এক্সপ্রেসওয়েতে মিলল ইসমাইলের মরদেহ, সঙ্গে ছিল মেয়ের বিয়ের টাকা

প্রকাশিত: ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫০ এএম
এক্সপ্রেসওয়েতে মিলল ইসমাইলের মরদেহ, সঙ্গে ছিল মেয়ের বিয়ের টাকা

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক


মেয়ের বিয়ের জন্য জমি বিক্রি করে পাওয়া টাকা সঙ্গে নিয়ে জামালপুর থেকে ঢাকায় ফিরছিলেন ইসমাইল হোসেন (৫০)। কিন্তু বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা চূড়ান্ত করার আগেই তার যাত্রা থেমে যায়। রাজধানীর ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ের বনানী অংশ থেকে মুখে স্কচটেপ লাগানো অবস্থায় তার মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।


শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৮টার পর বনানী থানা পুলিশ মরদেহটি উদ্ধার করে। পরে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়। এ সময় ইসমাইলের সঙ্গে থাকা নগদ ৫ লাখ টাকা, দুটি মোবাইল ফোন ও একটি বাজারের ব্যাগ পাওয়া যায়নি।


নিহত ইসমাইল হোসেন জামালপুর সদর উপজেলার হবদেশ গ্রামের জালাল উদ্দিনের ছেলে। তিনি ডেল্টা স্পিনিং মিলে নিরাপত্তাকর্মী হিসেবে কাজ করতেন। অসুস্থতার কারণে প্রায় নয় মাস আগে চাকরি ছেড়ে দেন। এরপর কিছুদিন স্ত্রী, দুই সন্তান ও পুত্রবধূকে নিয়ে কাশিমপুরে ছিলেন। গত চার মাস ধরে তিনি গ্রামের বাড়িতে বসবাস করছিলেন। তার স্ত্রী, ছেলে ও মেয়ে পরিবারসহ গাজীপুরে থাকেন।


ইসমাইলের ছেলে হাসান জানান, বৃহস্পতিবার রাত ১১টার দিকে তার বাবা ফোন করে বলেন, সকালে ঢাকায় পৌঁছাবেন। প্রথমে তার গাজীপুরের জিরানীতে যাওয়ার কথা ছিল। সেখানে অপেক্ষা করেও বাবাকে না পেয়ে একাধিকবার ফোন করেন তিনি। কিন্তু ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বনানী থানা পুলিশ জামালপুরের গ্রামের বাড়ির পুলিশ ফাঁড়িতে যোগাযোগ করলে পরিবারের সদস্যরা ইসমাইলের মৃত্যুর খবর জানতে পারেন।


হাসান বলেন, ছোট মেয়ে শারমিনের বিয়ের কথা চূড়ান্ত করতেই তার বাবা ঢাকায় আসছিলেন। বিয়ের খরচ জোগাতে সম্প্রতি ১১ শতাংশ জমি সাড়ে ১০ লাখ টাকায় বিক্রি করেন তিনি। ওই টাকা থেকে ২ লাখ টাকা ঋণ পরিশোধ এবং গ্রামের বাড়িতে ঘর নির্মাণে কিছু অর্থ খরচ করেন। বাকি ৫ লাখ টাকা সঙ্গে নিয়ে বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ঢাকার উদ্দেশে বাড়ি থেকে বের হন।


পরিবারের সদস্যরা জানান, ইসমাইলের সঙ্গে একটি অ্যান্ড্রয়েড ফোন, একটি বাটন ফোন এবং বাজারের ব্যাগ ছিল। মরদেহ উদ্ধারের সময় এসবের কোনোটিই পাওয়া যায়নি।


বনানী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নজরুল ইসলাম তালুকদার বলেন, মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড, নাকি মলম পার্টি বা অজ্ঞান পার্টির সদস্যদের কর্মকাণ্ড—তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ টাকা ও মোবাইল ফোন উদ্ধারের চেষ্টা চলছে।



এমকে/বিএম২৪