চারঘাটে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে বিএনপি নেতা বিতর্কে, তদন্তে প্রশাসন

প্রকাশিত: ২৬ মে ২০২৬, ০৮:৫৫ পিএম
চারঘাটে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগে বিএনপি নেতা বিতর্কে, তদন্তে প্রশাসন
রানা শেখ,  বাঘা প্রতিনিধি:
রাজশাহীর চারঘাট উপজেলায় সরকারি রাস্তা ও খালের ধারের শতাধিক গাছ কেটে বিক্রির অভিযোগ উঠেছে স্থানীয় এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অভিযুক্ত মো. মোখছেদুল নিমপাড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, খাল খনন কার্যক্রম শুরুর আগেই রাস্তা ও খালের মাঝামাঝি স্থানে থাকা মেহগনি গাছ কেটে বিক্রি করা হচ্ছে। অভিযোগ রয়েছে, কয়েকদিন ধরে প্রকাশ্যে গাছ কাটা ও সরিয়ে নেওয়ার কাজ চললেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো পদক্ষেপ দেখা যায়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, চারঘাট উপজেলার ভাটপাড়া এলাকার ইচিমারি কালভার্ট সংলগ্ন খাল ও পাকা রাস্তার ধারে থাকা শতাধিক মেহগনি গাছ ইতোমধ্যে কেটে ফেলা হয়েছে। কাটা গাছ ইঞ্জিনচালিত যানবাহনে করে বিভিন্ন স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
স্থানীয়দের দাবি, প্রায় দুই বছর আগেও একইভাবে সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ ওঠে মোখছেদুলের বিরুদ্ধে। সে সময় প্রশাসন গ্রাম পুলিশের মাধ্যমে কাটা গাছ জব্দ করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যায়। সেই গাছগুলো এখনও ইউনিয়ন পরিষদ প্রাঙ্গণে পড়ে রয়েছে। পরে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) তার কাছ থেকে মুচলেকা নিয়ে ছেড়ে দেন বলে জানা গেছে।

অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে মো. মোখছেদুল দাবি করেন, গাছগুলো তার চাচা এজাজুল হক লাগিয়েছিলেন। তিনি বলেন, “আমার চাচা অসুস্থ হয়ে পড়েছেন। তিনিই গাছগুলো ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকায় বিক্রি করেছেন। আমি শুধু বিষয়টি দেখাশোনা করছি।”

তিনি আরও দাবি করেন, রাস্তা ও খালের মাঝামাঝি যে স্থানে গাছগুলো ছিল সেটি তাদের নিজস্ব জমি। তার ভাষ্য, “খাল ও রাস্তা আমাদের জমির ওপর দিয়েই গেছে।”

তবে দুই বছর আগে প্রশাসনের কাছে গাছ না কাটার অঙ্গীকার করার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা অস্বীকার করে বলেন, “এসি ল্যান্ড আমাদের কোনো সতর্কবার্তা দেননি।”

এ বিষয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) চারঘাট উপজেলা প্রকৌশলী রতন কুমার ফৌজদার বলেন, “রাস্তা ও খালের ধারের সরকারি গাছ কাটা সম্পূর্ণ অবৈধ। বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

চারঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, “সরকারি গাছ কাটার অভিযোগ গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত চলছে। সত্যতা মিললে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

স্থানীয়দের আশঙ্কা, প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে সরকারি সম্পদ দখল ও পরিবেশ ধ্বংসের ঘটনা আরও বাড়তে পারে।