বকশীগঞ্জে ঋণের চাপে কিডনি বিক্রি করতে চান বিধবা জোসনা বেগম

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:১৭ পিএম
বকশীগঞ্জে ঋণের চাপে কিডনি বিক্রি করতে চান বিধবা জোসনা বেগম

সূত্রঃ সংগৃহীত

রতন ইন্তিসার, বকশীগঞ্জ (জামালপুর) প্রতিনিধি:


ঋণের বোঝা ও পাওনাদারদের তাগাদায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলার ৬০ বছর বয়সী বিধবা জোসনা বেগম। স্বামীর চিকিৎসার খরচ জোগাতে ধারদেনা ও বিভিন্ন এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে বর্তমানে নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন তিনি। ঋণের চাপ সামলাতে না পেরে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে বেড়ানোর মতো পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন অসহায় এই নারী।

জোসনা বেগম বকশীগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সূর্যনগর গ্রামের বাসিন্দা। তাঁর স্বামী আবদুল খালেক প্রায় দুই বছর আগে মারা যান। স্বামীর চিকিৎসার সময় ধারদেনা ও বিভিন্ন এনজিও থেকে নেওয়া ঋণ পরিশোধ করতে গিয়ে এখন চরম আর্থিক সংকটে পড়েছেন তিনি। বর্তমানে তাঁর ওপর প্রায় এক লাখ ২০ হাজার টাকা ঋণের বোঝা রয়েছে বলে জানান জোসনা বেগম।

একদিকে এনজিওর কিস্তির চাপ, অন্যদিকে পাওনাদারদের টাকার জন্য প্রতিনিয়ত তাগাদা—সব মিলিয়ে দিশেহারা তিনি। পরিস্থিতি এতটাই কঠিন হয়ে পড়েছে যে, ঋণের টাকা পরিশোধ করতে নিজের কিডনি বিক্রি করার কথাও বলছেন জোসনা বেগম।

তিনি বলেন, স্বামীর চিকিৎসার জন্য মানুষের কাছ থেকে ধার এবং এনজিও থেকে ঋণ নিয়েছিলেন। স্বামী মারা যাওয়ার পর সেই ঋণ পরিশোধের দায়িত্ব তাঁর ওপর এসে পড়ে। কোনো আয়-রোজগারের ব্যবস্থা না থাকায় কিস্তি ও ধারদেনা পরিশোধ করতে পারছেন না। পাওনাদারদের চাপের কারণে তিনি অসহায় হয়ে পড়েছেন।

একজন ৬০ বছর বয়সী বিধবা নারী কী পরিমাণ অসহায় হলে নিজের শরীরের অঙ্গ বিক্রির কথা ভাবতে পারেন জোসনা বেগমের বর্তমান পরিস্থিতি যেন তারই নির্মম প্রতিচ্ছবি।

অসহায় জোসনা বেগম সমাজের বিত্তবান ও হৃদয়বান ব্যক্তি, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং মানবিক সংগঠনগুলোর কাছে সহযোগিতার আকুতি জানিয়েছেন। তাঁর পাশে দাঁড়িয়ে ঋণের বোঝা থেকে মুক্ত করতে পারলে নতুন করে বাঁচার সুযোগ পাবেন বলে আশাবাদী তিনি।

মানবিকতার হাত বাড়িয়ে অসহায় বিধবা জোসনা বেগমের পাশে দাঁড়িয়ে তাঁকে এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসতে সহযোগিতা করার আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয়রা।



এমকে/বিএম২৪