৩৫ বছর পর সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ

প্রকাশিত: ২০ আগস্ট ২০২৬, ১০:১২ এএম
৩৫ বছর পর সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আজ

সূত্রঃ সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক



সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগের পর আজ জাতীয় সংসদ ভবনে অনুষ্ঠিত হচ্ছে দেশের ২৩তম রাষ্ট্রপতি নির্বাচন। দীর্ঘ ৩৫ বছর পর এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থীর মধ্যে সরাসরি ভোটাভুটির মাধ্যমে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হতে যাচ্ছেন। জাতীয় সংসদের সদস্যরা প্রত্যক্ষ ভোটে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করবেন।


দেশে গত তিন দশক ধরে জাতীয় সংসদের সংখ্যাগরিষ্ঠ দলের মনোনীত প্রার্থীরাই সাধারণত বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হয়ে আসছিলেন। তবে এবার জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোট আলাদা প্রার্থী দেওয়ায় সেই ধারায় পরিবর্তন এসেছে।


এবারের নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। অন্যদিকে জামায়াত নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ড. অলি আহমদ বীর বিক্রম।


নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, আজ ২০ আগস্ট দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত জাতীয় সংসদ ভবনে ভোটগ্রহণ হবে। সংবিধানের ৪৮(১) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সংসদ সদস্যরাই রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের ভোটার। এবারের মোট ভোটার ৩৪৯ জন। প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, বিরোধীদলীয় নেতা ও সংসদ সদস্যরা ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন।


রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১ অনুযায়ী প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) নির্বাচনী কর্তা হিসেবে পুরো ভোটপ্রক্রিয়া পরিচালনা করছেন। একাধিক বৈধ প্রার্থী থাকলে ভোট গণনা শেষে সর্বাধিক ভোট পাওয়া প্রার্থীকে বিজয়ী ঘোষণা করা হবে।


১৯৯১ সালে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সংবিধানের দ্বাদশ সংশোধনীর মাধ্যমে সংসদীয় সরকারব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তনের পর ‘রাষ্ট্রপতি নির্বাচন আইন, ১৯৯১’ প্রণয়ন করা হয়। ওই আইনের অধীনে অনুষ্ঠিত প্রথম রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ওপেন ব্যালটে ভোট হয়। বিএনপির প্রার্থী আব্দুর রহমান বিশ্বাস ১৭২ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বদরুদ্দোজা হায়দার চৌধুরী পান ৯২ ভোট।


এবারের নির্বাচনের তফসিল অনুযায়ী ১৩ আগস্ট মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনে তিনটি মনোনয়নপত্র জমা পড়ে। এর মধ্যে ড. অলি আহমদের পক্ষে দুটি এবং মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের পক্ষে একটি মনোনয়নপত্র ছিল। ১৬ আগস্ট যাচাই-বাছাই শেষে সবগুলো মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়। তবে একই প্রার্থীর দুটি মনোনয়নপত্রের একটি অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হওয়ায় শেষ পর্যন্ত দুই প্রার্থীর মধ্যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হচ্ছে। ১৮ আগস্ট মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ দিনেও কেউ প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেননি।


সিইসি এ এম এম নাসির উদ্দিন জানিয়েছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন গত ২৪ জুলাই পদত্যাগ করার পর ওই দিনই এ বিষয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়। এরপর সংবিধান ও প্রচলিত আইন অনুযায়ী নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের প্রক্রিয়া শুরু করে নির্বাচন কমিশন।


সিইসি বলেন, ১৯৯১ সালের পর সংসদীয় পদ্ধতিতে এবারই প্রথম একাধিক প্রার্থীর মধ্যে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হচ্ছে। দীর্ঘদিন প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন না হওয়ায় অভিজ্ঞতার কিছু ঘাটতি থাকলেও প্রয়োজনীয় মহড়া ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে।


ওপেন ব্যালটে ভোট, দেখা যাবে কে কাকে ভোট দিলেন


এবারের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে ব্যালট পদ্ধতি হবে ‘ওপেন’। অর্থাৎ ব্যালটপত্রে প্রার্থী ও ভোটারের নাম স্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। ফলে কে কাকে ভোট দিচ্ছেন, তা উপস্থিত সদস্যদের কাছে দৃশ্যমান থাকবে।


ভোটগ্রহণ শেষে বিকেল ৫টার পরপরই ভোট গণনা শুরু হবে। এরপর সিইসি আনুষ্ঠানিকভাবে ফল ঘোষণা করবেন। ভোটগ্রহণ ও গণনার পুরো প্রক্রিয়া স্বচ্ছভাবে সম্পন্ন করার কথা জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন। এ সময় সংসদ সদস্যরা কক্ষে উপস্থিত থাকতে পারবেন।


ভিআইপি ভোটারদের ভোটদান এবং ভোট গণনার দৃশ্য বাংলাদেশ টেলিভিশনে (বিটিভি) সরাসরি সম্প্রচারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।


সিইসি আরও জানান, ভোটের দিন সংসদ ভবনের ভেতরে কোনো ধরনের নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। সংসদ ভবনের অভ্যন্তরীণ পরিবেশ ও বিধিমালা বজায় রাখার দায়িত্ব স্পিকারের।


নির্বাচনকে ঘিরে অতিরিক্ত বা বড় অঙ্কের ব্যয়ের যে খবর ছড়িয়েছে, তা গুজব বলে উল্লেখ করেছেন সিইসি। তাঁর ভাষ্য, সংসদের বৈঠক আহ্বানসহ প্রয়োজনীয় কিছু ব্যালট ও স্টেশনারি ছাড়া নির্বাচন কমিশনের আলাদা বড় কোনো ব্যয় বা অতিরিক্ত বাজেট নেই।


গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী পরিস্থিতিতে দেশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক মহলেরও এই নির্বাচনের প্রতি বিশেষ নজর রয়েছে বলে জানিয়েছেন সিইসি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, সবার সহযোগিতায় নির্বাচন কমিশন একটি সুন্দর, স্বচ্ছ ও ঐতিহাসিক রাষ্ট্রপতি নির্বাচন উপহার দিতে পারবে।





এমকে/বিএম২৪