১৮০ দিনে বিচার শেষ না হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাতিল হবে না: হাইকোর্ট

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১১:৫৭ এএম
১৮০ দিনে বিচার শেষ না হলেও নারী ও শিশু নির্যাতন মামলা বাতিল হবে না: হাইকোর্ট

সূত্রঃ ফাইল ছবি

বিশেষ প্রতিনিধি


নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হলে শুধু এ কারণে মামলার বিচারিক কার্যক্রম বাতিল বা স্থগিত হবে না বলে রায় দিয়েছেন হাইকোর্ট। আদালত বলেছেন, আইনে নির্ধারিত ১৮০ দিনের সময়সীমা বাধ্যতামূলক নয়, বরং নির্দেশনামূলক।


মো. সাইফুল ইসলাম ওরফে পাভেল বনাম রাষ্ট্র মামলায় এ রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারপতি কে এম কামরুল কাদের ও বিচারপতি মোহাম্মদ শওকত আলী চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বেঞ্চ ২০২৩ সালের ৭ জুন রায়টি দেন। সম্প্রতি রায়ের অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।


রায়ে আদালত বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন, ২০০০-এর ২০ ও ৩১(ক) ধারা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হওয়ার কারণে কোনো মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করার বিধান নেই। নির্ধারিত সময়ে বিচার শেষ না হলে এর কারণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান রয়েছে।


অর্থাৎ, ১৮০ দিনের সময়সীমা পার হয়ে গেলেই মামলা অকার্যকর হয়ে যাবে বা আসামির বিরুদ্ধে চলমান বিচার বন্ধ হয়ে যাবে—এমন কোনো আইনি পরিণতি আইনে নির্ধারিত নেই।


মামলার পটভূমি


রায়ের বিবরণ অনুযায়ী, কলেজে যাওয়া-আসার সূত্রে আসামি পাভেলের সঙ্গে ইডেন কলেজের এক ছাত্রীর পরিচয় ও ঘনিষ্ঠতা হয়। ২০০৭ সালের ৮ জুলাই তাঁকে একটি বাসায় নিয়ে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে ধর্ষণ করা হয় বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়। পরে একাধিকবার ধর্ষণের ফলে ওই ছাত্রী অন্তঃসত্ত্বা হন এবং তাঁকে জোরপূর্বক গর্ভপাত করানোর অভিযোগও করা হয়।


এ ঘটনায় ২০০৮ সালের ২৭ জানুয়ারি রাজধানীর শ্যামপুর থানায় পাভেলসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ভুক্তভোগীর মা। তদন্ত শেষে পুলিশ তাঁদের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র দেয়। পরে মামলাটি ঢাকার নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে বিচারার্থে পাঠানো হয় এবং ২০০৮ সালের ২৩ জুলাই পাভেলের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করা হয়।


পাভেল নিজেকে নির্দোষ দাবি করে হাইকোর্টে রিট করেন। তাঁর দাবি ছিল, মামলাটি ট্রাইব্যুনালে পাঠানোর পর আইনে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ হয়নি। এ কারণে মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিতের আবেদন করেন তিনি।


হাইকোর্ট প্রথমে মামলার বিচারিক কার্যক্রম স্থগিত করলেও পরবর্তী সময়ে উভয় পক্ষের বক্তব্য এবং সংশ্লিষ্ট আইনের বিধান পর্যালোচনা করে ২০২৩ সালের ৭ জুন রিটের ওপর জারি করা রুল খারিজ করে দেন। একই সঙ্গে আগের স্থগিতাদেশ প্রত্যাহার ও বাতিল করা হয়।


আদালতের পর্যবেক্ষণ


রায়ে হাইকোর্ট বলেন, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ২০ ও ৩১(ক) ধারায় ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার কথা বলা হলেও ওই সময়ের মধ্যে বিচার শেষ না হলে মামলার বিচারিক কার্যক্রম বাতিল বা স্থগিত হওয়ার কোনো বিধান নেই।


আইনের ৩১(ক) ধারায় ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ না হলে ট্রাইব্যুনালকে বিলম্বের কারণ উল্লেখ করে প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান রয়েছে। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট পাবলিক প্রসিকিউটর ও পুলিশ কর্মকর্তারও প্রতিবেদন দেওয়ার বিধান রয়েছে।


তাই নির্ধারিত ১৮০ দিন পার হয়ে গেলেই কোনো মামলার বিচার বন্ধ হয়ে যাবে—এমন ব্যাখ্যার সুযোগ নেই বলে রায়ে উল্লেখ করেন হাইকোর্ট।