লেজকাটা পশু দিয়ে কুরবানী জায়েয?
কুরবানি আসলে মাসআলা না জানার ফলে পশুর ক্ষেত্রে আমরা অনেকগুলো ভুল করে ফেলি,শিং থাকা, শিং না থাকা,লেজ না থাকা, লেজ অল্প কাটা, অধিকাংশ লেজ কাটা।আজকের পর্বে আমরা জানবো কুরবানির পশুর লেজ নিয়ে আদ্যোপান্ত।
কুরবানির পশুর শরীরে এমন কোনো ত্রুটি থাকা যাবে না, যা পশুর সৌন্দর্য, স্বাভাবিক গঠন বা মাংসকে স্পষ্টভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।কিংবা তার স্বাভাবিক গঠনের বিকৃতি ঘটায়। এ কারণেই ফকিহগণ লেজ, কান কিংবা শিংয়ের বড় অংশ কাটা থাকাকে গুরুত্বপূর্ণ “আয়ব” (ত্রুটি) হিসেবে গণ্য করেছেন।
রাসূলুল্লাহ ﷺ কুরবানির অযোগ্য পশুর বর্ণনা দিতে গিয়ে ইরশাদ করেন—
عَنْ الْبَرَاءِ بْنِ عَازِبٍ رضي الله عنه قَالَ: قَالَ رَسُولُ اللَّهِ ﷺ:
«أَرْبَعٌ لَا تَجُوزُ فِي الْأَضَاحِيِّ: الْعَوْرَاءُ الْبَيِّنُ عَوَرُهَا، وَالْمَرِيضَةُ الْبَيِّنُ مَرَضُهَا، وَالْعَرْجَاءُ الْبَيِّنُ ظَلَعُهَا، وَالْكَسِيرَةُ الَّتِي لَا تُنْقِي»
অর্থ—"চার ধরনের পশু দ্বারা কুরবানি সহীহ নয়—
স্পষ্ট কানা পশু, স্পষ্ট রোগাক্রান্ত পশু, স্পষ্ট খোঁড়া পশু এবং এমন দুর্বল পশু যার হাড়ে মজ্জা নেই।"
এই হাদিসের আলোকে ইমামগণ কিয়াস করে বলেছেন, পশুর এমন বড় ত্রুটি যা তার অঙ্গ-প্রত্যঙ্গের স্বাভাবিকতা নষ্ট করে দেয়, সেটিও কুরবানির ক্ষেত্রে অযোগ্যতার কারণ হবে।
হানাফি ফিকহের নির্ভরযোগ্য কিতাবে এসেছে—
“وَلَا تَجُوزُ الْبَتْرَاءُ وَهِيَ الَّتِي ذَهَبَ أَكْثَرُ ذَنَبِهَا”
অর্থ—"যে পশুর অধিকাংশ লেজ কাটা গেছে, তা দ্বারা কুরবানি জায়েজ নয়।"
আরও এসেছে—
“إن قطع من الذنب الثلث فأكثر لا يجوز"
অর্থ—"লেজের এক-তৃতীয়াংশ বা তার বেশি কাটা থাকলে কুরবানি জায়েজ হবে না।"
সুতরাং লেজের সামান্য অংশ কাটা থাকলে কুরবানি সহীহ হতে পারে, তবে মাকরূহ।
লেজের বড় অংশ — বিশেষত অর্ধেক বা তার বেশি কাটা থাকলে কুরবানি সহীহ হবে না।
তবে পশু যদি জন্মগতভাবেই ছোট লেজের হয়, তাহলে সেটি ত্রুটি হিসেবে গণ্য হবে না।
লেখক—মো: ফরিদ উদ্দিন








