ভেবো না তোমাদের ভবিষ্যৎ আমরা তৈরি করে দেব, জবিতে শিক্ষামন্ত্রী

প্রকাশিত: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৪:১২ পিএম
ভেবো না তোমাদের ভবিষ্যৎ আমরা তৈরি করে দেব, জবিতে শিক্ষামন্ত্রী

সূত্রঃ বিডি মেইল

জবি প্রতিনিধি


জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেদেরই গড়ে তোলার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়ে এখন থেকেই লক্ষ্য নির্ধারণ এবং দেশ গঠনে প্রস্তুত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন।


বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞান অনুষদ মাঠে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় শাখার উদ্যোগে আয়োজিত নবীনবরণ অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।


প্রধান অতিথির বক্তব্যে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘তোমরা তোমাদের নিজেদের জীবন প্রতিষ্ঠিত করতে চাও। অতএব বুঝতে হবে, এই যে তোমরা স্বাধীন এই স্বাধীনতাকে কতটুকু তোমরা ব্যবহার করবে, সেই প্রশ্ন তোমাদেরকে আজ জিজ্ঞেস করতে হবে।’


তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে যেন একটি পুকুরের মাছ যখন বিশাল সমুদ্রে এসে পড়ে, তখন তার সাঁতার কাটার জায়গার অভাব নেই, খাবারের অভাব নেই। তোমরা আজকে বিশাল সমুদ্রে সাঁতরে বেড়াচ্ছ। এখানেই তোমাদেরকে লক্ষ্য স্থির করতে হবে যেকোন পথে তোমরা যাবে। তোমাদের ভবিষ্যৎ আজ তোমাদের হাতের মুঠোয়।’


শিক্ষার্থীদের নিজেদের ভবিষ্যৎ নিজেরাই গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, ‘ভেবো না তোমাদের ভবিষ্যৎ আমরা তৈরি করে দেব। আজকে নিজেকে ডিটারমাইন্ড হতে হবে যে কী হতে চাও, কী করতে চাও, কীভাবে নিজের জীবনকে প্রতিষ্ঠিত করবে; সেই সময়টা আজকে তোমাদের এখনই।’


দেশের ভবিষ্যৎ প্রজন্ম হিসেবে নবীন শিক্ষার্থীদের দায়িত্বের কথাও তুলে ধরেন তিনি। বলেন, ‘তোমরা যে আগামী দিনের ভবিষ্যৎ, আগামীর বাংলাদেশ; অতএব বাংলাদেশকে কীভাবে গড়বে, সেটা তোমাদের চিন্তায় আসতে হবে।’


কারিগরি শিক্ষার সঙ্গে শিল্প খাতের সংযোগের প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরে আহসানুল হক মিলন বলেন, সম্প্রতি চীনের কারিগরি শিক্ষা ও শিল্প খাতের মডেল দেখতে তিনি চার দিনের সফরে গিয়েছিলেন। সেখানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে শিল্পের যে যোগসূত্র রয়েছে, তা থেকে বাংলাদেশের জন্য অনেক কিছু শেখার আছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।


তিনি বলেন, শিক্ষার্থীরা লেখাপড়ার পাশাপাশি কোন বিষয়ে দক্ষ হবে, কোথায় কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে কিংবা কে উদ্ভাবক হিসেবে নিজের যোগ্যতা প্রমাণ করবে এসব বিষয়কে শিক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজন রয়েছে।


বিশ্ববিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষের শিক্ষার পাশাপাশি বাস্তব জ্ঞান ও দক্ষতা অর্জনের ওপর গুরুত্ব দিয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘ইউনিভার্সিটির ক্লাসে আসলেই, স্যার লেকচার দিল, লেকচারগুলোকে ভালোভাবে আত্মস্থকরণ করলে; কিন্তু আত্মস্থকরণ করাই কি শেষ? না।’


কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্বজুড়ে শিক্ষা ব্যবস্থায় এআই নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। সম্প্রতি ইউনেস্কোর একটি সম্মেলনে অংশ নেওয়ার অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, বর্তমান বিশ্বে শিক্ষা ও প্রযুক্তির পরিবর্তনের সঙ্গে শিক্ষার্থীদেরও নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে।


এর আগে অনুষ্ঠানে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার পেছনে নিজের ভূমিকার কথা তুলে ধরে আহসানুল হক মিলন বলেন, ১৯৯৫ সালে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিষয়ে অনুমোদন দিয়েছিলেন। পরবর্তীতে তিনি প্রতিমন্ত্রী থাকাকালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠায় উদ্যোগ নেওয়ার কথা উল্লেখ করেন।


ছাত্রদলের সঙ্গে নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, ছাত্রদল গঠনের সময় তিনি কেন্দ্রীয় কমিটির ২১ সদস্যের মধ্যে সর্বকনিষ্ঠ সদস্য ছিলেন। পরে ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থেকে শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব পাওয়ার কথাও উল্লেখ করেন তিনি।


অনুষ্ঠানে প্রায় তিন হাজার নবীন শিক্ষার্থীদের বরণ, উপহার ও খাবার বিতরণ এবং আমন্ত্রিত অতিথিদের বক্তব্যের পাশাপাশি বিকেলে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নিজস্ব ব্যান্ড ও আমন্ত্রিত শিল্পীদের পরিবেশনার আয়োজন রাখা হয়।