বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছে: শফিকুর রহমান

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০২:০৫ পিএম
বিএনপি নির্বাচনের সময় আওয়ামী লীগের ভোট ভিক্ষা চেয়েছে: শফিকুর রহমান

সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান অভিযোগ করেছেন, নির্বাচনের সময় বিএনপি নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট চেয়েছে। একই সঙ্গে তিনি বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি, দখলদারি ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগ তুলেছেন।


রোববার (২৫ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে ‘জুলাই জাতীয় সনদ স্বাক্ষরের বর্ষপূর্তি’ উপলক্ষে জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় উদ্যোগে আয়োজিত আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।


শফিকুর রহমান বলেন, “আপনারা নির্বাচনের সময় নানা কথা বলে আওয়ামী লীগের কাছে ভোট ভিক্ষা চেয়েছেন। শেখ হাসিনা বলেছেন, হাতেপায়ে ধরে ভোট নিলে, এখন বেইমানি করে কেন? তাঁর দলের আরেকজন গডফাদার বলেছেন, কমপক্ষে ৯৫টি আসনে হেরে যাওয়া বিএনপিকে আমরাই ভোট দিয়ে জিতিয়েছি।”


বিএনপির বক্তব্যের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, বিএনপি নতুন নতুন বয়ান তৈরি করছে। জামায়াতকে পরিত্যক্ত ফ্যাসিস্টের সঙ্গে হাত মেলানোর অভিযোগও করা হচ্ছে। এ প্রসঙ্গে তিনি ব্যঙ্গাত্মক মন্তব্য করে বলেন, নিজেরা আওয়ামী লীগের সমর্থন নিয়েছে, আবার অন্যদের বিরুদ্ধে অভিযোগ তুলছে।


তিনি আরও অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, ছাত্রলীগ, শ্রমিক লীগ ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের বিভিন্ন নেতাকে সমাজের গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং বিএনপির গুরুত্বপূর্ণ পদে জায়গা দেওয়া হচ্ছে। এরপর সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসা এবং অস্থিরতা সৃষ্টির অভিযোগ তোলা হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে টাকা, অস্ত্র ও মাদক প্রবেশ ঠেকাতে না পারলে সরকারের দেশ পরিচালনার সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি।


জনদুর্ভোগ ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে সমালোচনা


সরকারের বিভিন্ন কর্মসূচির সমালোচনা করে শফিকুর রহমান বলেন, জনগণকে কার্ড দেওয়ার কথা বলা হলেও কতজনকে, কখন এবং কীভাবে দেওয়া হবে, তা স্পষ্ট নয়। এর মধ্যে সাধারণ মানুষের ওপর করের বোঝা ও দুর্নীতির চাপ বাড়ছে বলে অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি বলেন, প্রবাসে অস্থিরতার কারণে অনেক প্রবাসী দেশে ফিরে আসছেন। তাঁদের জন্য সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা নেই। দেশের মানুষকে স্বস্তি দেওয়ার উদ্যোগও দেখা যাচ্ছে না। চাঁদাবাজির কারণে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বেড়ে যাচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


পঞ্চগড়ে চারটি লাউ এক টাকায় বিক্রির প্রসঙ্গ তুলে জামায়াতের আমির বলেন, কৃষকেরা উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য দাম পাচ্ছেন না। অথচ রাজধানীতে একটি লাউ কিনতেই ৪০ থেকে ৬০ টাকা খরচ করতে হচ্ছে। তাঁর দাবি, চাঁদাবাজি ও মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য এ পরিস্থিতির অন্যতম কারণ।


চাঁদাবাজি ও দখলদারির অভিযোগ


বিএনপির বিরুদ্ধে চাঁদাবাজি ও দখলদারি বন্ধ করতে না পারার অভিযোগ তুলে শফিকুর রহমান বলেন, রাড্ডা মেডিকেল সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় শুধু সংশ্লিষ্ট সংসদ সদস্যকে পদত্যাগ করানোই যথেষ্ট নয়। অপরাধের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি।


তিনি বলেন, অপরাধের বিচার না করে পদত্যাগের মাধ্যমে বিষয়টি শেষ করে দেওয়ার চেষ্টা করা হলে জনগণ তা মেনে নেবে না। চাঁদাবাজি ও দখলদারির কারণে সাধারণ মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।


শফিকুর রহমান আরও অভিযোগ করেন, চাঁদাবাজি ও দখলদারির ঘটনা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে বিএনপির নিজস্ব কর্মী-সমর্থকেরাও এর শিকার হচ্ছেন। সরকারের ব্যর্থতা আড়াল করতে বিরোধী দলের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে বলেও দাবি করেন তিনি।


সরকারকে দায়িত্ব পালনের আহ্বান


সরকারের সমালোচনা করে জামায়াতের আমির বলেন, সাত মাসের সরকার নানা ভুলত্রুটি করেছে—এ কথা বলে দায়িত্ব এড়ানোর সুযোগ নেই। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি, প্রশাসনে দলীয় লোকদের নিয়োগ এবং বিভিন্ন ক্ষেত্রে দখলদারির অভিযোগ তুলে তিনি সরকারের কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন তোলেন।


স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকা নিয়েও সমালোচনা করেন শফিকুর রহমান। মাদক পাচার বন্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, দিনের বেলায় ৫০টি ট্রাকে ডাকাতির ঘটনাও উদ্বেগজনক। জনগণকে সংবিধান সংশোধনের নামে বিভ্রান্ত না করে সরকারের উচিত নিজেদের দায়িত্ব পালনে মনোযোগ দেওয়া। তা না হলে সরকারকে সরে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান তিনি।


জনগণের অধিকার আদায়ে আন্দোলন চলবে


শফিকুর রহমান বলেন, জামায়াতে ইসলামী বা ১১-দলীয় জোটের দলীয় দাবি আদায়ের জন্য নয়, জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তারা মাঠে নেমেছেন। এসব দাবি বাস্তবায়নে তাঁদের ওপর বিভিন্নভাবে চাপ সৃষ্টি করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।


তিনি বলেন, “জন্ম যখন নিয়েছি, আমরা জানি মৃত্যু আমাদের সঙ্গেই। কিন্তু অপমানের মৃত্যুবরণ করতে চাই না। জনগণের অধিকারের পক্ষে লড়াই করে সেই মৃত্যু কবুল করতে চাই। সেটি হবে গর্বের।”


আন্দোলনে বিশৃঙ্খলার আশ্রয় নেওয়া হবে না উল্লেখ করে জামায়াতের আমির বলেন, তাঁরা নিয়মতান্ত্রিকভাবে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন। কেউ যেন তাঁদের ওপর বিশৃঙ্খলা চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা না করেন।


গণভোটের প্রসঙ্গ টেনে তিনি আরও বলেন, ৭০ শতাংশ মানুষ ‘হ্যাঁ’-এর পক্ষে ভোট দিয়েছেন। জনগণ অতীতের পুরোনো রাজনৈতিক ধারা থেকে বেরিয়ে পরিবর্তন ও সংস্কার চান বলে মন্তব্য করেন তিনি।


এমকে/বিএম২৪