ডাসারে পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামী-প্রেমিকা পলাতক

প্রকাশিত: ২৫ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২২ পিএম
ডাসারে পরকীয়ার প্রতিবাদ করায় গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ, স্বামী-প্রেমিকা পলাতক

সংগৃহীত

শফিকুল ইসলাম নাঈম, মাদারীপুর প্রতিনিধি


মাদারীপুরের ডাসারে পরকীয়া সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় পুতুল সমাদ্দার (৫২) নামে এক গৃহবধূকে শ্বাসরোধে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর স্বামীর বিরুদ্ধে। উপজেলার ধামুসা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী অরুণ সমাদ্দার ও তাঁর কথিত প্রেমিকা সারথী দে পলাতক রয়েছেন।


নিহত পুতুল সমাদ্দার ধামুসা গ্রামের বাসিন্দা ও মৃত পুলিন নাগের মেয়ে। অভিযুক্ত অরুণ সমাদ্দার একই গ্রামের মৃত জিতেন সমাদ্দারের ছেলে। তাঁদের সংসারে এক ছেলে ও দুই মেয়ে রয়েছে।


নিহতের পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অরুণ সমাদ্দারের সঙ্গে একই গ্রামের সারথী দে নামে এক গৃহবধূর দীর্ঘদিন ধরে পরকীয়া সম্পর্ক চলছিল বলে অভিযোগ রয়েছে। এ নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। বিষয়টি নিয়ে একাধিকবার স্থানীয়ভাবে সালিস-মীমাংসা হলেও কোনো সমাধান হয়নি বলে দাবি নিহতের পরিবারের।


সম্প্রতি এ বিষয় নিয়ে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আবারও কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে রান্নাঘরে তাঁদের মধ্যে ধস্তাধস্তির ঘটনা ঘটে। এ সময় পুতুলের চিৎকার শুনে অরুণের বড় বোন পুষ্প দাস সেখানে ছুটে যান। পরে তিনি পুতুলকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন। এ ঘটনার পর অরুণ সমাদ্দার পালিয়ে যান।


নিহতের বড় বোন পুষ্পা রাণী অভিযোগ করে বলেন, অরুণের সঙ্গে একই এলাকার সারথী নামে এক গৃহবধূর পরকীয়া সম্পর্ক ছিল। এমনকি ওই নারীকে তিনি বাড়িতেও নিয়ে আসতেন। এ নিয়ে পুতুল প্রায়ই প্রতিবাদ করতেন। সেই বিরোধের জেরেই তাঁর বোনকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এ ঘটনায় অরুণ ও তাঁর কথিত প্রেমিকার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দাবি করেন তিনি।


ডাসার ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য গৌতম সরকার বলেন, পরকীয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে থাকতে পারে। ঘটনার পর থেকে নিহতের স্বামী ও অভিযুক্ত নারী পলাতক রয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করেছে।


ডাসার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোলাইমান মাহমুদ বলেন, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে পুতুল সমাদ্দারের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং এটি হত্যাকাণ্ড কি না, তা ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন ও পুলিশের তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া যাবে।


এমকে/বিএম২৪