‎২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবেদন মঞ্জুর, বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধীদের পাশে মানবিক জেলা প্রশাসক

প্রকাশিত: ২০ জুলাই ২০২৬, ১০:৩১ পিএম
‎২৪ ঘণ্টার মধ্যেই আবেদন মঞ্জুর, বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধীদের পাশে মানবিক জেলা প্রশাসক

‎মোহাম্মদ ইব্রাহিম, চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:

একটি লিখিত আবেদন হাতে পৌঁছানোর ২৪ ঘণ্টারও কম সময়ের মধ্যে ২০০ জন বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের জন্য জরুরি ত্রাণ সহায়তার ব্যবস্থা করেছে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসন। শুধু ত্রাণ বরাদ্দ অনুমোদনেই সীমাবদ্ধ থাকেননি জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা; পূর্বনির্ধারিত ব্যস্ত কর্মসূচির মাঝেও নিজে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের হাতে ত্রাণসামগ্রী তুলে দিয়েছেন। দ্রুত সিদ্ধান্ত ও মানবিক উদ্যোগে তাঁর এই পদক্ষেপ প্রশংসিত হয়েছে বিভিন্ন মহলে।

‎সোমবার (২০ জুলাই) বিকেলে নগরীর লালখানবাজারস্থ শহীদ নগর সিটি কর্পোরেশন বালিকা উচ্চবিদ্যালয় প্রাঙ্গণে চট্টগ্রাম জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এবং জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় ২০০ জন বন্যাদুর্গত প্রতিবন্ধী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের মাঝে জরুরি ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়।

‎জানা যায়, রোববার (১৯ জুলাই) সামাজিক সেবামূলক প্রতিষ্ঠান ডিজএ্যাবল্ড ডেভেলপমেন্ট অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার (ডিডিআরসি)-এর নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করেন। আবেদনে তিনি উল্লেখ করেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন প্রতিবন্ধী ব্যক্তি, শিশু ও যুবকদের অনেকেই সাধারণ ত্রাণকেন্দ্রে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে খাদ্য সংগ্রহ করতে পারছেন না। তাঁদের জন্য জরুরি খাদ্যসহায়তা নিশ্চিত করার অনুরোধ জানানো হয়।

‎আবেদন পাওয়ার পরপরই জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ জাহিদুল ইসলাম মিঞা সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে তিনি নিজেও ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে ক্ষতিগ্রস্তদের হাতে সহায়তা তুলে দেন।

‎অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা প্রশাসক বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে থাকেন শিশু, নারী, প্রবীণ এবং প্রতিবন্ধী মানুষ। তাই তাঁদের বিষয়ে আবেদন পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মনে করেছেন, দেরি না করে দ্রুত তাঁদের পাশে দাঁড়ানোই প্রশাসনের দায়িত্ব।

‎তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যা পরিস্থিতিতে জেলা প্রশাসনের পাশাপাশি সেনাবাহিনী, বিমান বাহিনী, র‍্যাব, বিজিবি, পুলিশ, বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠান এবং বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থাগুলো সমন্বিতভাবে কাজ করেছে। সম্মিলিত এই প্রচেষ্টার ফলেই দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।

‎জেলা প্রশাসক আরও বলেন, "আমরা সবাইকে নিয়ে একটি মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই। প্রতিবন্ধী বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষদের বাদ দিয়ে কখনোই একটি অন্তর্ভুক্তিমূলক সমাজ গড়া সম্ভব নয়। রাষ্ট্রের প্রতিটি সেবায় তাঁদের সমান অধিকার নিশ্চিত করতে হবে।"

‎ডিডিআরসির নির্বাহী পরিচালক শহীদুল ইসলাম সাজ্জাদ বলেন, আবেদন পাওয়ার পর জেলা প্রশাসক তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া দিয়ে প্রয়োজনীয় সহায়তার আশ্বাস দেন। ব্যস্ত কর্মসূচির মধ্যেও নিজে উপস্থিত থেকে ত্রাণ বিতরণ করায় তিনি জেলা প্রশাসকের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

‎জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের সহায়তায় বিতরণ করা প্রতিটি ত্রাণ প্যাকেটে ছিল ৫ কেজি চাল, ১ কেজি ডাল, ১ লিটার ভোজ্যতেল, ২ কেজি চিড়া, ১ কেজি চিনি, ফ্যামিলি সাইজ বিস্কুট, ৫ লিটার বিশুদ্ধ পানি, মোমবাতি, লাইটার, ওরস্যালাইন এবং প্রয়োজনীয় ওষুধ।

‎ত্রাণ বিতরণ অনুষ্ঠানে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. শরীফ উদ্দিনসহ জেলা প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা এবং ডিডিআরসি ও জাগরণী চক্র ফাউন্ডেশনের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

‎সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে উদ্ধার, আশ্রয়, চিকিৎসা, খাদ্য সহায়তা ও পুনর্বাসন কার্যক্রমের পাশাপাশি বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন মানুষের জন্য পৃথক সহায়তার এই উদ্যোগকে মানবিক প্রশাসনের একটি উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।