হাসিনার প্রত্যর্পণ: শেষ সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতে

প্রকাশিত: ১৬ আগস্ট ২০২৬, ০৩:৪৯ পিএম
হাসিনার প্রত্যর্পণ: শেষ সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতে

সূত্রঃ ফাইল ছবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক


ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ভারতের আদালতেই হবে বলে জানিয়েছে দেশটির সংবাদমাধ্যম দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।


প্রতিবেদনটিতে ভারতের উচ্চপদস্থ সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ কোনো রাজনৈতিক বা কূটনৈতিক সিদ্ধান্তের মাধ্যমে হবে না। বিষয়টি আইনি প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হবে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশে তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগগুলো ভারতের আইনেও অপরাধ হিসেবে বিবেচিত কি না, তা খতিয়ে দেখা হবে।


নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে প্রতিবেদনে বলা হয়, অভিযোগ করা অপরাধগুলো ভারতের প্রচলিত আইন অনুযায়ীও অপরাধ হিসেবে গণ্য হয় কি না, আদালতের প্রক্রিয়ায় সেটিই পরীক্ষা করা হবে।


এদিকে আরেক কর্মকর্তার বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনা আগামী ডিসেম্বর দেশে ফেরার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। গত ৫ আগস্ট দিল্লি থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি ডিসেম্বরেই দেশে ফেরার কথা জানিয়েছিলেন।


বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনাকে ফেরত পাঠানোর আহ্বানের বিষয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল জানিয়েছেন, নির্ধারিত ও প্রতিষ্ঠিত প্রক্রিয়া অনুসরণ করে বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে।


ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তাও জানিয়েছেন, বাংলাদেশ যে প্রত্যর্পণ আবেদন পাঠিয়েছে, তার সঙ্গে ২০১৩ সালের দ্বিপক্ষীয় প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনি নথিপত্র রয়েছে।


ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস-এর প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগের সাবেক সংসদ সদস্যদের বরাতে আরও বলা হয়েছে, দিল্লির একটি নিরাপদ স্থানে অবস্থান করে দলীয় নেতাকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন শেখ হাসিনা। দলের নেতাদের সঙ্গে সরাসরি বৈঠকের পাশাপাশি নিজেকে ফিট রাখতে তিনি নিয়মিত টেবিল টেনিস খেলছেন বলেও প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।


তবে ভারতের আদালতে প্রত্যর্পণ প্রক্রিয়া শুরু হলে সেটিকে আইনি পথে চ্যালেঞ্জ করার প্রস্তুতি নিচ্ছেন আওয়ামী লীগের প্রতিনিধিরা। তাদের সম্ভাব্য যুক্তি হতে পারে, শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দেওয়া রায়টি অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদে দেওয়া হয়েছে।


উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের মুখে শেখ হাসিনা ভারতে আশ্রয় নেন। পরে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল তাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড দেন।


২০১৩ সালের ভারত-বাংলাদেশ প্রত্যর্পণ চুক্তি অনুযায়ী, আদালতে অভিযুক্ত বা সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে হস্তান্তরের বিধান রয়েছে। তবে চুক্তির ৬ নম্বর অনুচ্ছেদে রাজনৈতিক প্রকৃতির অপরাধ প্রত্যর্পণের আওতার বাইরে রাখা হলেও হত্যা, নরহত্যা ও আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের মতো গুরুতর অপরাধের ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রয়েছে।


প্রত্যর্পণসংক্রান্ত বিষয়টি ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার, পাসপোর্ট ও ভিসা (সিপিভি) বিভাগ এবং আদালতের নিয়োজিত ম্যাজিস্ট্রেটের মাধ্যমে আইনি প্রক্রিয়ায় যাচাই করা হবে।



এমকে/বিএম২৪