পায়রা নদীতে নিখোঁজের ৩৪ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

প্রকাশিত: ১৭ আগস্ট ২০২৬, ১১:৫৯ পিএম
পায়রা নদীতে নিখোঁজের ৩৪ ঘণ্টা পর স্কুলছাত্রীর মরদেহ উদ্ধার

সূত্রঃ সংগৃহীত

বরগুনা প্রতিনিধি:


বরগুনার পায়রা নদীতে নিখোঁজের প্রায় ৩৪ ঘণ্টা পর রাবেয়া আক্তার জুঁই (১৫) নামে দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।


সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকেল পৌনে ৬টার দিকে তালতলী উপজেলার সাগর মোহনা তেতুলবাড়িয়ার চর থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বরগুনা সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শাহ্ আজিজ।


এর আগে রোববার (১৬ আগস্ট) সকাল ৯টার দিকে বরগুনা সদর উপজেলার ৯ নম্বর এম বালিয়াতলী ইউনিয়নের লতাকাটা খেয়াঘাট এলাকায় পায়রা নদীর পাড়ে গিয়ে নিখোঁজ হয় জুঁই।


স্থানীয় ও পারিবারিক সূত্র জানায়, জুঁই তার মা তাসলিমা বেগম ও বান্ধবী মরিয়াম ইসলাম রিয়ার সঙ্গে ঢাকার মিরপুর থেকে বরগুনায় বেড়াতে এসেছিল। বরগুনায় পৌঁছে তারা পায়রা নদীর পাড়ে যায়। একপর্যায়ে জুঁই ও রিয়া পানিতে পড়ে যায়। রিয়া সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও সাঁতার না জানায় স্রোতের টানে গভীর পানিতে তলিয়ে যায় জুঁই।


খবর পেয়ে রোববার থেকেই ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশ নদীতে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। দীর্ঘ সময় তল্লাশির পর সোমবার বিকেলে তেতুলবাড়িয়ার চরে জুঁইয়ের মরদেহ ভেসে ওঠে। পরে উদ্ধারকারী দল মরদেহটি উদ্ধার করে।


নিহত জুঁই রাজধানীর মিরপুরের বাসিন্দা জনি চৌধুরীর মেয়ে। তাদের গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার নরহা গ্রামে।


জুঁইয়ের মা তাসলিমা বেগম জানান, ঢাকার মিরপুরে তাদের বাসায় দীর্ঘদিন ধরে জীবন মাহমুদ মাহফুজ ভাড়া থাকেন। তাঁর গ্রামের বাড়ি বরগুনায় হওয়ায় তাঁর মাধ্যমেই মেয়েকে ও মেয়ের বান্ধবীকে নিয়ে তারা বরগুনায় বেড়াতে এসেছিলেন।


জীবন মাহমুদ মাহফুজ বলেন, নদীর পাড়ে যাওয়ার আগে জুঁই ও তার বান্ধবীকে সেখানে যেতে নিষেধ করা হয়েছিল। তারা দুজনই সাঁতার জানত না। এরপরও নদীর পাড়ে যাওয়ার পর এই দুর্ঘটনা ঘটে।


জুঁইয়ের মৃত্যুতে এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যদের আহাজারিতে ভারী হয়ে উঠেছে পরিবেশ।



এমকে/বিএম২৪