জাবিতে জন্মাষ্টমী মহোৎসব ও নবীন সনাতন শিক্ষার্থীদের বরণ

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
জাবিতে জন্মাষ্টমী মহোৎসব ও নবীন সনাতন শিক্ষার্থীদের বরণ

সূত্রঃ সংগৃহীত

জাবি প্রতিনিধি


শ্রীকৃষ্ণের শুভ আবির্ভাবতিথি উপলক্ষে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে (জাবি) ‘শুভ জন্মাষ্টমী মহোৎসব ও নবীনবরণ ১৪৩৩’ অনুষ্ঠিত হয়েছে। সনাতন বিদ্যার্থী সংসদ, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের আয়োজনে দিনব্যাপী এ কর্মসূচি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে অনুষ্ঠিত হয়।


শুক্রবার সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণ থেকে জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রার মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। শোভাযাত্রাটি কেন্দ্রীয় মন্দির থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হয়ে চৌরঙ্গী পর্যন্ত যায়।


বিকেল ৪টায় মঙ্গলাচরণ ও গীতাপাঠের আয়োজন করা হয়। সাড়ে ৪টায় অনুষ্ঠিত হয় নবীনবরণ ও আলোচনা সভা। এরপর বিকেল সাড়ে ৫টা থেকে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও কুইজ প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হয়। একই সঙ্গে নবীন শিক্ষার্থীদের মধ্যে পবিত্র গীতা বিতরণ করা হয়।


সন্ধ্যা ৬টায় পূজারম্ভ, সাড়ে ৭টায় পুষ্পাঞ্জলি এবং রাত ৮টায় প্রসাদ বিতরণ করা হয়। এছাড়া সন্ধ্যায় শ্রীকৃষ্ণের অভিষেক ও পূজা-অর্চনা, ধর্মীয় নৃত্য এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।


জন্মাষ্টমীর আয়োজন নিয়ে মাইক্রোবায়োলজি বিভাগের শিক্ষার্থী প্রমা বিশ্বাস বলেন, ‘জন্মাষ্টমী মানেই শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন ঘিরে এক সর্বজনীন উৎসব। এদিন আমরা উপবাস পালন করি। উৎসবের সাজসজ্জা ও আনন্দে কোনো ঘাটতি রাখি না।’


বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫৩ ব্যাচের শিক্ষার্থী নুপুর রানী বর্মন বলেন, ‘জন্মাষ্টমীর এই আয়োজনে আমি খুব আনন্দের সঙ্গে অংশগ্রহণ করি। এদিন উপবাস থাকি, পরিষ্কার পোশাক পরি এবং শ্রীকৃষ্ণের পূজায় অংশ নিই।’


তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই মিলে শ্রীকৃষ্ণের জন্মের কাহিনি শুনি, ভজন ও কীর্তন করি এবং মন্দিরে গিয়ে প্রার্থনা করি। অনেক সময় শ্রীকৃষ্ণ ও রাধার সাজসজ্জা করি এবং কৃষ্ণের ছোটবেলার বিভিন্ন ঘটনা নিয়ে অনুষ্ঠান আয়োজন করি।’


নুপুর আরও বলেন, ‘বন্ধুদের সঙ্গে মিলেমিশে ফুল দিয়ে সাজাই, প্রসাদ গ্রহণ করি এবং সবার সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নিই। রাতে জন্মাষ্টমীর গান-বাজনার আয়োজন করা হয়। এ আয়োজনের মাধ্যমে আমি শ্রীকৃষ্ণের প্রতি ভালোবাসা ও ভক্তি প্রকাশ করি এবং তাঁর দেখানো সত্য ও ন্যায়ের পথে চলার চেষ্টা করি।’


অনুষ্ঠান সম্পর্কে গণিত বিভাগের ৫০ ব্যাচের শিক্ষার্থী গৌতম কুমার চৌধুরী বলেন, ‘প্রতিবছরের মতো এবারও জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মন্দির প্রাঙ্গণে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মদিন অর্থাৎ জন্মাষ্টমী উদযাপনের সব প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।’


তিনি বলেন, ‘শোভাযাত্রা কেন্দ্রীয় মন্দির থেকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার হয়ে চৌরঙ্গী পর্যন্ত অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিকেলে ধর্মীয় আলোচনা, নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ এবং ৫০০টি পবিত্র গীতা বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় শ্রীকৃষ্ণের অভিষেক ও পূজা-অর্চনা, প্রসাদ বিতরণ এবং ধর্মীয় নৃত্য ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।’


অনুষ্ঠানের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় ছিলেন সনাতন বিদ্যার্থী সংসদের সভাপতি স্বদীপ চন্দ্র রায়, সাধারণ সম্পাদক হৃদয় হাজরা এবং শ্রী শ্রী জন্মাষ্টমী উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক শিমুল রায় ও সেঁজুতি মাহাতা।


আয়োজকদের পক্ষ থেকে আহ্বায়ক সেঁজুতি মাহাতা বলেন, ‘মাননীয় উপাচার্য অধ্যাপক মোহাম্মদ কামরুল আহসানসহ প্রায় ১ হাজার ৫০০ শিক্ষক, কর্মকর্তা ও কর্মচারী উপস্থিত ছিলেন। জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন পর্যাপ্ত নিরাপত্তার ব্যবস্থা করায় আমরা আনন্দিত।’



এমকে/বিএম২৪