হট্টগোল ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত সংসদ

প্রকাশিত: ২৭ আগস্ট ২০২৬, ০৬:১৬ পিএম
হট্টগোল ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত সংসদ

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


কার্যপ্রণালী বিধি লঙ্ঘন, হট্টগোল ও পাল্টাপাল্টি অভিযোগে উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশন। সংসদ সদস্যদের অসহিষ্ণুতা ও একে অপরকে বক্তব্য দিতে বাধা দেওয়ার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।


বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) স্পিকারের সভাপতিত্বে অধিবেশন চলাকালে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও বিরোধীদলীয় নেতার বক্তব্যকে কেন্দ্র করে সংসদে উত্তেজনা তৈরি হয়। বিরোধী দলের সদস্যদের হট্টগোল ও বাকবিতণ্ডায় একপর্যায়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে স্পিকারকে কঠোর অবস্থান নিতে হয়।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যের সমালোচনা করে বিরোধীদলীয় নেতা শফিকুর রহমান অভিযোগ করেন, মন্ত্রী শুরু থেকেই বিরোধীদের তুচ্ছতাচ্ছিল্য করে অসংসদীয় আচরণ করছেন। তার বক্তব্য কার্যপ্রণালী থেকে বাদ দেওয়া এবং স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দুঃখ প্রকাশের দাবিও জানান তিনি। দাবি পূরণ না হলে বিরোধী দলের সদস্যরা সংসদে অবস্থান করবেন না বলেও হুঁশিয়ারি দেন।


জবাবে স্পিকার বলেন, সরকারের ত্রুটি-বিচ্যুতি তুলে ধরার পূর্ণ অধিকার বিরোধী দলের রয়েছে। তবে কোনো মন্ত্রীকে বক্তব্য শেষ করতে না দিয়ে সমস্বরে চেঁচামেচি করা সুস্থ সংসদীয় রীতি নয়।


তিনি বলেন, গণতন্ত্র ও সংসদের কার্যক্রম সচল রাখতে সবাইকে কার্যপ্রণালী বিধি কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে। পরমতসহিষ্ণুতা না থাকলে গণতন্ত্র ব্যর্থ হবে বলেও সতর্ক করেন তিনি।


স্পিকার আরও জানান, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর বক্তব্যে কোনো অসংসদীয় শব্দ থাকলে তা পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় অংশ কার্যপ্রণালী থেকে বাদ দেওয়া হবে। তবে সংখ্যাগরিষ্ঠতার ভিত্তিতে কোনো পক্ষকে চাপ দেওয়ার উদ্দেশ্য তার নেই।


এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা সংসদ পরিচালনায় নিরপেক্ষতা বজায় রাখার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ভালো কাজে বিরোধী দল সরকারের সঙ্গে থাকবে এবং অন্যায়ের প্রতিবাদ করবে। সংসদ সদস্যদের সংখ্যার ভিত্তিতে বিভক্ত না করে সমান মর্যাদায় সংসদ পরিচালনার প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।


অধিবেশনে পয়েন্ট অব অর্ডারে বক্তব্য দিতে গিয়ে প্রবীণ সংসদ সদস্য মনিরুল হক চৌধুরীও ক্ষোভ প্রকাশ করেন। বাজেট বক্তৃতায় একটি রূপক গল্প বলার অংশ কার্যপ্রণালী থেকে বাদ দেওয়ায় তিনি প্রশ্ন তোলেন, কোন শব্দটি অসংসদীয় ছিল। নিজের দাড়ি ও ধর্মীয় বিশ্বাস নিয়ে কটাক্ষের অভিযোগ তুলে তিনি ব্যক্তিগত সম্মান ও সংসদের মর্যাদা রক্ষার দাবি জানান।


পরে স্পিকার বলেন, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত না থাকায় কার্যপ্রণালী পরীক্ষা করে বিষয়টি দেখা হবে। অসংসদীয় কিছু পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


সবশেষে সংসদ সদস্যদের উদ্দেশে সতর্কবার্তা দিয়ে স্পিকার বলেন, একে অপরের বক্তব্যে বাধা দেওয়ার প্রবণতা অত্যন্ত দুঃখজনক। স্পিকারের নির্দেশনা না মানলে সংসদ দীর্ঘদিন সচল রাখা সম্ভব নয়।


পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে আসরের নামাজের জন্য অধিবেশন মুলতবি ঘোষণা করেন স্পিকার।



এমকে/বিএম২৪