পরিচয় থেকে নৃশংসতা: পঞ্চগড়ে তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যায় যুবকের ফাঁসি

প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৩১ পিএম
পরিচয় থেকে নৃশংসতা: পঞ্চগড়ে তরুণীকে ধর্ষণ ও হত্যায় যুবকের ফাঁসি

সংগৃহীত

সাইয়্যেদ মুহাম্মদ শান্ত, পঞ্চগড় প্রতিনিধি


পঞ্চগড়ের আটোয়ারী উপজেলায় এক তরুণীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে রিফাত বিন সাজ্জাদ (২৪) নামে এক যুবককে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ডও করা হয়েছে।


সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে পঞ্চগড় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক হুসেইন মোহাম্মদ ফজলুল বারী ১৯ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং অপরাধের নৃশংসতা বিবেচনায় এ রায় ঘোষণা করেন। মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত রিফাত বিন সাজ্জাদ পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার মাঝগ্রামের বাসিন্দা।


মামলার বিবরণ ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ২০২৫ সালের ১৩ জানুয়ারি ট্রেনযোগে পঞ্চগড়ে যাওয়ার পথে দিনাজপুর রেলস্টেশনে ওই তরুণীর সঙ্গে পরিচয় হয় রিফাতের। পরে বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাকে আটোয়ারীর কিসমত রেলগেট এলাকায় নিয়ে যান তিনি। সেখানে একটি সুপারি বাগানে তরুণীকে জোরপূর্বক ধর্ষণ করেন রিফাত। বিষয়টি প্রকাশ পাওয়ার আশঙ্কায় ইট ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে তার মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে উপর্যুপরি আঘাত করে হত্যা করেন।


হত্যাকাণ্ডের ঘটনা আড়াল করতে পরে তরুণীর মরদেহ টেনেহিঁচড়ে রেললাইনের ওপর রেখে পালিয়ে যান রিফাত। একপর্যায়ে ট্রেনে কাটা পড়ে মরদেহটি ছিন্নভিন্ন হয়ে যায়। পরদিন ১৪ জানুয়ারি সকালে আটোয়ারীর কিসমত রেলগেট এলাকার একটি স্কুলের পেছনের রেললাইন থেকে অজ্ঞাতপরিচয় ওই তরুণীর ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।


পরে একই বছরের ৮ মার্চ সকালে আটোয়ারী উপজেলার পল্লীবিদ্যুৎ মোড় এলাকায় ইজিবাইক চুরির অভিযোগে স্থানীয়দের সহায়তায় রিফাতকে আটক করে পুলিশ। তার মোবাইল ফোন তল্লাশি করে কিছু অসামাজিক ভিডিও ও ছবি পায় পুলিশ। এরপর জিজ্ঞাসাবাদে রেললাইনে উদ্ধার হওয়া তরুণীর হত্যাকাণ্ডে রিফাতের সম্পৃক্ততার তথ্য বেরিয়ে আসে।


এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ৮ মার্চ আটোয়ারী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আরশাদুল হক বাদী হয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা করেন।


রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট খলিলুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গ্রেপ্তারের পর রিফাত পুলিশের কাছে হত্যাকাণ্ডের কথা স্বীকার করেছিলেন। মামলার বিচার চলাকালে আসামির পক্ষে কোনো আইনজীবী না থাকায় রাষ্ট্রপক্ষ থেকে তার আইনি সহায়তার জন্য আইনজীবী নিয়োগ করা হয়। আসামিপক্ষ তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও আদালত তথ্য-প্রমাণ ও সাক্ষ্য পর্যালোচনা করে এ রায় দিয়েছেন বলে জানান তিনি।


এমকে/বিএম২৪