জামায়াত আমিরের ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ মন্তব্যের জবাব দিলেন শাহাদাত

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:৫৩ পিএম
জামায়াত আমিরের ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ মন্তব্যের জবাব দিলেন শাহাদাত

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনকে ‘মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র’ বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। এর জবাবে শাহাদাত হোসেন বলেছেন, আদালতের রায় অনুযায়ী তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত। তবে স্থানীয় সরকার বিভাগ চসিক নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করলে তিনি পদ ছাড়তে প্রস্তুত।


শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১২টার দিকে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে প্রকাশ করা এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন চসিক মেয়র।


শাহাদাত হোসেন বলেন, জামায়াত আমির লালদিঘীর সমাবেশে তাকে মেয়াদোত্তীর্ণ মেয়র বলেছেন। তার দাবি, ২০২১ সালের চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের ফলাফলের বিরুদ্ধে তিনি নির্বাচনী ট্রাইব্যুনালে মামলা করেছিলেন। আদালতের রায়ের ভিত্তিতে তাকে মেয়র হিসেবে বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে এবং পরে এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন ও গেজেট প্রকাশের পর তিনি শপথ নেন।


মেয়র বলেন, আদালতের রায়টি ৫ আগস্টের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হয়েছে। জনগণের প্রত্যাশার প্রতিফলন হিসেবেই তিনি এ রায় পেয়েছেন বলে দাবি করেন।


আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র হিসেবে রেজাউল করিম চৌধুরীর দায়িত্ব পালনের মেয়াদ আদালতের রায়ে অবৈধ ঘোষণা করা হয়েছে বলেও দাবি করেন শাহাদাত। তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৩ নভেম্বর তিনি মেয়র হিসেবে শপথ নিয়েছেন। সে হিসাবে তার মেয়াদ ২০২৯ সাল পর্যন্ত থাকার কথা।


তবে দ্রুত নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে নিজের অবস্থানও তুলে ধরেন শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, জনগণের বৃহত্তর স্বার্থে এবং গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে স্থানীয় সরকার বিভাগের অধীনে নির্বাচন আয়োজন করা হলে তিনি এতে অংশ নিতে প্রস্তুত।


তিনি আরও বলেন, স্থানীয় সরকার বিভাগ যেদিন চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করবে, সেদিনই তিনি মেয়রের পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন এবং গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে স্বাগত জানাবেন।


জামায়াত আমিরের বক্তব্যে বিস্ময় প্রকাশ করে শাহাদাত দাবি করেন, এ বক্তব্যের মাধ্যমে আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে নির্বাচিত মেয়র রেজাউল করিমকে বৈধ মেয়র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার মতো অবস্থান নেওয়া হয়েছে।


এর আগে চট্টগ্রামের লালদিঘী ময়দানে ১১ দলীয় জোটের লংমার্চের সমাপনী সমাবেশে বক্তব্য দেওয়ার সময় চসিক মেয়রের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন ডা. শফিকুর রহমান।


তিনি বলেন, একজন মেয়র দায়িত্বে আছেন, তার মেয়াদ আছে কি না—এ নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। জনগণের ভোটে আবার নির্বাচিত হয়ে এলে নেতৃত্ব দিতে কোনো আপত্তি নেই বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তবে জনগণ অন্য কাউকে নির্বাচিত করলে সেই ফলও মেনে নেওয়ার আহ্বান জানান জামায়াত আমির।


এ ছাড়া নির্বাচিত জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে দেশ পরিচালনার প্রতিশ্রুতি দেওয়ার পর বিভিন্ন স্থানে প্রশাসক নিয়োগের বিষয়েও প্রশ্ন তোলেন শফিকুর রহমান।


নিজের বক্তব্যে শাহাদাত হোসেন বলেন, ছাত্রজীবন থেকেই তিনি গণতান্ত্রিক রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত। গত ১৭ বছর ধরে গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য কাজ করে আসছেন এবং ভবিষ্যতেও অংশগ্রহণমূলক ও গণতান্ত্রিক নির্বাচনকে স্বাগত জানাবেন।



এমকে/বিএম২৪