যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক’ বলে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর

প্রকাশিত: ১৪ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৫০ পিএম
যুক্তরাজ্যকে ‘ইসলামিক রিপাবলিক’ বলে কটাক্ষ নেতানিয়াহুর

সূত্রঃ সংগৃহীত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক



যুক্তরাজ্যকে ব্যঙ্গ করে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’ বলে মন্তব্য করেছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু। ইসরায়েলের প্রতি ব্রিটিশ গণমাধ্যমের সাম্প্রতিক অবস্থানের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।


বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) প্রচারিত ইসরায়েলি পডকাস্ট Melech Blitzer Haim-এ কথা বলার সময় নেতানিয়াহু এ মন্তব্য করেন বলে জানিয়েছে আল-জাজিরা।


পডকাস্টে ১৯৬৭ সালের ছয় দিনের যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে নেতানিয়াহু বলেন, ওই সময় ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যমে ইসরায়েলকে তুলনামূলক ইতিবাচকভাবে উপস্থাপন করা হতো। এ প্রসঙ্গে ব্রিটিশ লেখক র‌্যান্ডলফ চার্চিলের লেখার উদাহরণও দেন তিনি।


এরপর বর্তমান ব্রিটেনের সমালোচনা করে নেতানিয়াহু ব্যঙ্গাত্মকভাবে বলেন, ‘আজকের ব্রিটেনে সেটি খুঁজে দেখুন—আপনি একে ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন বলতে পারেন।’


এ সময় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জে ডি ভ্যান্সের ২০২২ সালের একটি মন্তব্যও উল্লেখ করেন নেতানিয়াহু। ভ্যান্স তখন বলেছিলেন, যুক্তরাজ্য বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইসলামপন্থি দেশ হয়ে উঠতে পারে।


নেতানিয়াহু আরও বলেন, কেউ একসময় বলেছিলেন, বিশ্বের প্রথম পারমাণবিক অস্ত্রধারী ইসলামিক প্রজাতন্ত্র হবে ‘ইসলামিক রিপাবলিক অব ব্রিটেন’। ইরানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, তারা সেখানে আরেকটি এমন দেশ থাকতে দেবে না।


নেতানিয়াহুর মন্তব্যের তীব্র সমালোচনা করেছে ব্রিটিশ ও আইরিশ ইহুদি সম্প্রদায়ের একটি সংগঠন। মুভমেন্ট ফর প্রোগ্রেসিভ জুডাইজমের যৌথ প্রধান রাবাই চার্লি বাগিনস্কি ও রাবাই জোশ লেভ বলেন, ব্রিটেনে ইহুদিবিদ্বেষ, মুসলিমবিদ্বেষ ও সামাজিক বিভাজন নিয়ে মানুষের মধ্যে যখন বাস্তব ভয় রয়েছে, তখন এ ধরনের বক্তব্য বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন।


তারা আরও বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু ব্রিটিশ ইহুদিদের প্রতিনিধিত্ব করেন না। তার বক্তব্য আমাদের প্রতিনিধিত্ব করে না।’


ইসরায়েল-যুক্তরাজ্য সম্পর্কে টানাপোড়েন


দীর্ঘদিন ধরে ইসরায়েল ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দুই দেশের সরকারের মধ্যে দূরত্ব বেড়েছে। ২০২৪ সালে লেবার পার্টি ক্ষমতায় আসার পর এই উত্তেজনা আরও প্রকাশ্য হয়।


কিয়ার স্টারমার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে যুক্তরাজ্য ইসরায়েলের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য আলোচনা স্থগিত করে এবং কিছু অস্ত্র রপ্তানি লাইসেন্স বাতিল করে। ফ্রান্সের পাশাপাশি ইসরায়েলি সরকারের কট্টর ডানপন্থি মন্ত্রী ইতামার বেন-গভির ও বেজালেল স্মোটরিচের বিরুদ্ধেও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে ব্রিটেন।


এ ছাড়া গত বছর ফ্রান্স, কানাডাসহ কয়েকটি মিত্র দেশের সঙ্গে যুক্ত হয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয় যুক্তরাজ্য।



এমকে/বিএম২৪