পৌর মেয়র থেকে রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে ফখরুল
সূত্রঃ ফাইল ছবি
নিজস্ব প্রতিবেদক
ছাত্ররাজনীতি দিয়ে রাজনৈতিক জীবনের শুরু। এরপর শিক্ষকতা, সরকারি চাকরি, পৌরসভার চেয়ারম্যান, সংসদ সদস্য ও মন্ত্রিত্ব—দীর্ঘ রাজনৈতিক ও কর্মজীবনের নানা ধাপ পেরিয়ে এবার রাষ্ট্রপতি হওয়ার পথে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বৃহস্পতিবার (১৩ আগস্ট) দুপুর ২টা ২৫ মিনিটে বিএনপির শীর্ষ নেতারা নির্বাচন কমিশনে গিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) এ এম এম নাসির উদ্দিনের কাছে মির্জা ফখরুলের মনোনয়নপত্র জমা দেন। রাষ্ট্রপতি পদে প্রার্থী হওয়ায় তিনি বিএনপির মহাসচিব ও জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের জন্ম ১৯৪৮ সালের ২৬ জানুয়ারি ঠাকুরগাঁও শহরের কালীবাড়ি এলাকায়। তার বাবা মির্জা রুহুল আমিন ছিলেন আইনজীবী, সাবেক সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী। মা মির্জা ফাতেমা আমিন।
ঠাকুরগাঁওয়ে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক শিক্ষা শেষে ঢাকা কলেজ থেকে উচ্চমাধ্যমিক সম্পন্ন করেন মির্জা ফখরুল। পরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতিতে স্নাতক ও স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। ছাত্রজীবনেই তিনি রাজনীতিতে যুক্ত হন। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পূর্ব পাকিস্তান ছাত্র ইউনিয়ন শাখার সভাপতি এবং এসএম হল শাখার সাধারণ সম্পাদক ছিলেন তিনি। ১৯৬৯ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময়ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন।
রাজনীতির পাশাপাশি কর্মজীবন শুরু করেন শিক্ষকতা দিয়ে। ঢাকা কলেজ ও ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজে অর্থনীতি বিষয়ে শিক্ষকতা করেন তিনি। ১৯৭৯ সালে জিয়াউর রহমানের শাসনামলে তৎকালীন উপপ্রধানমন্ত্রী এস এ বারীর একান্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
১৯৮৬ সালে সরকারি চাকরি ছেড়ে সক্রিয় রাজনীতিতে যোগ দেন মির্জা ফখরুল। এর দুই বছর পর ১৯৮৮ সালে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন।
এরশাদবিরোধী আন্দোলনের সময় নব্বইয়ের দশকের শুরুতে তিনি বিএনপিতে যোগ দেন। ১৯৯২ সালে তাকে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির সভাপতি করা হয়।
২০০১ সালের অষ্টম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঠাকুরগাঁও-১ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মির্জা ফখরুল। ওই সময় বিএনপি সরকারের কৃষি এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
২০০৮ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। পরের বছর বিএনপির পঞ্চম জাতীয় কাউন্সিলে তাকে সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব করা হয়। খন্দকার দেলোয়ার হোসেনের মৃত্যুর পর ২০১১ সালের মার্চ থেকে প্রায় পাঁচ বছর দলের ভারপ্রাপ্ত মহাসচিবের দায়িত্ব পালন করেন তিনি। ২০১৬ সালের ৩০ মার্চ বিএনপির মহাসচিব হিসেবে দায়িত্ব পান মির্জা ফখরুল।
দীর্ঘ সময় ধরে বিএনপির রাজনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছেন তিনি। খালেদা জিয়ার কারাবাস এবং তারেক রহমানের লন্ডনে অবস্থানের সময়ে দেশে থেকে দলীয় আন্দোলন ও কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দিয়েছেন মির্জা ফখরুল।
এবার বিএনপির মনোনয়নে রাষ্ট্রপতি পদে তার প্রার্থিতা চূড়ান্ত হওয়ায় দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে দাঁড়িয়ে আছেন তিনি।
এমকে/বিএম২৪









