প্রকৃতির রোষ নাকি কেয়ামতের আলামত? নেপালের প্রলয়ঙ্করি বন্যা ও কোয়ান্টাম সংকেত
সূত্রঃ ছবি: সংগ্রহীত
নেপাল ও চীন সীমান্তে সাম্প্রতিক ঘটে যাওয়া নজিরবিহীন আকস্মিক বন্যা ও বিশাল ভূমিধসে স্তব্ধ পুরো বিশ্ব। হিমবাহ ধসে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি বাঁধ হঠাৎ ফেটে গিয়ে মুহূর্তে ভাসিয়ে নিয়ে গেছে শত শত প্রাণ, গুঁড়িয়ে দিয়েছে একের পর এক জনপদ। বিজ্ঞান যখন একে জলবায়ু পরিবর্তনের মারাত্মক প্রভাব হিসেবে ব্যাখ্যা করছে, তখন সাধারণ ধর্মপ্রাণ মানুষের মনে ভেসে উঠছে এক গভীর চিন্তার রেখা। এ কি শুধুই এক প্রাকৃতিক দুর্যোগ, নাকি বিশ্বনবী (সা.)-এর বর্ণিত কেয়ামতের কোনো সতর্কবার্তা?
ইসলামী আকীদাহ ও পবিত্র কুরআনের আলোকেও শেষ জামানা বা কেয়ামতের পূর্বে পৃথিবীতে প্রাকৃতিক বিপর্যয় ও ভূমিধসের হার অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধির স্পষ্ট ইঙ্গিত রয়েছে।
কুরআন ও হাদিসের আলোকে এই ঘটনার সাথে সম্পর্কিত কিছু মূল বিষয়:
পৃথিবীর বুক ফুঁড়ে বিপর্যয় ও ভূমিধস: সুরা আল-ইনশিকাক-এ আল্লাহ তাআলা এরশাদ করেছেন, “এবং যখন পৃথিবী প্রসারিত হবে এবং তার ভেতরের সবকিছু বের করে দিয়ে শূন্য হয়ে যাবে।” (সুরা ইনশিকাক: ৩-৪)। হাদিস শরিফেও শেষ জামানার অন্যতম প্রধান আলামত হিসেবে তিনটি বড় ভূমিধসের কথা উল্লেখ করা হয়েছে—যার একটি পূর্বাঞ্চলে, একটি পশ্চিমাঞ্চলে এবং একটি আরব উপদ্বীপে ঘটবে।
জলাশয় ও পানির তাণ্ডব: সুরা ইনফিতার-এ বলা হয়েছে, “যখন সাগরগুলোকে উত্তাল ও প্রবাহিত করে দেওয়া হবে।” নেপালের পাহাড় ধসে পানি আটকে হঠাৎ ফেটে যে নদীর প্রবল তোড় সৃষ্টি হয়েছে, তা যেন আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় মহা প্রলয়ের সেই ধ্বংসলীলার ক্ষুদ্র এক ঝলক।
মানুষের নিজস্ব কৃতকর্মের ফসল: সুরা আর-রুমে আল্লাহ বলেন, “মানুষের কৃতকর্মের দরুন স্থলে ও জলে বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়ে, যাতে তিনি তাদেরকে তাদের কোনো কোনো কাজের শাস্তি আস্বাদন করান, যাতে তারা ফিরে আসে।” (সুরা রুম: ৪১)। পরিবেশের ভারসাম্য বিনষ্ট করা ও সীমালঙ্ঘন কীভাবে ধ্বংস ডেকে আনে, এই দুর্যোগ তার বাস্তব উদাহরণ।
বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ভূকম্পন, হঠাৎ প্লাবন ও ভূমিধসের এই ঘনঘটা বিশ্বাসীদের জন্য নিছক কোনো সংবাদ নয়; বরং এটি সজাগ হওয়ার এবং নিজেদের সংশোধন করার এক আত্মিক আহ্বান। প্রাকৃতিক এসব বিপর্যয় আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় এই পৃথিবীর ক্ষণস্থায়িত্বের কথা।
লেখক:
মোঃ জাহেরুল ইসলাম
শিক্ষার্থী, ঢাকা কলেজ









