পুলিশি হয়রানিতে সংকটে যশোরের ট্রাক্টর মালিক-ব্যবসায়ীরা
সূত্রঃ সংগৃহীত
মালিকুজ্জামান কাকা;যশোর প্রতিনিধি
কৃষিকাজে ব্যবহৃত ট্রাক্টর চলাচলে পুলিশি বাধা ও আটকের অভিযোগে চরম সংকটে পড়েছেন যশোরের হাজারো ট্রাক্টর মালিক। একই সঙ্গে ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসা, ওয়ার্কশপ ও লেদ কারখানাগুলোতেও দেখা দিয়েছে মন্দা। কিস্তির চাপ, বাড়তি মেরামত খরচ ও আয় কমে যাওয়ায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
যশোরের চাঁচড়া ও পুলেরহাট এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ট্রাক্টর পার্টসের বড় বাজার গড়ে উঠেছে। এসব এলাকায় শতাধিক ওয়ার্কশপ ও যন্ত্রাংশের দোকান রয়েছে। স্থানীয় ব্যবসায়ীদের দাবি, দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা থেকে ট্রাক্টর মেরামত ও যন্ত্রাংশ কেনার জন্য মালিকরা যশোরে আসেন। কিন্তু সড়কে ট্রাক্টর চলাচলে বাধার কারণে এখন ব্যবসা প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে।
ট্রাক্টর মালিকদের অভিযোগ, সড়কে ট্রাক্টর দেখলেই পুলিশ আটক করে নিয়ে যাচ্ছে। কৃষিকাজে ব্যবহৃত হলেও অনেক ক্ষেত্রে ছাড় পাওয়া যাচ্ছে না। মুড়লি মোড়, খাজুরা বাসস্ট্যান্ড, পালবাড়ি ও চাঁচড়া চেকপোস্ট এলাকায় ব্যারিকেড দিয়ে ট্রাক্টর আটকের অভিযোগও করেছেন তারা।
তাদের দাবি, কোনো কোনো ট্রাক্টর ছাড়ানো গেলেও এজন্য বাড়তি অর্থ ব্যয় করতে হচ্ছে। ফলে লোকসান আরও বাড়ছে। অনেক মালিক বাধ্য হয়ে ট্রাক্টর বাড়িতে ফেলে রাখছেন।
ট্রাক্টর মালিকরা আরও জানান, বাড়িতে মেরামতের জন্য মিস্ত্রি আনতে হলে স্বাভাবিকের চেয়ে কয়েক গুণ বেশি পারিশ্রমিক দিতে হচ্ছে। ৫০০ টাকার কাজের জন্যও ৫ থেকে ৬ হাজার টাকা পর্যন্ত খরচ হচ্ছে বলে অভিযোগ তাদের। এতে একদিকে ট্রাক্টর চালাতে না পারা, অন্যদিকে মেরামতের অতিরিক্ত ব্যয়—দুই দিক থেকেই ক্ষতির মুখে পড়েছেন তারা।
সংশ্লিষ্টদের দাবি, শুধু যশোর জেলাতেই প্রায় ২০ থেকে ২২ হাজার ট্রাক্টর রয়েছে। এসব ট্রাক্টরের সঙ্গে হাজার হাজার মালিক, চালক, হেলপার, মিস্ত্রি ও পার্টস ব্যবসায়ীর জীবিকা জড়িত। অধিকাংশ মালিক ঋণ বা কিস্তিতে ট্রাক্টর কিনেছেন। আয় বন্ধ থাকায় কিস্তি পরিশোধ করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসায়ী সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক বাদল শেখ বলেন, “ট্রাক্টর কৃষিকাজের যন্ত্র। কৃষির বৃহত্তর স্বার্থে এগুলোর চলাচল স্বাভাবিক রাখা প্রয়োজন। একটি ট্রাক্টর আটক হলে শুধু মালিকই ক্ষতিগ্রস্ত হন না, এর সঙ্গে জড়িত একটি পরিবারের আয়-রোজগারও বন্ধ হয়ে যায়।”
তিনি দ্রুত বিষয়টি সমাধানে জেলা প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
পার্টস ব্যবসায়ী আব্দুর রহমান ভুট্ট, নাসির খসরু শাহীন, সফিয়ার রহমান, ফরিদ শেখ, সাইফুল মোড়ল ও আরিফুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্টরা জানান, ট্রাক্টর চলাচল স্বাভাবিক না হলে ব্যবসা টিকিয়ে রাখা কঠিন হয়ে পড়বে। তারা বিষয়টি যশোর-৩ আসনের সংসদ সদস্য ও বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে দ্রুত সমাধানের দাবি জানান।
ট্রাক্টর পার্টস ব্যবসায়ী আমিনুর রহমান বলেন, বিষয়টি সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্য ও প্রতিমন্ত্রীকে জানানো হয়েছে। তবে এখনো কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
গত ২৮ জুলাই চাঁচড়ায় ট্রাক্টর মালিক ও পার্টস ব্যবসায়ীদের নিয়ে একটি সভাও অনুষ্ঠিত হয়। সভায় মালিক, ব্যবসায়ী, চালক, হেলপার ও মিস্ত্রিসহ সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সেখানে ট্রাক্টর চলাচলে পুলিশি বাধা বন্ধ এবং কৃষিকাজে ব্যবহৃত এসব যানবাহনের চলাচল স্বাভাবিক করার দাবি জানানো হয়।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, ট্রাক্টর শুধু একটি যান নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বহু মানুষের জীবিকা। তাই কৃষি মৌসুমে ট্রাক্টর চলাচল স্বাভাবিক রাখতে পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ চান তারা।
এমকে/বিএম২৪









