আবাসন ও বকেয়া বৃত্তির টাকা হস্তান্তরের দাবিতে জকসুর মানববন্ধন

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৬ পিএম
আবাসন ও বকেয়া বৃত্তির টাকা হস্তান্তরের দাবিতে জকসুর মানববন্ধন

সূত্রঃ বিডি মেইল

জবি প্রতিনিধি


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনে কেরানীগঞ্জে ৭ একর জমিতে ২০২৬ সালের মধ্যে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসনের ব্যবস্থা এবং বিশেষ বৃত্তির বকেয়া অর্থ দ্রুত হস্তান্তরের দাবিতে মানববন্ধন করেছে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় শিক্ষার্থী সংসদ (জকসু)।


সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর ২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রফিক ভবনের সামনে এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়।


জকসুর নেতারা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আবাসন সংকটে ভুগছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। পর্যাপ্ত আবাসিক সুবিধা না থাকায় অধিকাংশ শিক্ষার্থীকে ক্যাম্পাসের বাইরে মেস ও বাসাবাড়িতে থাকতে হচ্ছে। এতে বাড়তি ব্যয়ের পাশাপাশি নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।


মানববন্ধনে বিশ্ববিদ্যালয়ের নবীন শিক্ষার্থী জুবায়ের আহমেদ সিয়াম বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তির পর শিক্ষার্থীদের জন্য আবাসন ব্যবস্থা অত্যন্ত জরুরি। পুরান ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় নানা সমস্যার মধ্যে শিক্ষার্থীদের বসবাস করতে হচ্ছে। তাই আপাতত অস্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করার পাশাপাশি ভবিষ্যতের শিক্ষার্থীদের জন্য স্থায়ী আবাসন নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।


জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, শিক্ষার্থীদের অধিকার ও আবাসন নিশ্চিত করা বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব। ২০২৬ সালের মধ্যে কেরানীগঞ্জের ৭ একর জমিতে ১ হাজার ৬০০ শিক্ষার্থীর জন্য সুনির্দিষ্ট আবাসন ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।


তিনি আরও বলেন, আবাসন বৃত্তির জন্য বরাদ্দ ৫৬ কোটি টাকার মধ্যে বাকি ৪৬ কোটি টাকা দ্রুত শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিতরণ করতে হবে।


জকসুর শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল বলেন, শিক্ষার্থীদের মৌলিক দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে এখনো কোনো সুস্পষ্ট রোডম্যাপ দেওয়া হয়নি। চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে অর্থ পাওয়ার পরও কয়েক মাসের মধ্যে অস্থায়ী আবাসন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের ন্যায্য দাবির আন্দোলন থামিয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। চলতি বছরের মধ্যেই আবাসনসহ শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনের প্রতি আহ্বান জানান তিনি।


জকসুর এজিএস মাসুদ রানা বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকটের সমাধানের আশ্বাস পাওয়ার পরও বাস্তবে অগ্রগতি না হওয়ায় আবারও আন্দোলনে নামতে হয়েছে। প্রশাসনের অদক্ষতা, গড়িমসি ও অকার্যকারিতার কারণে শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ বাড়ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা কোনো ব্যক্তিগত সুবিধা নয়, তাদের ন্যায্য অধিকার চায়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তিনি।


জকসুর জিএস আব্দুল আলিম আরিফ বলেন, আবাসন বৃত্তির জন্য ৫৬ কোটি টাকা বরাদ্দ হলেও দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও বকেয়া অর্থ শিক্ষার্থীদের হাতে পৌঁছায়নি। প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দুর্বলতার কারণে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি আরও বলেন, কেরানীগঞ্জের ৭ একর জমিতে তিন মাসের মধ্যে ১ হাজার ৬০০-এর বেশি শিক্ষার্থীর জন্য অস্থায়ী আবাসন চালুর কথা থাকলেও তা বাস্তবায়িত হয়নি। স্থায়ী আবাসন প্রকল্পের নামে দীর্ঘসূত্রতা না করে দ্রুত অস্থায়ী আবাসন নির্মাণের দাবি জানান তিনি।


এ সময় তিনি ৭ একর জমির যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং শিক্ষার্থীদের আবাসন সংকট নিরসনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার দাবি জানান। শিক্ষার্থীদের জন্য নির্ধারিত জমির কোনো অংশ অন্য কাজে ব্যবহারের বিষয়ে আপত্তি জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের আবাসন অধিকার রক্ষায় জকসু প্রয়োজনীয় কর্মসূচি চালিয়ে যাবে।