দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

প্রকাশিত: ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০২:৩৭ এএম
দুদকের নতুন চেয়ারম্যান বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান

সূত্রঃ সংগৃহীত

বিশেষ প্রতিনিধি


দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামানকে নিয়োগ দিয়েছে সরকার। একই সঙ্গে কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন অবসরপ্রাপ্ত সচিব ড. জাহাঙ্গীর আলম খান এবং জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সাবেক কর কমিশনার ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া।


সোমবার (১৭ আগস্ট) মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনির সই করা প্রজ্ঞাপনে এ নিয়োগের কথা জানানো হয়।


প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ধারা ৭-এর উপধারা (১) অনুযায়ী বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান, ড. জাহাঙ্গীর আলম খান ও ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়াকে দুদকের কমিশনার হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। একই ধারার বিধান অনুযায়ী বিচারপতি আসাদুজ্জামানকে কমিশনের চেয়ারম্যান করা হয়েছে।


দুদক আইন, ২০০৪-এর ধারা ১৩ অনুযায়ী চেয়ারম্যানের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের বিচারকের সমান নির্ধারণ করা হয়েছে। আর দুই কমিশনারের বেতন, ভাতা, অন্যান্য সুবিধা ও পদমর্যাদা নির্ধারণ করা হয়েছে হাইকোর্ট বিভাগের বিচারকের সমরূপ।


এর আগে সোমবার বিকেলে সার্চ কমিটি তিনজনের নাম চূড়ান্ত করে সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। ছয় দফা বৈঠকে সম্ভাব্য প্রার্থীদের জীবনবৃত্তান্ত যাচাই-বাছাই ও যোগ্যতা পর্যালোচনার পর তাদের নাম চূড়ান্ত করা হয়।


বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি। গত ২৬ ফেব্রুয়ারি তিনি আপিল বিভাগ থেকে অবসর নেন। এর আগে ২০২৫ সালের ২৫ মার্চ সংবিধানের ৯৫(১) অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে হাইকোর্ট বিভাগ থেকে আপিল বিভাগের বিচারপতি হিসেবে শপথ নেন।


১৯৫৯ সালের ১ মার্চ জন্মগ্রহণ করেন বিচারপতি আসাদুজ্জামান। রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আইনে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের পর ১৯৮৩ সালে জেলা আদালতের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন। ১৯৮৫ সালে হাইকোর্ট বিভাগ এবং ২০০১ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন তিনি।


২০০৩ সালের ২৭ আগস্ট হাইকোর্ট বিভাগের অতিরিক্ত বিচারক হিসেবে নিয়োগ পান এ কে এম আসাদুজ্জামান। ২০০৫ সালের ২৭ আগস্ট তিনি হাইকোর্ট বিভাগের স্থায়ী বিচারপতি হন।


দুদকের নতুন কমিশনার ড. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া এনবিআরের সাবেক কর কমিশনার। অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে তিনি অর্থ মন্ত্রণালয়ের অধিভুক্ত ফিন্যান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের (এফআরসি) চেয়ারম্যানের দায়িত্বও পালন করেন। অপর কমিশনার ড. জাহাঙ্গীর আলম খান অবসরপ্রাপ্ত সচিব এবং ১৯৮৫ ব্যাচের কর্মকর্তা।


গত ৩ মার্চ দুদকের চেয়ারম্যানসহ তিন কমিশনার পদত্যাগ করার পর নতুন কমিশন গঠনের উদ্যোগ নেয় সরকার। এরপর নতুন চেয়ারম্যান ও কমিশনার নিয়োগের জন্য মন্ত্রিপরিষদ সচিবকে সদস্যসচিব করে সার্চ কমিটি গঠন করা হয়।


চেয়ারম্যান ও দুই কমিশনারের পদ শূন্য থাকায় দীর্ঘদিন ধরে দুদকের নীতিনির্ধারণী কার্যক্রমে স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। কমিশনের অনুমোদন প্রয়োজন এমন অনুসন্ধান, তদন্ত, মামলা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তও আটকে ছিল। নতুন কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর এসব কার্যক্রমে গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।


২০০৪ সালের ২১ নভেম্বর প্রতিষ্ঠার পর দুদকে এ পর্যন্ত সাতটি কমিশন দায়িত্ব পালন করেছে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনসহ নানা কারণে এর মধ্যে তিনটি কমিশন পূর্ণ মেয়াদ শেষ করতে পেরেছে। সর্বশেষ মোহাম্মদ আবদুল মোমেনের নেতৃত্বাধীন কমিশনও মেয়াদ পূর্ণ করার আগেই বিদায় নেয়।