ফরিদপুরে ৮ বছরের শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে মামলা
ফাইল ছবি
মো. মাহাবুব মিয়া, ফরিদপুর জেলা প্রতিনিধি
ফরিদপুর সদর উপজেলার কানাইপুর ইউনিয়নের ফুরসা গ্রামে আট বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে থানায় মামলা হয়েছে। গত ১৩ অক্টোবর ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় মামলাটি করা হয়। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে অভিযুক্ত কিশোরের পরিবারের দাবি, দীর্ঘদিনের জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাকে মামলায় ফাঁসানো হয়েছে। উভয় পক্ষই ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছে।
অভিযোগকারী শিশু সামিয়া আক্তারের বাবা মো. রাজ্জাকের অভিযোগ, মো. সোহাগ মোল্লা (১৫) তাঁর মেয়েকে জোরপূর্বক ধর্ষণের চেষ্টা করে। তবে সে ব্যর্থ হয়। এ ঘটনার সুষ্ঠু বিচার দাবি করেছেন তিনি।
শিশু সামিয়া জানায়, তাকে টেনে জঙ্গলের দিকে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে ফেলে রাখা হয়। পরে ভয়ে চিৎকার করতে করতে সে বাড়িতে ফিরে আসে।
অন্যদিকে, অভিযুক্ত সোহাগ মোল্লার বাবা মো. হাতেম মোল্লার দাবি, তাঁদের বসতভিটার ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। অল্প জমির ওপর টিনের ঘর নির্মাণ করে তাঁরা সন্তানদের নিয়ে বসবাস করেন। ওই জমির ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য তাঁদের দীর্ঘদিন ধরে চাপ দেওয়া হচ্ছে। জমি ছেড়ে দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁর ছেলেকে মামলায় জড়ানো হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।
হাতেম মোল্লা আরও দাবি করেন, বিরোধ মীমাংসার জন্য তাঁদের কাছে দুই থেকে তিন লাখ টাকা চাওয়া হয়েছে। আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে ওই টাকা দেওয়া তাঁদের পক্ষে সম্ভব নয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও ন্যায়বিচার দাবি করেন।
স্থানীয় সাবেক ইউপি সদস্য মোহাম্মদ আক্কাস বলেন, সোহাগকে তিনি ভালো ও ভদ্র ছেলে হিসেবে চেনেন। তাঁর ভাষ্য, পরিবারটি অসহায় এবং দুই ভাই কষ্ট করে সংসার চালান। ঘটনার পেছনে জমি নিয়ে বিরোধ থাকতে পারে বলে মনে করেন তিনি। আক্কাসের অভিযোগ, বিষয়টি মীমাংসার জন্য তাঁদের কাছে দুই থেকে তিন লাখ টাকা দাবি করা হয়েছে। প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনে নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানান তিনি।
স্থানীয় দোকানদার রমজান জানান, সোহাগ প্রায় তিন বছর তাঁর দোকানে কাজ করেছে। এ সময়ে তার মধ্যে এমন কোনো আচরণ তিনি দেখেননি বলে দাবি করেন। অভিযোগের সত্যতা যাচাই করে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটনের আহ্বান জানান তিনি।
সোহাগের ভাই আকাশের অভিযোগ, বসতভিটার ওপর দিয়ে রাস্তা নির্মাণের জন্য জমি দিতে রাজি না হওয়ায় তাঁদের পরিবারকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে। তাঁদের ভ্যানগাড়ি নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা এবং পরিবারের সদস্যদের প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি। আকাশের আরও দাবি, ঘটনার দিন তাঁদের বাড়িতে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের চেষ্টা করা হয়।
সোহাগের মা জোবেদা বেগমও জমি নিয়ে বিরোধের কথা উল্লেখ করে দাবি করেন, এর জেরেই তাঁর ছেলেকে মামলায় জড়ানো হয়েছে। তিনি বলেন, তাঁদের পরিবার দিন এনে দিন খায়। এ অবস্থায় বিপুল পরিমাণ টাকা দাবি, টাকা না দিলে মামলা চালিয়ে যাওয়া এবং বাড়িঘর ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়ার অভিযোগও করেন তিনি।
অভিযুক্ত সোহাগ মোল্লা জানায়, ঘটনার সময় সে সামিয়া ও অন্য শিশুদের সঙ্গে খেলাধুলা করছিল। এ সময় সামিয়া তার নাম ধরে ডাকছিল বলে সে রাগ করে তাকে ধাক্কা দিয়ে ঝোপের মধ্যে ফেলে দেয়। পরে সামিয়া কান্না করতে করতে বাড়িতে চলে যায়। এরপর সে জানতে পারে, তার বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
সোহাগের দাবি, তাকে ষড়যন্ত্র করে ফাঁসানো হয়েছে। সে ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত দোষীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. শিপন মাতুব্বরের সঙ্গে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগ ও পাল্টা অভিযোগের বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
এমকে/বিএম২৪









