বৃষ্টিতে কৃষকের মাঠে স্বস্তি, মহানগরীতে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ

প্রকাশিত: ০২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:১৯ পিএম
বৃষ্টিতে কৃষকের মাঠে স্বস্তি, মহানগরীতে জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ

সূত্রঃ বিডি মেইল

ইব্রাহীম হোসেন সম্রাট, রাজশাহী ব্যুরো


চলতি মৌসুমে কাঙ্ক্ষিত বৃষ্টির অভাবে আমন ধান নিয়ে উদ্বেগে থাকা রাজশাহীর কৃষকেরা স্বস্তি পেয়েছেন বুধবারের অঝোর বৃষ্টিতে। ধানে ফুল আসার গুরুত্বপূর্ণ সময়ে ৯৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত কৃষিজমিতে পানির চাহিদা পূরণে সহায়ক হলেও একই বৃষ্টিতে নগরীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে সৃষ্টি হয়েছে জলাবদ্ধতা। এতে একদিকে কৃষকের মাঠে ভালো ফলনের আশা জেগেছে, অন্যদিকে নগরবাসীকে পোহাতে হয়েছে ভোগান্তি।


রাজশাহী আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) ভোর থেকে হওয়া বৃষ্টিতে চলতি মৌসুমের সর্বোচ্চ ৯৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।


কয়েক দিনের খরায় রাজশাহীর বিভিন্ন এলাকার আমনখেতে পানির সংকট দেখা দিয়েছিল। ধানে ফুল আসার সময়েও পর্যাপ্ত বৃষ্টি না হওয়ায় অনেক কৃষককে সেচ দিয়ে জমির পানির চাহিদা মেটাতে হচ্ছিল। এতে উৎপাদন খরচ বাড়ার পাশাপাশি ধানের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ও ফলন নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল।


কৃষি কর্মকর্তারা বলছেন, আমন ধানে ফুল আসা ও দানা গঠনের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। সাম্প্রতিক বৃষ্টিতে জমিতে প্রয়োজনীয় আর্দ্রতা তৈরি হওয়ায় ধানের দানা পরিপুষ্ট হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। এতে ফলন ভালো হওয়ার সম্ভাবনাও বেড়েছে।


পবা উপজেলার দামকুড়া এলাকার আগাম সবজি চাষি মোশাররফ হোসেন বলেন, “আমি ২৫ বিঘা জমিতে আগাম জাতের বাঁধাকপি ও ফুলকপি চাষ করেছি। কয়েক দিন ধরে বৃষ্টি না হওয়ায় জমির আর্দ্রতা নিয়ে চিন্তায় ছিলাম। আজকের বৃষ্টিতে সবজির অনেক উপকার হবে, সেচের খরচও কমবে।”


রাজশাহী কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন বলেন, এ সময়ে বৃষ্টি হলে আমন ধানের বৃদ্ধি ও ফলন ভালো হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। বিশেষ করে ধানে ফুল আসা ও দানা গঠনের সময়ে পর্যাপ্ত পানি পাওয়া ফলনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।



অন্যদিকে, বৃষ্টিতে রাজশাহী মহানগরীর বিভিন্ন সড়ক ও অলিগলিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। বুধবার দুপুরে সরেজমিনে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের সামনে, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের সামনের সড়ক ও জুরুরি বিভাগের রাস্তা, বর্ণালী মোড়, রেলগেট, হেতেমখা, জিরো পয়েন্ট, ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় পানি জমে থাকতে দেখা যায়। কোথাও কোথাও হাঁটুসমান পানিও দেখা যায়।


জলাবদ্ধ পানিতে আটকে পড়ে মোটরসাইকেল ও অটোরিকশা। অফিসগামী মানুষ, শিক্ষার্থী ও সাধারণ পথচারীদের দুর্ভোগে পড়তে হয়। বৃষ্টি থামার কিছু সময় পর পানি নামতে শুরু করলেও সকালজুড়ে ব্যাহত হয় স্বাভাবিক চলাচল।


রামেক হাসাপাতালের সামনে এক দোকানি আকবর আলী বলেন, “রাজশাহীকে দেশের অন্যতম পরিচ্ছন্ন ও সুন্দর শহর বলা হয়। কিন্তু একটু বৃষ্টি হলেই রাস্তায় পানি জমে যায়। তখন চলাচল করাই কষ্টকর হয়ে পড়ে। সময়মতো ড্রেন পরিষ্কার না করায় এই সমস্যা হচ্ছে।”


নিউ ডিগ্রী সরকারি কলেজ শিক্ষার্থী মোসা: স্বর্ণা আকতার শাম্মি বলেন, “সামান্য বৃষ্টিতেই ক্লাসে যেতে সমস্যা হয়। রাস্তার পানি অনেক সময় ড্রেনের ময়লার সঙ্গে মিশে দুর্গন্ধ ছড়ায়। সিটি করপোরেশনকে এ সমস্যা সমাধানে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিতে হবে।”


একই দিনের বৃষ্টি তাই রাজশাহীতে তৈরি করেছে দুই বিপরীত চিত্র—কৃষকের মাঠে স্বস্তি ও ভালো ফলনের আশা, আর নগরজীবনে জলাবদ্ধতার পুরোনো দুর্ভোগ।