তারেক রহমানের টেবিলে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, ঘোষণা যেকোনো সময়

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম
তারেক রহমানের টেবিলে ছাত্রদলের নতুন কমিটি, ঘোষণা যেকোনো সময়

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক



জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নতুন কেন্দ্রীয় কমিটি গঠনের প্রক্রিয়া এখন শেষ পর্যায়ে। সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের দাবি, নতুন কমিটির একটি খসড়া বিএনপির চেয়ারম্যান ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে রয়েছে। তার চূড়ান্ত অনুমোদন পাওয়ার পর যেকোনো সময় কমিটি ঘোষণা করা হতে পারে।


তবে এ বিষয়ে এখনো বিএনপির পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো নির্দেশনা পাননি বলে জানিয়েছেন দলের সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। গত শুক্রবার তিনি জানান, ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে তার কাছে এখন পর্যন্ত কোনো আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত আসেনি।


এর মধ্যেই বৃহস্পতিবার রাতে রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারম্যানের রাজনৈতিক কার্যালয়ে তারেক রহমানের সঙ্গে ছাত্রদলের বর্তমান শীর্ষ পাঁচ নেতার বিদায়ী সাক্ষাৎ নতুন কমিটি নিয়ে জল্পনা বাড়িয়েছে। সাক্ষাতের পর বর্তমান সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বিদায়ী বার্তা দেন।


দলীয় সূত্র জানায়, বিদায়ী সাক্ষাতে সাম্প্রতিক আন্দোলন-সংগ্রামে ছাত্রদলের ভূমিকা, ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, নতুন প্রজন্মকে দায়িত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এবং বিদায়ী নেতাদের মূল দলের রাজনীতিতে সম্পৃক্ত করার বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।


সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, সরকারবিরোধী আন্দোলন এবং ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে ছাত্রদলের ভূমিকার প্রশংসা করেন তারেক রহমান। একই সঙ্গে দীর্ঘদিন দায়িত্ব পালন করা নেতাদের পরবর্তী ধাপে নিয়ে গিয়ে নতুনদের নেতৃত্বের সুযোগ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।


দুই বছরের মেয়াদ শেষ, নতুন নেতৃত্বের অপেক্ষা


২০২৪ সালের ১ মার্চ রাকিবুল ইসলাম রাকিবকে সভাপতি ও নাছির উদ্দীন নাছিরকে সাধারণ সম্পাদক করে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়। একই সময়ে আবু আফসান মোহাম্মদ ইয়াহইয়াকে সিনিয়র সহসভাপতি, শ্যামল মালুমকে সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক এবং আমান উল্লাহ আমানকে সাংগঠনিক সম্পাদক করা হয়। পরে ১৫ জুন ২৬০ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কেন্দ্রীয় কমিটি ঘোষণা করা হয়।


ছাত্রদলের খসড়া গঠনতন্ত্র অনুযায়ী কেন্দ্রীয় সংসদের মেয়াদ দুই বছর। সে হিসাবে চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি বর্তমান কমিটির মেয়াদ শেষ হয়েছে। এরপর থেকেই নতুন কমিটির শীর্ষ পদপ্রত্যাশীদের তৎপরতা বাড়তে থাকে।


আলোচনায় একাধিক নাম


নতুন কমিটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। সম্ভাব্য নেতৃত্বের তালিকায় রয়েছেন কেন্দ্রীয় সংসদের সহসভাপতি ইজাজুল কবির রুয়েল, সাংগঠনিক সম্পাদক আমান উল্লাহ আমান, এক নম্বর যুগ্ম সম্পাদক মমিনুল ইসলাম জিসান, যুগ্ম সম্পাদক ইব্রাহিম খলিল এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আবিদুল ইসলাম খান।


