প্রেমঘটিত বিরোধে বিএনপি-জামায়াত সমর্থকদের সংঘর্ষ, আহত ১০
সূত্রঃ বিডি মেইল
মালিকুজ্জামান কাকা, মনিরামপুর (যশোর) প্রতিনিধি
যশোরের মনিরামপুর উপজেলার ইত্যা গ্রামে প্রেমঘটিত একটি বিষয়কে কেন্দ্র করে স্থানীয় সালিশ বৈঠকে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এতে উভয় পক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের মধ্যে তিনজনকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
শনিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার ২ নম্বর কাশিমনগর ইউনিয়নের ইত্যা বাজারে এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। স্থানীয়দের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ইত্যা গ্রামের একটি প্রেমঘটিত বিষয় স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য সালিশ বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠক চলাকালে দুই পক্ষের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হলে একপর্যায়ে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের ভাষ্য, সংঘর্ষে বিএনপি সমর্থিত কয়েকজনের পাশাপাশি অপর পক্ষের ৩০ থেকে ৪০ জন ব্যক্তি জড়িয়ে পড়েন। এতে উভয় পক্ষের বেশ কয়েকজন আহত হন।
জামায়াত সমর্থিত পক্ষের আহতদের মধ্যে ফজলুর রহমান (৪৫), আশরাফুল (৩৫) ও শামসুল হক (৩৬) রয়েছেন। স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করেন।
এদিকে সংঘর্ষের পর ইত্যা বাজারে থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। সোমবারও বাজারে জামায়াত সমর্থিত লোকজনের অবস্থান দেখা গেছে। বিএনপি সমর্থিত কয়েকজন ব্যবসায়ী দোকান খুলতে গেলে বাধা ও মারধরের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, ঘটনার পর থেকে তরিকুল, আজহার, সবুর, দাউদ, সুমন, বুলবুল, সফিয়ার ডাক্তার ও হাফিজুরসহ কয়েকজনের দোকান বন্ধ রয়েছে।
বিএনপি নেতাকর্মীদের অভিযোগ, হামলাকারীরা নাসির উদ্দিনের দোকান থেকে আড়াই মণ মাংসসহ বিভিন্ন মালামাল লুট করেছে। এ ছাড়া সাদেককে খোঁজার কথা বলে হায়দারের বাড়িতে ভাঙচুর চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তারা।
স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মীরা আরও অভিযোগ করেন, বহিরাগত লোকজন এনে ইত্যা বাজারে অবস্থান নেওয়া হয়েছে। তাদের দাবি, সংঘর্ষের পর অস্ত্রসহ দুই ব্যক্তিকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করা হলেও পরে পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বাজারে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে লোকজন অবস্থান করছে বলেও তারা অভিযোগ করেন।
ইত্যা বাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ কার্যকর ভূমিকা রাখছে না—এমন অভিযোগও করেছেন বিএনপি নেতাকর্মীরা। তাদের দাবি, অভিযোগ দেওয়ার পরও এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। বিএনপির স্থানীয় সভাপতি আব্দুর রাজ্জাক মাস্টার বলেন, “অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে পুলিশ এখানে জামায়াতের সমর্থন করছে। দুই পক্ষের বিরোধ মীমাংসায় এখনো কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।”
তবে পুলিশের বিরুদ্ধে ওঠা এসব অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতে ইসলামীর স্থানীয় নেতাকর্মীদের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
মনিরামপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু সাইদ বলেন, প্রেমঘটিত একটি বিষয় সমাধানের জন্য স্থানীয়ভাবে সালিশ বৈঠক আয়োজন করা হয়েছিল। সেখানে দুই পক্ষের মধ্যে বিভক্তি তৈরি হয়ে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষের লোকজনই আহত হয়েছেন এবং কয়েকজনকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে পুলিশ মাঠে কাজ করছে।








