প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

প্রকাশিত: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৪:৫৫ পিএম
প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত চট্টগ্রাম: মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন

সংগৃহীত

মোঃ কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি


প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে বরণ করতে চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সুন্দর ও নান্দনিক নগরী হিসেবে সাজিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর সৌন্দর্যবর্ধন, সড়ক উন্নয়ন, ঐতিহাসিক স্থাপনা সংস্কার ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রমে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।


সোমবার (১৯ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নগরীর ঐতিহাসিক জে এম সেন হল প্রাঙ্গণের সৌন্দর্যবর্ধন ও সার্বিক প্রস্তুতি পরিদর্শনকালে মেয়র এসব কথা বলেন।


মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চার দিন আগেও জে এম সেন হলের যে চিত্র ছিল, বর্তমানে তার আমূল পরিবর্তন হয়েছে। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে জায়গাটিকে সুন্দরভাবে সাজানো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী এখানে এলে চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক ঐতিহ্য, সংস্কৃতি ও সৌন্দর্যের প্রতিফলন দেখতে পাবেন।


চট্টগ্রামের ঐতিহাসিক গুরুত্ব তুলে ধরে মেয়র বলেন, ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলনে এ নগরীর গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। যাত্রা মোহন সেনগুপ্ত, যতীন্দ্র মোহন সেনগুপ্ত, সূর্য সেন ও মহিমচন্দ্র দাসসহ দেশের স্বাধীনতা আন্দোলনে অবদান রাখা ব্যক্তিদের স্মৃতি ও ঐতিহাসিক নিদর্শন সংরক্ষণ করা সবার দায়িত্ব।


তিনি বলেন, একসময় এসব ঐতিহাসিক স্থাপনা অযত্ন ও অবহেলায় পড়ে ছিল। সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনের মাধ্যমে সেগুলো নতুনভাবে উপস্থাপনের চেষ্টা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে নতুন প্রজন্ম চট্টগ্রামের গৌরবময় ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে।


জে এম সেন হল প্রাঙ্গণের পরিবর্তন প্রসঙ্গে মেয়র বলেন, এখানকার পরিবেশ, সাজসজ্জা ও সৌন্দর্যবর্ধনে উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কার ও সাজসজ্জার কাজ সম্পন্ন করা হচ্ছে। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর যাত্রাপথে অবৈধ ব্যানার ও ফেস্টুন অপসারণ করা হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোতেও পরিচ্ছন্নতা ও সৌন্দর্যবর্ধনের কার্যক্রম চলছে।


তিনি আরও বলেন, ইতোমধ্যে সাইকেল ট্র্যাক উদ্বোধন করা হয়েছে। বিভিন্ন সড়কের সৌন্দর্যবর্ধনের পাশাপাশি বোট ক্লাব সড়কেও উন্নয়নকাজ করা হয়েছে। নগরীর অধিকাংশ গুরুত্বপূর্ণ সড়কে উন্নয়নকাজ হাতে নেওয়া হয়েছে। বর্ষা মৌসুমের পর কাজ শুরুর যে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছিল, সে অনুযায়ী কার্যক্রম এগিয়ে চলছে।


বিমানবন্দর সড়ক ও ভিআইপি সড়কসহ নগরীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শনের কথা উল্লেখ করে মেয়র বলেন, গত কয়েক মাস ধরে নগরীর বিভিন্ন স্থানে উন্নয়ন ও সৌন্দর্যবর্ধনের কাজ অব্যাহত রয়েছে। চট্টগ্রামে প্রবেশের পর থেকেই প্রধানমন্ত্রী ও আগত অতিথিরা যেন একটি পরিচ্ছন্ন, সুশৃঙ্খল ও সুন্দর নগরীর চিত্র দেখতে পান, সে লক্ষ্যেই কাজ করা হচ্ছে। সামগ্রিকভাবে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে প্রস্তুত।


প্রধানমন্ত্রীর আগমন ঘিরে নগরবাসীর আগ্রহ ও উৎসাহের কথা তুলে ধরে ডা. শাহাদাত হোসেন বলেন, চট্টগ্রামের মানুষ আনন্দ ও উৎসাহের সঙ্গে তাঁর আগমনের অপেক্ষায় রয়েছেন। নগরীর বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বী মা-বোনেরাও প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করতে উচ্ছ্বসিত। সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় প্রধানমন্ত্রীর চট্টগ্রাম সফর সুন্দর, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।


জামালখান এলাকার উন্নয়ন পরিকল্পনা সম্পর্কে মেয়র বলেন, জামালখান চট্টগ্রাম নগরীর অন্যতম সুন্দর ও আকর্ষণীয় এলাকা। নগরবাসী সেখানে অবসর কাটাতে, ঘুরতে এবং বন্ধু-পরিজনের সঙ্গে সময় কাটাতে আসেন। তাই এলাকাটিকে আরও নান্দনিক ও জনবান্ধব করে গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে। একই সঙ্গে এলাকার পরিবেশ, চলাচল ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে, যাতে নগরবাসী স্বাচ্ছন্দ্যে এলাকাটি ব্যবহার করতে পারেন।


মেয়র আরও বলেন, চট্টগ্রামকে পরিচ্ছন্ন, সবুজ, নান্দনিক ও আধুনিক নগরীতে রূপান্তর করা সিটি করপোরেশনের অন্যতম লক্ষ্য। এ লক্ষ্য বাস্তবায়নে সৌন্দর্যবর্ধন, সড়ক উন্নয়ন, পরিচ্ছন্নতা ও জনবান্ধব অবকাঠামো গড়ে তোলার কার্যক্রম ধারাবাহিকভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নেওয়া প্রস্তুতির পাশাপাশি নগরীর সামগ্রিক উন্নয়ন কার্যক্রমও অব্যাহত থাকবে।


এ সময় উপস্থিত ছিলেন চসিকের ভারপ্রাপ্ত প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা ও সচিব মো. আশরাফুল আমিন, প্রধান পরিচ্ছন্ন কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন শামীম মোহাম্মদ খান, প্রধান প্রকৌশলী আনিসুর রহমান, তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী জসিম উদ্দিন, নির্বাহী প্রকৌশলী আশিকুল ইসলাম, ম্যালেরিয়া ও মশক নিয়ন্ত্রণ কর্মকর্তা ইমরান হোছাইন খোকা, কর্মকর্তা মো. সরফুল ইসলাম মাহি, প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


এমকে/বিএম২৪