সরকার এখনই এগোচ্ছে না, পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হলে প্রকল্প গ্রহণ নয় স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার ইঙ্গিত
মোহাম্মদ ইব্রাহিম , চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:
চট্টগ্রাম নগরীর সিআরবি এলাকায় হাসপাতাল নির্মাণ নিয়ে নতুন করে যে আলোচনা ও গুঞ্জন তৈরি হয়েছে, তা নাকচ করে দিয়েছেন রেলমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
তিনি জানিয়েছেন, এই মুহূর্তে সরকার এ ধরনের কোনো প্রকল্প বাস্তবায়নে এগোচ্ছে না এবং এ বিষয়ে এখনো কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্তও হয়নি।
রোববার (১৯ এপ্রিল) সন্ধ্যায় সিআরবি এলাকার রেলওয়ের জায়গা পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
রেলমন্ত্রী জানান, তার এই পরিদর্শনের মূল উদ্দেশ্য ছিল সিআরবির বর্তমান অবস্থা সরেজমিনে দেখা। সেখানে কোনো অবৈধ স্থাপনা রয়েছে কি না, বিদ্যমান রেলওয়ে অফিস ও কোয়ার্টারগুলোর অবস্থান কী এসব বিষয় পর্যালোচনা করতেই তিনি এলাকাটি ঘুরে দেখেন।
সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, অতীতে এখানে প্রথমে ২০০ শয্যা এবং পরে ৫০০ শয্যার একটি হাসপাতাল নির্মাণের প্রস্তাব আসে, যা পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) পদ্ধতিতে বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ছিল এবং অনুমোদনও পেয়েছিল। তবে পরিবেশ ও ঐতিহ্য রক্ষার প্রশ্নে স্থানীয় জনগণ ও নাগরিক সমাজের আপত্তির মুখে প্রকল্পটি আর এগোয়নি।
আন্দোলনকারীদের মতে, সিআরবি চট্টগ্রামের ‘ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত এবং এটি ক্ষতিগ্রস্ত হলে নগরীর পরিবেশগত ভারসাম্যে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
তিনি আরও বলেন, বিষয়টি নিয়ে চট্টগ্রামের বিভিন্ন স্টেকহোল্ডার, নাগরিক সমাজ ও সংশ্লিষ্ট পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে একটি সমাধান প্রস্তাব সংসদীয় স্থায়ী কমিটির পর্যায়ে ছিল। তবে বর্তমান সরকার এখনো সেটি বিবেচনায় নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেয়নি।
পিপিপি প্রকল্প প্রসঙ্গে রেলমন্ত্রী জানান, সে সময় প্রকল্প বাস্তবায়নের অংশ হিসেবে ডিপোজিটও জমা দেওয়া হয়েছিল। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কী করা হবে, তা সংশ্লিষ্ট সকল পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করেই নির্ধারণ করা হবে।
বিকল্প স্থানে হাসপাতাল নির্মাণের কোনো সিদ্ধান্ত রয়েছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আগের প্রস্তাবনায় বলা হয়েছিল, কোনো গাছপালা ক্ষতিগ্রস্ত না করে এবং বিদ্যমান পরিবেশ অক্ষুণ্ন রেখে সম্ভাবনা থাকলে হাসপাতাল নির্মাণ করা যেতে পারে। তবে বর্তমান সরকার এ বিষয়ে এখনো কোনো অবস্থান নেয়নি।
সিআরবিকে ঘিরে চলমান আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আন্দোলন গণতান্ত্রিক অধিকারের অংশ। কে আন্দোলন করছে, তা তাদের বিষয়। তবে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যে পিপিপি প্রক্রিয়ায় অগ্রসর হয়েছিল, সেটি এখন বাস্তবায়নের পথে রয়েছে এমন কোনো বাস্তবতা নেই।
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়রের সঙ্গে এ বিষয়ে কোনো আলোচনা হয়নি বলেও জানান তিনি। মন্ত্রী বলেন, মেয়র শুধু জানিয়েছেন যে, একটি অংশ সেখানে হাসপাতাল নির্মাণের বিপক্ষে। মানুষের এমন মতামত থাকতেই পারে এবং পরিবেশ নিয়ে উদ্বেগও স্বাভাবিক। তবে কোনো প্রকল্প যৌক্তিক ও জনবান্ধব হলে সরকার তা অবশ্যই বিবেচনায় নেবে।
তিনি স্পষ্ট করে বলেন, পরিবেশের ক্ষতি করে চট্টগ্রামবাসীকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে কোনো প্রকল্প গ্রহণ করা হবে না। তবে যদি কোনো প্রকল্প বাস্তবিক অর্থে জনকল্যাণে আসে এবং প্রয়োজনীয় হয়, তাহলে তা গুরুত্বসহকারে বিবেচনা করা হবে।
রেলমন্ত্রী আরও বলেন, সিআরবিতে হাসপাতাল নির্মাণে সরকার বাধ্য বা অগ্রসর হচ্ছে এমন কোনো পরিস্থিতি নেই। ভবিষ্যতে এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হলে তা চট্টগ্রামবাসীকে সঙ্গে নিয়েই নেওয়া হবে।
সবশেষে তিনি জানান, বর্তমান সরকারের সময়ে রেলওয়ের কোনো জমি লিজ দিয়ে বাণিজ্যিক বা সুবিধাভোগী স্থাপনা নির্মাণের সুযোগ নেই।








