গুরুদাসপুরে শাকিল হত্যা: এমপির ছেলে ডিবি হেফাজতে
সংগৃহীত
মোঃ আব্দুর রউফ, গুরুদাসপুর (নাটোর) প্রতিনিধি
নাটোরের গুরুদাসপুরে পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব শাকিল ইসলাম হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজের ছেলে নুরুজ্জামান মিন্টুকে জেলা গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। তবে তাঁকে এখনো গ্রেপ্তার দেখানো হয়নি।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) দিবাগত গভীর রাতে গুরুদাসপুর বাজারে নিজের ভাড়া বাসা থেকে মিন্টুকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে নাটোর জেলা ডিবি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
নাটোর জেলা গোয়েন্দা পুলিশের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নজরুল ইসলাম বলেন, গুরুদাসপুর থানা-পুলিশ মিন্টুকে তাঁদের কাছে হস্তান্তর করেছে। তাঁকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ডিবি হেফাজতে রাখা হয়েছে। তবে থানা-পুলিশ তাঁকে কোথা থেকে আটক করেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন।
এ বিষয়ে জানতে গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল হান্নানের মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
‘নিজের ছেলে জড়িত থাকলেও ছাড় নয়’: এমপি আব্দুল আজিজ
ছাত্রদল নেতা শাকিল ইসলামের মৃত্যুর পর মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) সকালে তাঁর বাড়িতে যান নাটোর-৪ (গুরুদাসপুর–বড়াইগ্রাম) আসনের সংসদ সদস্য আলহাজ মো. আব্দুল আজিজ। এ সময় তিনি শাকিলের বাবার সঙ্গে কথা বলেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি সমবেদনা জানান।
সেখানে সংসদ সদস্য আব্দুল আজিজ বলেন, শাকিল হত্যাকাণ্ডে তাঁর নিজের ছেলে জড়িত থাকলেও তাঁর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে। এ ঘটনায় কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না। ঘটনার তদন্ত চলছে। তদন্তের ভিত্তিতে পুলিশ প্রশাসন প্রয়োজনীয় আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলা
নিহত শাকিল ইসলাম গুরুদাসপুর পৌর ছাত্রদলের সদস্যসচিব ছিলেন। গত ১৪ অক্টোবর রাতে উপজেলার চাঁচকৈড় বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হামলার শিকার হন তিনি।
অভিযোগ অনুযায়ী, হেলমেট পরা দুর্বৃত্তরা প্রথমে তাঁকে গুলি করে। পরে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় শাকিলকে প্রথমে গুরুদাসপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। পরে তাঁকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
অবস্থার অবনতি হলে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে ঢাকার পিজি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে তাঁর মৃত্যু হয়।
শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে গুরুদাসপুরজুড়ে শোক ও ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে দ্রুত গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান স্থানীয় নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষ।
বিচারের দাবিতে সোচ্চার বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা
শাকিলের মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর সোমবার রাতে গুরুদাসপুরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন ছাত্রদলের নেতা-কর্মীরা। তাঁরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান।
মঙ্গলবার সকাল থেকে নাটোর জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকসহ বিএনপি, যুবদল এবং অন্যান্য অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীরা শাকিলের বাড়িতে যান। তাঁরা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করার দাবি জানান।
শাকিল হত্যা মামলায় সংসদ সদস্যের ছেলেকে ডিবি হেফাজতে নেওয়ার ঘটনা স্থানীয় রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা সৃষ্টি করেছে। এখন তদন্তের অগ্রগতি, জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্য এবং পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে তাকিয়ে রয়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
এমকে/বিএম২৪









