কুড়িগ্রামে ১০ চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৯

প্রকাশিত: ১৯ এপ্রিল ২০২৬, ০৮:৪৮ পিএম
কুড়িগ্রামে ১০ চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, গ্রেপ্তার ৯

শাহীন আহমেদ, কুড়িগ্রাম প্রতিনিধি: 

কুড়িগ্রামে ১০টি চোরাই মোটরসাইকেল ও চোর চক্রের ৯ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। রোববার (১৯ এপ্রিল) বিকেলে জেলা পুলিশ আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এমন তথ্য জানান পুলিশ।

পুলিশ জানায়, গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারি মাসে কুড়িগ্রাম সদর এলাকার কোর্ট চত্বর, নিউরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার, সদর হাসপাতাল ও জিয়া বাজার এলাকা থেকে চারটি মোটরসাইকেল চুরি হয়। এর মধ্যে ১৭ জানুয়ারি সন্ধ্যায় সদর উপজেলার হাসপাতাল পাড়া এলাকার নিউরন ডায়াগনস্টিক সেন্টার থেকে একটি টিভিএস অ্যাপাচি ১৬০ সিসি মোটরসাইকেল চুরির ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়। ঘটনার পর পুলিশ সিসিটিভি ফুটেজ ও তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় চোরচক্রের সদস্যদের শনাক্ত করে।

পরে অভিযান চালিয়ে গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকা থেকে শাহজামাল ওরফে বাবু ও নুর ইসলামকে একটি চোরাই মোটরসাইকেলসহ গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে লালমনিরহাট, উলিপুর, নাগেশ্বরী ও ফুলবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে আরও ৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন- রাজারহাট উপজেলার বদ্দের বাজারের শাহজামাল ওরফে বাবু মিয়া, জামালপুর সদরের নারায়নপুরের নুর ইসলাম, উলিপুর উপজেলার জানজায়গীর এলাকার খাইরুল ইসলাম বাবু, নাগেশ্বরী উপজেলার দক্ষিণ ব্যাপারীরহাটের রেজাউল হাসান ওরফে বারেক, নাগেশ্বরীর কুটি পয়রাডাঙ্গার রফিকুল ইসলাম, লালমনিরহাটের বড়বাড়ি শিবরাম এলাকার মিটুল মিয়া ওরফে পাশা, ফুলবাড়ী উপজেলার সিটরাবাইটারীর খায়রুল আলম, নাগেশ্বরী পৌরসভার গোদ্দারপাড়ের আজিজুল হক ও লালমনিরহাটের বনগ্রাম কুলাঘাট এলাকার আনিছুর রহমান।

পুলিশ জানায়, চক্রটি দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় মোটরসাইকেল চুরি করে কম দামে বিক্রি করত। পরে ভুয়া কাগজপত্র তৈরি করে সেগুলো বেশি দামে সাধারণ মানুষের কাছে বিক্রি করতো। এ ঘটনায় গ্রেপ্তারকৃত কয়েকজন আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

উদ্ধার হওয়া ১০টি মোটরসাইকেলের মধ্যে দুটির মালিকানা শনাক্ত করে সংশ্লিষ্ট মামলার তদন্ত কর্মকর্তার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। আরও একটি মোটরসাইকেল মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের হেফাজতে রয়েছে। যা আদালতের নির্দেশে মালিককে ফেরত দেওয়া হবে। বাকি সাতটি মোটরসাইকেল কুড়িগ্রাম থানা হেফাজতে রয়েছে এবং সেগুলোর মালিকানা যাচাই চলছে।

এ ঘটনায় কুড়িগ্রাম থানায় দুটি, লালমনিরহাট সদর থানায় একটি এবং রাজারহাট থানায় একটি মামলা দায়ের হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

এ বিষয়ে কুড়িগ্রাম পুলিশ সুপার খন্দকার ফজলে রাব্বি বলেন, চোরচক্র দমনে জেলা পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত রয়েছে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় অপরাধীদের দ্রুত শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনা হচ্ছে। জনগণের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে।