মাদ্রাসা সুপারের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরালের অভিযোগ, তদন্তের কথা প্রশাসনের

প্রকাশিত: ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:০১ পিএম
মাদ্রাসা সুপারের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরালের অভিযোগ, তদন্তের কথা প্রশাসনের

সূত্রঃ সংগৃহীত

রাজশাহী প্রতিনিধি


রাজশাহীর মোহনপুরে একটি মাদ্রাসার সুপার গোলাম মোস্তফার আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার অভিযোগ উঠেছে। বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যার পর ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।


ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে এক পুরুষ ও এক নারীকে একটি কক্ষে আপত্তিকর অবস্থায় দেখা যায় বলে দাবি করা হচ্ছে। ভিডিও ধারণকারীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ওই নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘এই কে?’ পরে ক্যামেরা পুরুষ ব্যক্তির দিকে নেওয়া হলে তিনি চাদর দিয়ে শরীর ঢেকে ফেলেন। এ সময় তাকে বলতে শোনা যায়, ‘বাবা, আমি একজন শিক্ষক মানুষ। আমার জীবনটা শেষ করে দিয়ো না বাবা।’


ভিডিও ধারণকারীরা ওই ব্যক্তির নাম জানতে চাইলে তিনি নিজেকে ‘গোলাম মোস্তফা’ বলে পরিচয় দেন। পরে তিনি তাদের কাছে সাহায্যের অনুরোধ করেন। তবে ভিডিওটির পূর্ণাঙ্গ প্রেক্ষাপট ও এটি কোথায়, কখন ধারণ করা হয়েছে, তা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।


স্থানীয়দের দাবি, ভিডিওতে থাকা ব্যক্তি মোহনপুর উপজেলার মৌগাছি ইউনিয়নের বসন্তকেদার দারুস সুন্নাত দাখিল মাদ্রাসার সুপার গোলাম মোস্তফা। স্থানীয়রা জানান, তিনি প্রায় ২৮ বছর ধরে ওই মাদ্রাসায় দায়িত্ব পালন করছেন। তিনি এমপিওভুক্ত শিক্ষক এবং সরকারি বেতন-ভাতা পান। অবসরে যেতে তার আরও প্রায় পাঁচ বছর বাকি রয়েছে বলে জানা গেছে।


স্থানীয়দের কেউ কেউ গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে এর আগেও এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে সম্পর্ক ও পরবর্তী সময়ে বিয়ের অভিযোগের কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, বিয়ের প্রায় তিন মাস পর ওই নারীকে তালাক দেওয়া হয়। এ ঘটনায় আদালতে মামলা চলমান রয়েছে বলেও তারা জানান। তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন সত্যতা যাচাই করা যায়নি।


মাদ্রাসা সূত্রে জানা গেছে, ২০২৬ সালের দাখিল পরীক্ষায় প্রতিষ্ঠানটির ৩৫ জন শিক্ষার্থী অংশ নেয়। এর মধ্যে ১১ জন উত্তীর্ণ এবং ২৪ জন অকৃতকার্য হয়। বর্তমানে মাদ্রাসাটিতে প্রায় ৩৫০ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন ২৪ জন। এর মধ্যে শিক্ষক ১৯ জন এবং কর্মচারী পাঁচজন।


তবে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন মাদ্রাসার সুপার গোলাম মোস্তফা। তিনি বলেন, ‘আমাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হচ্ছে।’


মাদ্রাসা পরিচালনা পর্ষদের সভাপতি ইসারুল হক বলেন, ‘বিষয়টি অনেকের মাধ্যমে আমরা জেনেছি। কমিটির অন্যান্য সদস্যদের সঙ্গে আলোচনা করে সুপারের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


মোহনপুর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এস এম মাহমুদ হাসান বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে আমি কিছুই জানি না। ঘটনাটি সঠিক হলে তাকে সাময়িক বরখাস্তসহ বেতন-ভাতা বন্ধের বিষয়ে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফাহিমা বিনতে আখতার বলেন, ঘটনাটি তদন্ত করা হবে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া গেলে তার বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


রাজশাহী জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. জায়েদুর রহমান বলেন, ‘এটা গুরুতর অভিযোগ। বিষয়টি আমি জানি না। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে তার বিরুদ্ধে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’


প্রশাসনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভিডিওটির সত্যতা ও ঘটনার প্রকৃত প্রেক্ষাপট তদন্তের পরই নিশ্চিত হওয়া সম্ভব।