২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৬–৯০ শতাংশে নিতে চায় সরকার

প্রকাশিত: ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:৪৪ পিএম
২০৩১ সালের মধ্যে সাক্ষরতার হার ৮৬–৯০ শতাংশে নিতে চায় সরকার

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


২০৩১ সালের মধ্যে দেশে সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস উপলক্ষে সচিবালয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, সাক্ষরতা শুধু পড়া, লেখা ও গণনা করার মৌলিক সক্ষমতা নয়। এর সঙ্গে মানুষের সামগ্রিক উন্নয়ন, পরিবেশের প্রতি দায়িত্বশীলতা এবং টেকসই অর্থনৈতিক সমৃদ্ধি জড়িত। একজন সাক্ষর মানুষ তথ্য পড়া ও লেখার পাশাপাশি তা বিশ্লেষণ করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নিতে পারেন এবং নিজের অধিকার ও দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন হতে পারেন।

তিনি জানান, শ্রমশক্তি জরিপ ২০২৪ অনুযায়ী দেশে ৭ বছর ও তদূর্ধ্ব জনগোষ্ঠীর সাক্ষরতার হার ৭৮ দশমিক ৯৮ শতাংশ। গত কয়েক দশকে এ ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি হলেও এখনও বড় একটি জনগোষ্ঠী কার্যকর সাক্ষরতা ও প্রয়োজনীয় দক্ষতার বাইরে রয়েছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, সংবিধানের ১৭ অনুচ্ছেদে সর্বজনীন, অবৈতনিক ও বাধ্যতামূলক শিক্ষার ব্যবস্থা এবং নিরক্ষরতা দূর করার অঙ্গীকার রয়েছে। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে প্রাথমিক শিক্ষার পাশাপাশি উপানুষ্ঠানিক শিক্ষা, বয়স্ক শিক্ষা, জীবনদক্ষতা ও কর্মমুখী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে শিক্ষা থেকে বঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে উন্নয়নের মূলধারায় আনার কাজ চলছে।

বর্তমানে দেশের ৬৪ জেলার সদর উপজেলায় কার্যকর সাক্ষরতা ও ব্যবহারিক কর্মদক্ষতা প্রশিক্ষণ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। প্রথম ধাপে প্রতি জেলায় ৮০ জন করে মোট ৫ হাজার ১২০ জন ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী ঝরে পড়া কিশোর-কিশোরীকে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রতিটি কোর্সে ৪৬০ ঘণ্টার প্রশিক্ষণের মধ্যে ১০০ ঘণ্টা কার্যকর সাক্ষরতা এবং ৩৬০ ঘণ্টা দক্ষতা প্রশিক্ষণ রয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী জানান, বিশেষ কার্যক্রমে নিবন্ধিত ৪ হাজার ৩১২ জন শিক্ষার্থীর মধ্যে ৪ হাজার ১৯৮ জন সক্ষম হিসেবে উত্তীর্ণ হয়েছেন। তাদের মধ্যে ৩ হাজার ৮৮২ জন বা ৯২ দশমিক ৪৭ শতাংশ কোনো না কোনো ধরনের কর্মসংস্থানের সংযোগ পেয়েছেন।

এসব শিক্ষার্থীর মধ্যে ৬০৩ জন সরাসরি কর্মসংস্থানে যুক্ত হয়েছেন, ৮৭৯ জন শিক্ষানবিশ হিসেবে শোভন কাজে যুক্ত হয়েছেন এবং ১ হাজার ৩০৪ জন উদ্যোক্তা হিসেবে কাজ শুরু করেছেন। আরও ৪৮৯ জন উদ্যোক্তা হওয়ার লক্ষ্যে পরামর্শকের অধীনে শিক্ষানবিশ হিসেবে কাজ করছেন।

ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, দেশের ৬৪ জেলার নির্বাচিত ৬৪টি উপজেলায় ১০ থেকে ১৪ বছর বয়সী ১৯ হাজার ২০০ বিদ্যালয়বহির্ভূত শিশু-কিশোরকে পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত মৌলিক শিক্ষা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে ১৫ থেকে ২৪ বছর বয়সী আরও ১৯ হাজার ২০০ তরুণকে জীবিকায়ন দক্ষতা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়া দক্ষতাভিত্তিক সাক্ষরতা কার্যক্রম আরও ১৬টি জেলায় সম্প্রসারণ করে তিন বছরে ১ লাখ কিশোর-কিশোরীকে এর আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। চলতি অর্থবছরে দ্বিতীয় ধাপে দেশের ৫০টি জেলায় আরও ৪ হাজার কিশোর-কিশোরীকে প্রাক-বৃত্তিমূলক শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ দেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে।

প্রাপ্তবয়স্কদের সাক্ষরতা বাড়াতে ‘প্রত্যেকে একজনকে শেখাবে’ মডেলে একটি কর্মসূচি নেওয়ার উদ্যোগের কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী। পাইলট পর্যায়ে ৪০ জেলার ৪০ উপজেলায় ৩৫ হাজার নিরক্ষর নারী-পুরুষকে প্রায়োগিক সাক্ষরতা দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। পরবর্তী সময়ে ২৫ থেকে ৪৫ বছর বয়সী ৪৫ লাখ নিরক্ষর নারী-পুরুষকে এ কর্মসূচির আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।

ববি হাজ্জাজ বলেন, এসব কর্মসূচি সফলভাবে বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩১ সাল নাগাদ দেশের সাক্ষরতার হার ৮৬ থেকে ৯০ শতাংশে উন্নীত করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

আগামী মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বিশ্বব্যাপী আন্তর্জাতিক সাক্ষরতা দিবস পালিত হবে। এবারের প্রতিপাদ্য—‘মানুষ, পৃথিবী ও সমৃদ্ধির জন্য সাক্ষরতা’।



এমকে/বিএম২৪