ওমরাহে যাওয়ার পথে গ্রেপ্তার অভিনেতা ডন
সূত্রঃ ফাইল ছবি
বিনোদন ডেস্ক
চিত্রনায়ক সালমান শাহ হত্যা মামলায় নাম থাকায় ওমরাহ পালনের উদ্দেশে সৌদি আরব যাওয়ার পথে গ্রেপ্তার হয়েছেন অভিনেতা ও খলনায়ক ডন। রোববার (৯ আগস্ট) দুপুরে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তাকে হেফাজতে নেয় পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে তাকে আদালতে পাঠানো হয়।
সিআইডি সূত্র জানায়, ওমরাহ পালনের জন্য রোববার সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল ডনের। পাসপোর্ট অনুযায়ী সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তার একটি ফ্লাইট ছিল। তবে সালমান শাহ হত্যা মামলায় আসামি হিসেবে তার নাম থাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে বিদেশ যেতে বাধা দেয়। এরপর দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে সিআইডি তাকে হেফাজতে নেয়।
বিমানবন্দর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) কামরুল হাসান তালুকদার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সিআইডির ঢাকা মেট্রো পশ্চিমের বিশেষ পুলিশ সুপার গোলাম বেনজীর জানান, ডনকে এরই মধ্যে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
সিআইডি জানায়, সালমান শাহ হত্যা মামলার ১১ আসামির তালিকায় ডনের নাম রয়েছে। গত বছর আদালত তাদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা জারি করেন। ওই সময় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের কাছে রিকুইজিশন পাঠিয়ে এজাহারভুক্ত আসামিদের বিদেশযাত্রা ঠেকানোর অনুরোধ করেছিলেন।
গোলাম বেনজীর বলেন, রোববার সকাল ৬টার দিকে ওমরাহ পালনের উদ্দেশ্যে সৌদি আরব যাওয়ার জন্য ডন বিমানবন্দরে যান। মামলায় তার নাম থাকায় ইমিগ্রেশন পুলিশ তাকে আটকে দেয়। পরে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সালমান শাহ হত্যা মামলা
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনে নিজের ফ্ল্যাট থেকে চিত্রনায়ক সালমান শাহর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। সে সময় দেশের চলচ্চিত্র অঙ্গনে তুমুল জনপ্রিয় ছিলেন তিনি।
ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন সালমান শাহর বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী। পরে সালমানকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ তুলে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি।
আদালতের নির্দেশে বিষয়টি তদন্ত করে সিআইডি। ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর দেওয়া চূড়ান্ত প্রতিবেদনে সিআইডি জানায়, সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন। তবে ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে রিভিশন মামলা করেন তার বাবা। ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়।
দীর্ঘ ১১ বছর পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়। সেখানেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়। তবে সালমানের মা নীলা চৌধুরী ওই প্রতিবেদনে নারাজি দেন। তিনি ১১ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের ছেলের মৃত্যুর সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগ তোলেন।
পরবর্তী সময়ে মামলাটির তদন্তের দায়িত্ব পায় র্যাব। পরে আদালতের নির্দেশে র্যাব তদন্ত থেকে সরে গেলে পিবিআইকে তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয়। চার বছর তদন্তের পর ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি পিবিআই চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে হত্যার অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে উল্লেখ করা হয়।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে বলা হয়, চিত্রনায়িকা শাবনূরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতা নিয়ে পারিবারিক কলহ এবং স্ত্রী সামিরার কারণে মা নীলা চৌধুরীর কাছ থেকে দূরে থাকার মানসিক কষ্টে সালমান আত্মহত্যা করেছিলেন।
পিবিআইয়ের প্রতিবেদনেও আপত্তি জানান নীলা চৌধুরী। পরে ২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন।
এরপর সালমানের পরিবারের পক্ষ থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতে রিভিশন আবেদন করা হয়। ২০২৫ সালের অক্টোবরে ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক ওই রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। মামলাটি নতুন করে আইনি প্রক্রিয়ায় এগোতে থাকে।
এমকে/বিএম২৪









