চট্টগ্রামে পৃথক অভিযানে ১৪টি চোরাই মোটরসাইকেল ও ১১ লাখ টাকার স্বর্ণালংকার উদ্ধার
সংগৃহীত
মোঃ কামাল উদ্দিন, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) দক্ষিণ বিভাগের চকবাজার ও কোতোয়ালি থানার পৃথক অভিযানে চোরাই ১৪টি মোটরসাইকেল এবং আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। এসব অভিযানে মোটরসাইকেল চোর চক্রের এক সদস্য ও স্বর্ণালংকার আত্মসাতের মামলার এক আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনারের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এসব অভিযান পরিচালনা করা হয়।
কোতোয়ালি থানার অভিযান
পুলিশ জানায়, মোটরসাইকেল চোর চক্রের বিরুদ্ধে ধারাবাহিক অভিযানের অংশ হিসেবে গত ১২ অক্টোবর গোপন সংবাদের ভিত্তিতে কোতোয়ালি থানার একটি দল কাঠের বাংলো এলাকায় অভিযান চালিয়ে চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. সুমনকে গ্রেপ্তার করে। পরে তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালী জেলার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে চারজন আসামিসহ ছয়টি চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়।
এ ঘটনায় কোতোয়ালি থানায় ১৪ অক্টোবর মামলা নম্বর ৪২, দণ্ডবিধির ৪১১ ধারায় মামলা করা হয়। পরবর্তী সময়ে গ্রেপ্তার আসামিদের রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হলে তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ১৭ অক্টোবর আরও দুটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। এ সময় চোর চক্রের সক্রিয় সদস্য মো. ইমরান হোসেনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
ইমরান হোসেন চট্টগ্রামের জোরারগঞ্জ এলাকার বাসিন্দা। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জোরারগঞ্জ থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে আরও চারটি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। উদ্ধার করা মোটরসাইকেলগুলোর মধ্যে রয়েছে অ্যাপাচি আরটিআর ১৫০ সিসি, হিরো হোন্ডা হর্নেট ১৫০ সিসি, হিরো হোন্ডা হাঙ্ক ১৫০ সিসি ও জিক্সার মনোটন ১৫০ সিসি।
এ ছাড়া নোয়াখালীর চরজব্বর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে কোতোয়ালি থানার একটি মামলায় চুরি হওয়া একটি গ্ল্যামার ১১৫ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করা হয়। অন্যদিকে, চট্টগ্রামের মীরসরাই থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে একটি বাজাজ পালসার ১৫০ সিসি মোটরসাইকেল উদ্ধার করে পুলিশ।
সব মিলিয়ে কোতোয়ালি থানা পুলিশের অভিযানে মোট ১৪টি মোটরসাইকেল উদ্ধারের তথ্য জানানো হয়েছে। পুলিশ আরও জানায়, গ্রেপ্তার ইমরান হোসেনের বিরুদ্ধে জোরারগঞ্জ থানায় দায়ের করা ২০২৫ সালের ৩০ আগস্টের একটি চুরি মামলাও আদালতে বিচারাধীন রয়েছে।
চকবাজার থানার অভিযান
অন্যদিকে, চকবাজার থানায় দায়ের করা স্বর্ণালংকার আত্মসাতের মামলায় লাইলাতুল নুসরাত নিপা নামে এক নারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গত ১৮ অক্টোবর দুপুর সাড়ে ১টার দিকে নগরীর খুলশী থানার বাগঘোনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত ৭ অক্টোবর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বাদীর বোন লাইলাতুল নুসরাত নিপা তাঁর জায়ের মেয়ের শ্বশুরবাড়িতে দাওয়াত খেতে যাওয়ার কথা বলে বাদীর স্ত্রী সাবরিনা আক্তার ও তাঁর মায়ের কাছ থেকে মোট ৮ ভরি ৮ আনা ওজনের বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার নিয়ে যান। পরে সেসব অলংকার বিক্রি করে টাকা আত্মসাৎ করে আত্মগোপনে চলে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় বাদীর অভিযোগের ভিত্তিতে ১৮ অক্টোবর চকবাজার থানায় এফআইআর নম্বর ১৪, দণ্ডবিধির ৪২০ ও ৪০৬ ধারায় মামলা করা হয়।
পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে নিপা আত্মসাৎ করা স্বর্ণালংকারগুলো কোতোয়ালি থানার দিদার মার্কেটের নিচতলায় অবস্থিত নোভা জুয়েলার্সের ম্যানেজার শুভ মজুমদারের কাছে বিক্রি করেছেন বলে জানান। পরে তাঁকে সঙ্গে নিয়ে সংশ্লিষ্ট দোকানে অভিযান চালায় পুলিশ।
দোকানের ম্যানেজার পুলিশকে জানান, দীর্ঘদিনের পরিচয়ের সূত্রে নিপা ও তাঁর পরিবারের কাছ থেকে আগে স্বর্ণালংকার কেনাবেচা করেছেন তিনি। সেই পরিচয়ের ভিত্তিতে বিক্রেতার পরিচয়সংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষণ করে অলংকারগুলো কিনেছিলেন। পরে ব্যবসায়িক প্রয়োজনে কেনা স্বর্ণ গলিয়ে বিভিন্ন ধরনের অলংকার তৈরি করা হয়।
পুলিশ জানায়, দোকানের ম্যানেজারের দেওয়া তথ্য ও গ্রেপ্তার নারীর শনাক্তকরণের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে বিভিন্ন ধরনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার করা অলংকারের মধ্যে রয়েছে স্বর্ণের আংটি, কানের দুল, হাতের বালা ও গলার চেইন। সব মিলিয়ে ৫ ভরি ১ রতি ১ পয়েন্ট ওজনের স্বর্ণালংকার উদ্ধার করা হয়েছে, যার আনুমানিক বাজারমূল্য ১১ লাখ টাকার বেশি।
পুলিশ আরও জানায়, আত্মসাৎ করা বাকি স্বর্ণালংকার উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
এমকে/বিএম২৪








