে আনা হবে।


এমকে/বিএম২৪