১০ বছর আগে আম্বানির অর্ধেক সম্পদ, এখন ১১ গুণ এগিয়ে ইলন মাস্ক!

প্রকাশিত: ০২ নভেম্বর ২০২৬, ১১:৫১ পিএম
১০ বছর আগে আম্বানির অর্ধেক সম্পদ, এখন ১১ গুণ এগিয়ে ইলন মাস্ক!

সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


মাত্র এক দশকের ব্যবধানে বিশ্বের দুই শীর্ষ ধনকুবের ইলন মাস্ক ও মুকেশ আম্বানির সম্পদের চিত্রে এসেছে বড় ধরনের পরিবর্তন। ২০১৬ সালে ভারতের শীর্ষ ধনী ব্যবসায়ী মুকেশ আম্বানির সম্পদের প্রায় অর্ধেক ছিল প্রযুক্তি উদ্যোক্তা ইলন মাস্কের। অথচ ২০২৬ সালে এসে সম্পদের হিসাবে আম্বানির চেয়ে প্রায় ১১ গুণ এগিয়ে রয়েছেন মাস্ক।


ফোর্বসের ১ নভেম্বর ২০২৬ সালের রিয়েল-টাইম বিলিয়নিয়ার তালিকা অনুযায়ী, ইলন মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ ৮৬৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলার। একই দিনের হিসাবে মুকেশ আম্বানির সম্পদ প্রায় ৮০ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার। দুই ব্যবসায়ীর সম্পদের ব্যবধান দাঁড়িয়েছে প্রায় ৭৮৮ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার।


এক দশক আগের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০১৬ সালের ২২ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ফোর্বসের ভারতের শীর্ষ ধনীদের তালিকায় মুকেশ আম্বানির সম্পদ দেখানো হয়েছিল ২২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার। অন্যদিকে, একই বছরের ফোর্বস ৪০০ তালিকায় ইলন মাস্কের সম্পদ ছিল ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার। অর্থাৎ, তখন আম্বানির সম্পদ ছিল মাস্কের প্রায় দ্বিগুণ।


তবে পরবর্তী ১০ বছরে সম্পদের হিসাব পুরোপুরি পাল্টে গেছে। ২০১৬ সালের ১১ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলার থেকে মাস্কের সম্পদ বেড়ে ৮৬৮ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, এক দশকে তাঁর সম্পদ বেড়েছে প্রায় ৭৫ গুণ। অন্যদিকে, আম্বানির সম্পদও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। তবে মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির গতি ছিল অনেক বেশি।


মাস্কের সম্পদ বৃদ্ধির পেছনে বড় ভূমিকা রেখেছে প্রযুক্তি ও ভবিষ্যৎনির্ভর ব্যবসায় তাঁর বিনিয়োগ। বৈদ্যুতিক গাড়ি নির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলা, মহাকাশ প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক ব্যবসায় তাঁর মালিকানার অংশীদারত্ব সম্পদের প্রধান উৎস। বিশেষ করে মহাকাশ গবেষণা, রকেট প্রযুক্তি, বৈদ্যুতিক গাড়ি ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বাজারে এসব প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়ন বাড়ার সঙ্গে তাঁর ব্যক্তিগত সম্পদও বেড়েছে।


অন্যদিকে, মুকেশ আম্বানির সম্পদের মূল ভিত্তি ভারতের রিলায়েন্স ইন্ডাস্ট্রিজ। জ্বালানি, পেট্রোকেমিক্যাল, টেলিযোগাযোগ, খুচরা ব্যবসা ও ডিজিটাল সেবাসহ বিভিন্ন খাতে বিস্তৃত তাঁর ব্যবসায়িক সাম্রাজ্য। বিশেষ করে রিলায়েন্স জিওর মাধ্যমে ভারতের টেলিযোগাযোগ বাজারে শক্ত অবস্থান তৈরি করেছেন তিনি। ব্যবসার পরিধি ও প্রভাবের দিক থেকে আম্বানি এখনো বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ শিল্পপতি।


দুই ব্যবসায়ীর সম্পদের এই তুলনা বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রযুক্তিনির্ভর শিল্পের ক্রমবর্ধমান প্রভাবও তুলে ধরছে। একসময় যার সম্পদ ছিল আম্বানির প্রায় অর্ধেক, এক দশক পর তিনিই সম্পদের হিসাবে আম্বানির চেয়ে প্রায় ১১ গুণ এগিয়ে।


তবে বিলিয়নিয়ারদের সম্পদের হিসাব মূলত তাঁদের ব্যবসায়িক মালিকানা, শেয়ারের বাজারমূল্য ও প্রতিষ্ঠানের মূল্যায়নের ওপর নির্ভর করে। এটি তাঁদের হাতে থাকা নগদ অর্থের পরিমাণ নয়। শেয়ারবাজারের ওঠানামার কারণে এই সম্পদের হিসাব প্রতিদিন পরিবর্তিত হতে পারে।


এমকে/বিএম২৪