অভাবের বাধা পেরিয়ে পড়াশোনা, সহায়ক বই পেয়ে খুশি বেলা রানী
ছবি: বিডি মেইল
আমান উল্যাহ আমান, গাজীপুর প্রতিনিধি
দীর্ঘ ১০ মাস প্রয়োজনীয় সহায়ক বই ছাড়াই পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছিল নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী বেলা রানী। কখনো সহপাঠীদের কাছ থেকে বই ধার করে, আবার কখনো নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে চলছিল তার শিক্ষাজীবন। অবশেষে এক সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগীর সহযোগিতায় প্রয়োজনীয় সহায়ক বই পেয়েছে সে। এতে বেলা রানী ও তার পরিবারের মধ্যে আনন্দের সৃষ্টি হয়েছে।
রোববার (১৮ অক্টোবর) দুপুরে গাজীপুরের টঙ্গীতে বেলা রানীর হাতে প্রয়োজনীয় সহায়ক বই তুলে দেওয়া হয়।
বেলা রানী টঙ্গীর নোয়াগাঁও সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। পড়াশোনার পাশাপাশি সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান গ্লোবাল কিডস স্কুলে শিক্ষিকা হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছে সে।
গ্লোবাল কিডস স্কুল সূত্রে জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে প্রয়োজনীয় সহায়ক বইয়ের অভাবে পড়াশোনায় সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছিল বেলা রানী। বিষয়টি স্কুল কর্তৃপক্ষের নজরে এলে তার পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। পরে একজন সমাজসেবী ও শিক্ষানুরাগীর সহযোগিতায় তার হাতে প্রয়োজনীয় বই তুলে দেওয়া সম্ভব হয়।
সহায়ক বই পেয়ে আনন্দ প্রকাশ করেছে বেলা রানী ও তার পরিবার। এ উদ্যোগের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছে তারা।
বই বিতরণকালে উপস্থিত ছিলেন গ্লোবাল কিডস স্কুলের পরিচালক মাহবুবুর রহমান জিলানী, মোহাম্মদ শামীম রেজা, শিক্ষার্থীদের অভিভাবক ও স্কুলের শিক্ষার্থীরা।
গ্লোবাল কিডস স্কুলের পরিচালক মাহবুবুর রহমান জিলানী বলেন, দারিদ্র্য যেন কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষাজীবনে বাধা হয়ে না দাঁড়ায়। সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীদের পাশে দাঁড়ানো সবার দায়িত্ব।
তিনি আরও বলেন, একটি বই শুধু পড়াশোনার উপকরণ নয়, বরং একটি শিশুর স্বপ্ন পূরণের পথও তৈরি করতে পারে। সমাজের বিত্তবান ও শিক্ষানুরাগীরা এগিয়ে এলে সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া আরও সহজ হবে।
স্কুল কর্তৃপক্ষের প্রত্যাশা, সম্মিলিত উদ্যোগ ও সহযোগিতার মাধ্যমে অভাবের কারণে কোনো শিশুর শিক্ষাজীবন যেন ব্যাহত না হয়।
এমকে/বিএম২৪









