এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ: বাসে ভাড়া নেওয়ার সময় ইসমাইলের টাকা দেখে হত্যার পরিকল্পনা

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৪৮ পিএম
এক্সপ্রেসওয়েতে মরদেহ: বাসে ভাড়া নেওয়ার সময় ইসমাইলের টাকা দেখে হত্যার পরিকল্পনা

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


রাজধানীর বনানী এলাকায় এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ইসমাইল হোসেন (৫০) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় বাসচালকসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পুলিশের দাবি, বাসে ভাড়া নেওয়ার সময় ইসমাইলের কোমরে থাকা জমি বিক্রির টাকার বান্ডিল দেখে তাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন বাসটির সুপারভাইজার। পরে চালক ও সহকারীর সঙ্গে পরিকল্পনা করে তাকে হত্যা করে টাকা নিয়ে পালিয়ে যান তারা।


রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর মিন্টো রোডে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) যুগ্ম পুলিশ কমিশনার (ক্রাইম) মো. ফারুক হোসেন।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন—রাজ ক্লাসিক বাসের চালক সোহেল রানা (৪১), সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন (২৬) এবং চালকের সহকারী মো. মনির হোসেন (১৯)।


পুলিশ কর্মকর্তা ফারুক হোসেন জানান, গত শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল পৌনে ৯টার দিকে বনানী থানাধীন স্টেডিয়াম-সংলগ্ন এলাকায় এয়ারপোর্টগামী এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহ পড়ে থাকার খবর পায় পুলিশ। পরে বনানী থানার একটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহটি উদ্ধার করে।


তিনি জানান, নিহত ব্যক্তির মুখ ও দুই হাতে স্কচটেপ পেঁচানো ছিল। এ ছাড়া তার গলায় কালো দাগ দেখা যায়। প্রাথমিকভাবে এটি হত্যাকাণ্ড বলে ধারণা করে পুলিশ তদন্ত শুরু করে।


পরে মরদেহের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। নিহতের আঙুলের ছাপের মাধ্যমে তার পরিচয় শনাক্ত করা হয়। তার নাম ইসমাইল হোসেন। পরে পরিবারের সদস্যরা থানায় এসে মরদেহের ছবি দেখে ইসমাইলকে শনাক্ত করেন।


পুলিশের প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, ঘটনার আগে ইসমাইল রাজ ক্লাসিক বাসে যাতায়াত করছিলেন। বাসে ভাড়া নেওয়ার সময় সুপারভাইজার সাজু ওরফে লিমন তার কোমরে থাকা টাকার বান্ডিল দেখতে পান। ওই টাকা ইসমাইল জমি বিক্রি করে পেয়েছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।


টাকার বিষয়টি দেখতে পাওয়ার পর লিমন বাসচালক সোহেল রানার সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করেন। পরে তারা ইসমাইলের কাছ থেকে টাকা ছিনিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা করেন। এ কাজে বাসচালকের সহকারী মনির হোসেনও যুক্ত হন।


পরিকল্পনা অনুযায়ী ইসমাইলকে হত্যার পর তার কাছ থেকে টাকা নেওয়া হয় বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে তার মরদেহ এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের ওপর ফেলে রেখে তারা পালিয়ে যান।


ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য কেউ রয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পুলিশ।



এমকে/বিএম২৪