ডামুড্যায় ফসলি জমি থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

প্রকাশিত: ০৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯ পিএম
ডামুড্যায় ফসলি জমি থেকে কৃষকের মরদেহ উদ্ধার, পরিবারের দাবি হত্যা

সংগৃহীত

রবিউল মোল্লা, শরীয়তপুর জেলা প্রতিনিধি


শরীয়তপুরের ডামুড্যায় ফসলি জমি থেকে মামুন শেখ (৫৫) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। পরিবারের দাবি, জমিতে সার ও কীটনাশক দিতে যাওয়ার পর পরিকল্পিতভাবে তাকে হত্যা করে সেখানে ফেলে রাখা হয়েছে। তবে এ অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্তরা।


বৃহস্পতিবার দুপুরে উপজেলার শিধলকুড়া ইউনিয়নের আদাশন এলাকা থেকে মরদেহটি উদ্ধার করা হয়। নিহত মামুন শেখ ওই এলাকার মৃত ইউসুফ আলীর ছেলে।


স্থানীয় বাসিন্দা, পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা যায়, জমি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে মামুন শেখের সঙ্গে তার চাচাতো ভাই আবুল শেখ ও মালেক শেখের বিরোধ চলছিল। সম্প্রতি স্থানীয়ভাবে মীমাংসার পর বিরোধপূর্ণ একটি জমি মামুনের পরিবার ফিরে পায় বলে দাবি স্বজনদের।


বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে ওই জমিতে সার ও কীটনাশক দিতে বাড়ি থেকে বের হন মামুন। দুপুরের দিকে পরিবারের সদস্যরা খবর পান, তিনি জমির আইলের পাশে পড়ে আছেন। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। পরিবারের দাবি, উদ্ধারের সময় মামুনের মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা ছিল।


নিহতের বড় ছেলে রাকিব জানান, সকালে বাবার সঙ্গে কথা বলে তিনি মডেরহাট বাজারে যান। সাড়ে ১১টার দিকে বাবার পড়ে থাকার খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে মুখ গামছা দিয়ে বাঁধা অবস্থায় দেখতে পান। পরে হাসপাতালে নেওয়া হলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন। জমি নিয়ে বিরোধের জেরেই তার বাবাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


নিহতের স্ত্রী আসমা বেগমও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে আবুল ও মালেকের বিরুদ্ধে তার স্বামীকে মারধরের চেষ্টা করার অভিযোগ করেন। তিনি স্বামীর মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচার দাবি করেন।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করে আবুল শেখ জানান, জমিটি তারা অনেক বছর আগেই কিনে নিয়েছিলেন। কয়েক দিন আগে মামুন সেটি জোর করে দখল করেন। ঘটনার দিন সকালে তিনি নিজের কর্মস্থল মৎস্য অফিসে চলে যান। পরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে আসেন। নিরপেক্ষ তদন্ত হলে প্রকৃত ঘটনা বেরিয়ে আসবে বলে দাবি করেন তিনি।


ডামুড্যা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কর্তব্যরত চিকিৎসক গাজী মোহাম্মদ নাহিদুস সালাম জানান, হাসপাতালে আনার আগেই ওই ব্যক্তির মৃত্যু হয়েছিল। মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করতে ইসিজি করা হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। ময়নাতদন্ত ও তদন্তের মাধ্যমে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।


ডামুড্যা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাহাঙ্গীর আলম জানান, মরদেহ পুলিশের হেফাজতে রয়েছে। পরিবারের পক্ষ থেকে লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেলে তদন্ত সাপেক্ষে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


এমকে/বিএম২৪