ইয়েমেনে সেনা অভিযান : ২৪ ঘণ্টায় ৩ শতাধিক হুথি যোদ্ধা নিহত
সংগৃহীত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক
ইয়েমেনের আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের অধীন সেনাবাহিনীর অভিযানে ২৪ ঘণ্টায় অন্তত ৩০৭ জন হুথি যোদ্ধা ও কমান্ডার নিহত হয়েছেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ সময় হুথি বাহিনীর ৬৮টি সামরিক যান এবং বেশ কয়েকটি সামরিক স্থাপনা ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববার (২৫ অক্টোবর) এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে ইয়েমেনি সেনাবাহিনী।
বিবৃতিতে বলা হয়, চলমান ‘ডন অব ইয়েমেন’ বা ‘ইয়েমেনের ভোর’ সামরিক অভিযানের আওতায় শুক্রবার রাত ১২টা থেকে শনিবার রাত ১২টা পর্যন্ত হুথি নিয়ন্ত্রিত এলাকাগুলোতে ৭৩৬টি হামলা চালানো হয়। এসব হামলায় হুথি যোদ্ধা ও কমান্ডারদের হতাহতের পাশাপাশি তাদের সামরিক সক্ষমতারও ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছে সরকারি বাহিনী।
সেনাবাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব অভিযানে হুথিদের কমান্ড সেন্টার, সেনা সমাবেশস্থল, অতিরিক্ত সেনা মোতায়েনের স্থান, অস্ত্রাগার এবং সরবরাহপথ লক্ষ্যবস্তু করা হয়।
তাইজে বিশেষ অভিযান
অভিযানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে ইয়েমেনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় তাইজ প্রদেশে। এলাকাটি হুথি বাহিনীর অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত।
সেনাবাহিনীর বিবৃতিতে বলা হয়, তাইজে হুথিদের একটি কমান্ড সেন্টার, ভারী অস্ত্রের অবস্থান এবং একটি পরিত্যক্ত হোটেলের ভেতরে স্থাপিত অস্ত্রাগারে হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে আরও দাবি করা হয়, পরিত্যক্ত ওই হোটেলকে হুথিরা পর্যবেক্ষণকেন্দ্র ও গোলাবর্ষণের অবস্থান হিসেবে ব্যবহার করছিল। সেখান থেকে আবাসিক এলাকাগুলো হুমকির মুখে পড়ছিল এবং শহরটির ওপর অবরোধ বজায় রাখা হচ্ছিল। ওই এলাকা থেকে গোলাবর্ষণ বন্ধ করতেই অভিযান চালানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সরকারি বাহিনী।
তাইজে এখনো লড়াই চলছে। শহরের কেন্দ্রস্থল সরকারি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকলেও হুথিরা সম্প্রতি গ্রামীণ ও উপকূলীয় কিছু এলাকায় নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করেছে।
দীর্ঘদিনের সংঘাতে বিপর্যস্ত ইয়েমেন
২০১৪ সালে হুথি বিদ্রোহীরা রাজধানী সানা ও অন্যান্য প্রদেশের নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর ইয়েমেনে সংঘাত তীব্র হয়ে ওঠে। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারকে সমর্থন দিতে সৌদি আরবের নেতৃত্বাধীন একটি জোট দেশটিতে সামরিক হস্তক্ষেপ করে।
বর্তমানে ইয়েমেনের উত্তর ও পশ্চিমাঞ্চলের বড় অংশ হুথিদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। অন্যদিকে, এডেনসহ দক্ষিণ ও পূর্বাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা সরকারি বাহিনী ও তাদের মিত্রদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সূত্র: আরব নিউজ, আনাদোলু এজেন্সি
এমকে/বিএম২৪









