এসআই আলতাফ হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, বলছে র‍্যাব

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৬:২৯ পিএম
এসআই আলতাফ হত্যা বিচ্ছিন্ন ঘটনা, বলছে র‍্যাব

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) উপপরিদর্শক (এসআই) আলতাফ হোসেন (৫৮) হত্যাকাণ্ডকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‍্যাব)। এ ঘটনায় র‍্যাব-১০ ও র‍্যাব-৪-এর পৃথক অভিযানে এজাহারভুক্ত আট আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কারওয়ান বাজারে র‍্যাব মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক অতিরিক্ত ডিআইজি মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান।

র‍্যাব জানায়, গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ৮টা থেকে ১১টার মধ্যে সাভারের আমিনবাজারের বরদেশী এলাকায় একটি প্রাইভেটকারের চালক ও তার সহযোগীদের হামলায় এসআই আলতাফ হোসেন নিহত হন। একটি অটোরিকশা গ্যারেজের সামনে রাখা নিয়ে গ্যারেজের মালিককে মারধরের প্রতিবাদ করাকে কেন্দ্র করে ঘটনার সূত্রপাত।

প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে, গ্যারেজের মালিককে মারধরের সময় এসআই আলতাফ হোসেন প্রতিবাদ করেন। এ সময় হামলাকারীদের সঙ্গে তার ও ছেলে আরিফুলের বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে আলতাফ হোসেন নিজেকে পুলিশ সদস্য হিসেবে পরিচয় দিলে হামলাকারীরা আরও ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে।

পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে প্রাণ বাঁচাতে ছেলে আরিফুলের পোশাক কারখানায় আশ্রয় নেন এসআই আলতাফ। কিন্তু হামলাকারীরা সেখানে গিয়ে আরও ১৫ থেকে ২০ জনকে ডেকে আনে। পরে কারখানার গেট ভেঙে তারা ভেতরে প্রবেশ করে আলতাফ হোসেন ও তার ছেলে আরিফুলকে দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোঁটা দিয়ে মারধর করে। এ সময় কারখানার মেশিন ও আসবাবপত্রও ভাঙচুর করা হয়।

পরে গুরুতর আহত বাবা-ছেলেকে স্থানীয়রা উদ্ধার করে শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে চিকিৎসক এসআই আলতাফ হোসেনকে মৃত ঘোষণা করেন। তার ছেলে আরিফুলও গুরুতর আহত হন।

এ ঘটনায় নিহতের স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার মডেল থানায় ১৫ জনের নাম উল্লেখ করে হত্যা মামলা করেন। এরপর আসামিদের গ্রেপ্তারে গোয়েন্দা নজরদারি শুরু করে র‍্যাব।

র‍্যাব-১০ জানায়, ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে মুন্সীগঞ্জ সদর থানার লঞ্চঘাট এলাকায় অভিযান চালিয়ে এজাহারভুক্ত চার আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তারা হলেন—আলাউদ্দিন (২৬), আপন (৩০), জিহাদ (২০) ও ইমরান (২৬)। তাদের মধ্যে আপন সাভার থানায় দায়ের হওয়া তিনটি মাদক মামলার আসামি।

অন্যদিকে, র‍্যাব-৪ তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সাভারের আমিনবাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চার এজাহারভুক্ত আসামিকে গ্রেপ্তার করে। তারা হলেন—নূর মোহাম্মদ রুদ্র (২৪), মো. রাকিব মিয়া (২৮), ছাব্বির আহমেদ (২৪) ও মো. ওয়াসিম (৪০)।

র‍্যাব জানিয়েছে, গ্রেপ্তারদের সংশ্লিষ্ট থানায় হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে। হত্যাকাণ্ডে জড়িত অন্যদের গ্রেপ্তারেও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক বলেন, এসআই আলতাফ হোসেনকে পুলিশ সদস্য হিসেবে টার্গেট করে হত্যা করা হয়নি। বরং তাৎক্ষণিক একটি বিরোধ থেকেই ঘটনাটি বড় আকার নেয়।

র‍্যাবের ভাষ্য অনুযায়ী, ঘটনার শুরুতে একটি প্রাইভেটকারে থাকা পাঁচ ব্যক্তি গ্যারেজের সামনে অটোরিকশা রাখা নিয়ে গ্যারেজের মালিক আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে বিরোধে জড়ায়। পরে তারা তাকে মারধর করলে আলতাফ হোসেন বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন। এতে হামলাকারীদের সঙ্গে তার বাগ্‌বিতণ্ডা হয় এবং একপর্যায়ে তারা তার ওপরও হামলা চালায়।

র‍্যাব জানায়, হামলাকারীরা পরে এলাকার কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যদের ডেকে নেয়। একপর্যায়ে সেখানে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ জন জড়ো হয়। তারা কারখানার দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকে আলতাফ হোসেনের ওপর হামলা চালায়। তাকে বাঁচাতে এগিয়ে এলে তার ছেলে আরিফুলকেও মারধর করা হয়।

র‍্যাবের দাবি, হামলায় এসএস পাইপ, চাকু, হাতুড়িসহ বিভিন্ন দেশীয় অস্ত্র ব্যবহার করা হয়েছে। আলাউদ্দিন সরাসরি আলতাফ হোসেনের ওপর হামলা করে, জিহাদ চাকু দিয়ে তাকে আঘাত করে এবং আপন এসএস পাইপ দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। ইমরানও হামলায় অংশ নেয় বলে জানিয়েছে র‍্যাব।

র‍্যাব-১০-এর অধিনায়ক বলেন, প্রাথমিক তদন্তে ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত কোনো বিরোধের জেরে ঘটেছে বলে মনে হচ্ছে না। তাৎক্ষণিক একটি বিরোধ থেকেই ঘটনাটি সহিংসতায় রূপ নেয়। এ কারণে ঘটনাটিকে বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখা হচ্ছে।


এমকে/বিএম২৪