এ ছাড়া কাজী জিয়া উদ্দিন বাসিক, রিয়াদ রহমান, আরিফুল ইসলাম আরিফ, খোরশেদ আলম সোহেল, তরিকুল ইসলাম তারিক, মিনহাজ আহমেদ প্রিন্স, রাজু আহমেদ, গাজী সাদ্দাম হোসেন, শরীফ প্রধান শুভ, মোস্তাফিজুর রহমান শুভ, সাফি ইসলাম ও নুর আলম ভূঁইয়া ইমনের নামও আলোচনায় রয়েছে।


তবে শেষ পর্যন্ত কারা শীর্ষ দুই পদে আসছেন, তা নির্ভর করছে বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তের ওপর।


পদপ্রত্যাশীদের অনেকের প্রত্যাশা, অতীতের আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত, ত্যাগী ও সাংগঠনিকভাবে দক্ষ নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব বাছাই করা হবে। পাশাপাশি নিয়মিত শিক্ষার্থী, নারী নেতৃত্ব এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত নেতাদেরও গুরুত্ব দেওয়ার দাবি রয়েছে।


রাকিব-নাছিরের বিদায়ী বার্তা


নতুন কমিটি নিয়ে আলোচনার মধ্যেই বিদায়ী সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আবেগঘন বার্তা দেন। তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি দায়িত্ব পালনে কোনো ভুলত্রুটি হয়ে থাকলে ক্ষমা চান এবং নতুন রাজনৈতিক জীবনের জন্য শুভকামনা কামনা করেন।


সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরও একইভাবে বিদায়ী বার্তা দেন। দায়িত্ব পালনের সময় কোনো ভুল বা অন্যায় হয়ে থাকলে ক্ষমা চেয়ে তিনি জানান, পদ থেকে বিদায় নিলেও ছাত্রদলের আদর্শ ও সহযোদ্ধাদের কাছ থেকে বিদায় নেওয়া যায় না।


নতুন নেতৃত্ব নিয়ে প্রত্যাশা


ছাত্রদলের সম্ভাব্য নতুন নেতৃত্বের ক্ষেত্রে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত হওয়ার পাশাপাশি সাংগঠনিক দক্ষতা, তৃণমূলের সঙ্গে যোগাযোগ, নিয়মিত শিক্ষার্থী হওয়া এবং সাধারণ শিক্ষার্থীদের কাছে গ্রহণযোগ্যতার মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।


নেতাকর্মীদের একটি অংশ মনে করছে, অতীতের আন্দোলনে ভূমিকা রাখা নেতাদের মধ্য থেকে নেতৃত্ব বাছাই করা হলে সাংগঠনিক ধারাবাহিকতা বজায় থাকবে। অন্যদিকে আরেকটি অংশের প্রত্যাশা, ছাত্রদলকে শুধু রাজনৈতিক আন্দোলননির্ভর সংগঠন না রেখে শিক্ষার্থীদের শিক্ষা, অধিকার, নিরাপত্তা, দক্ষতা উন্নয়ন ও কল্যাণে কার্যকর ভূমিকা রাখার মতো আধুনিক ছাত্রসংগঠন হিসেবে গড়ে তোলা হবে।


সব মিলিয়ে ছাত্রদলের নতুন কমিটি ঘোষণাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়েছে। বর্তমান নেতৃত্বের বিদায়ী সাক্ষাৎ, সভাপতি-সাধারণ সম্পাদকের বিদায়ী বার্তা এবং সম্ভাব্য প্রার্থীদের তৎপরতায় নতুন কমিটি ঘোষণার আবহ তৈরি হলেও বিএনপির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা না আসা পর্যন্ত শীর্ষ দুই পদে কারা আসছেন, তা নিশ্চিত নয়।


শেষ পর্যন্ত বিএনপির শীর্ষ নেতৃত্বের সিদ্ধান্তেই নির্ধারিত হবে ছাত্রদলের নতুন নেতৃত্ব। এখন অপেক্ষা শুধু আনুষ্ঠানিক ঘোষণার।



এমকে/বিএম২৪