কুড়িগ্রামে ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে ৪ জামায়াত নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন
সূত্রঃ সংগৃহীত
শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি
‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে ব্যবসা পরিচালনার কথা বলে প্রায় ১২ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে জামায়াতে ইসলামীর চার সাবেক ও বর্তমান নেতার বিরুদ্ধে মানববন্ধন করেছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে আত্মসাৎ করা অর্থ উদ্ধারের পাশাপাশি অভিযুক্তদের বিচারের দাবি জানিয়েছেন তারা।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুড়িগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে ‘ভুক্তভোগী মাজলুম পরিবার’-এর ব্যানারে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন।
মানববন্ধনে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের পক্ষে বক্তব্য দেন তৈয়ব আলী, নোমান বিল্লাহ, মাহফুজুল ইসলাম, জাহিদুল ইসলাম, সাজ্জাদ হোসেন ও রুহুল আমীনসহ অন্যরা।
বক্তারা অভিযোগ করেন, ‘ভিশন এন্টারপ্রাইজ’ নামে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনার কথা বলে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি শাহজালাল সবুজ, প্রচার সম্পাদক রফিকুল ইসলাম, জামায়াতের রোকন আব্দুস সালাম সুজা এবং সাবেক কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের বায়তুল মাল সদস্য রফিকুল ইসলাম প্রায় ১৫০ ব্যক্তির কাছ থেকে মোট ১২ কোটি টাকা নেন।
তাদের দাবি, ২০২৪ সালের ১৬ নভেম্বর ওই ব্যক্তিরা হঠাৎ আত্মগোপনে চলে যান এবং ভুক্তভোগীদের সঙ্গে সব ধরনের যোগাযোগ বন্ধ করে দেন। পরবর্তীতে টাকা ফেরত না দেওয়ায় অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ ওঠে।
ভুক্তভোগীরা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে নিজেদের অর্থ ফেরত পেতে বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও তারা কাঙ্ক্ষিত প্রতিকার পাননি। এতে অনেক পরিবার আর্থিকভাবে চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে এবং মানবেতর জীবনযাপন করছে বলে দাবি করেন তারা।
মানববন্ধনে বক্তারা অভিযোগের সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন, ভুক্তভোগীদের অর্থ উদ্ধার এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তারা আরও বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়ের এবং আদালত থেকে ওয়ারেন্ট জারি হলেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না। এ ক্ষেত্রে প্রশাসনের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করে বক্তারা বলেন, ভুক্তভোগী পরিবারগুলোর ন্যায্য পাওনা ফেরত দেওয়ার পাশাপাশি ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় দাবি আদায় না হওয়া পর্যন্ত শান্তিপূর্ণভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন তারা।
তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।









