এনসিটি ইজারা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ ‎

প্রকাশিত: ২৯ জানুয়ারি ২০২৬, ১১:১১ পিএম
এনসিটি ইজারা নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে বিস্ফোরক অভিযোগ  ‎

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

‎জাতীয় স্বার্থ উপেক্ষা করে নির্বাচনের আগে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তির শেষ পর্যায়ে সরকার: শ্রমিক ঐক্য পরিষদ

‎চট্টগ্রাম বন্দরের সবচেয়ে আধুনিক, লাভজনক ও কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) বিদেশি কোম্পানি ডিপি ওয়ার্ল্ডের কাছে ইজারা দেওয়ার উদ্যোগকে জাতীয় স্বার্থবিরোধী, আইনগতভাবে জটিল ও রাজনৈতিকভাবে আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত হিসেবে আখ্যায়িত করেছে চট্টগ্রাম শ্রমিক কর্মচারী ঐক্য পরিষদ (স্কপ)।

‎বুধবার (২৯ জানুয়ারি) বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের এস রহমান হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অভিযোগ করেন, একটি অনির্বাচিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার আদালতে বিচারাধীন থাকা সত্ত্বেও এবং জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গোপনে ও তাড়াহুড়ো করে এনসিটি ইজারা চুক্তি চূড়ান্ত করার অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।

‎সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্রে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী আগামী ১ ফেব্রুয়ারি ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে এনসিটি ইজারা চুক্তি চূড়ান্ত করার লক্ষ্যে সরকারি কার্যক্রম শেষ পর্যায়ে রয়েছে, অথচ এর মাত্র ১০ দিন পর ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে দেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন। এই সিদ্ধান্তকে নজিরবিহীন ও অগ্রহণযোগ্য বলে উল্লেখ করেন শ্রমিক নেতারা।

‎স্কপ নেতারা বলেন, ২০২৫ সালের জুন মাস থেকে দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ রক্ষার দাবিতে এনসিটি ইজারা বিরোধী আন্দোলন চলমান রয়েছে। সংবাদ সম্মেলন, মশাল মিছিল, লাল পতাকা মিছিল, বন্দর অবরোধসহ নানা কর্মসূচির মাধ্যমে এই আন্দোলন আজ একটি সর্বজনীন জাতীয় আন্দোলনে রূপ নিয়েছে। বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন ও দেশপ্রেমিক রাজনৈতিক দলও এতে একাত্মতা প্রকাশ করেছে।

‎তারা আরও বলেন, এনসিটি ইজারা সংক্রান্ত রিট বর্তমানে উচ্চ আদালতে বিচারাধীন। বেঞ্চ পুনর্গঠনের পর মামলাটি এখনো নিষ্পত্তিহীন অবস্থায় রয়েছে এবং এমন পরিস্থিতিতে সরকারের সিদ্ধান্ত এগিয়ে নেওয়া চরম অনৈতিকতা ও আইনের প্রতি অবমাননার শামিল।

‎সংবাদ সম্মেলনে ছয়টি মৌলিক কারণে এনসিটি ইজারার বিরোধিতা করা হয়। এর মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম বন্দরের ভূরাজনৈতিক ও কৌশলগত গুরুত্ব, পর্যাপ্ত দেশীয় সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও বিদেশি কোম্পানির হাতে টার্মিনাল তুলে দেওয়ার অযৌক্তিকতা, ডিপি ওয়ার্ল্ডের আন্তর্জাতিক রেকর্ড নিয়ে প্রশ্ন, ৪০ বছরের দীর্ঘমেয়াদি ইজারার ঝুঁকি, চুক্তি লঙ্ঘনে রাষ্ট্রের কার্যকর প্রতিকারহীনতা এবং একটি অনির্বাচিত সরকারের মাধ্যমে জাতীয় সম্পদ হস্তান্তরের সাংবিধানিক ও নৈতিক বৈধতার অভাব।

‎স্কপ নেতারা অতীতের লালদিয়ার চর ও পানগাঁও বন্দর ইজারার উদাহরণ টেনে বলেন, অতীতেও একই ধরনের তাড়াহুড়ো করে নেওয়া সিদ্ধান্তে দেশের স্বার্থ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এনসিটি নিয়েও একই ষড়যন্ত্র পুনরাবৃত্তির আশঙ্কা করছেন তারা।

‎সংবাদ সম্মেলন থেকে হুঁশিয়ারি দিয়ে বলা হয়, সরকার যদি জাতীয় মতামত উপেক্ষা করে এনসিটি ইজারা দেওয়ার চেষ্টা চালায়, তবে দেশের শ্রমজীবী মানুষ ও সচেতন জনগণ তা কখনো মেনে নেবে না। এর ফলে যদি কোনো গণআন্দোলন বা গণবিস্ফোরণ ঘটে, তার সম্পূর্ণ দায় বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকেই নিতে হবে।

‎এ সময় ঘোষিত কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে

‎আগামী ৩১ জানুয়ারি ও ১ ফেব্রুয়ারি বন্দর শ্রমিক দলের কর্মবিরতিতে সর্বাত্মক সমর্থন এবং ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১১টায় বন্দর ভবন অভিমুখে কালো পতাকা সম্বলিত বিক্ষোভ মিছিল।

‎শেষে সকল দেশপ্রেমিক ও প্রগতিশীল রাজনৈতিক দলসহ জনগণকে দল-মত নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধ হয়ে এনসিটি ইজারা বিরোধী প্রতিরোধ গড়ে তোলার আহ্বান জানানো হয়।



বা/মে২৪/ম