খুলনায় শিক্ষার্থী আজমুল হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার ৩
সূত্রঃ সংগৃহীত
আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা প্রতিনিধি
খুলনায় নর্থ ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মো. আজমুল হোসেন হত্যা মামলায় তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। তাঁদের মধ্যে হাসনাত হাবিব রিফাত আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। মঙ্গলবার খুলনা ও বরিশালে পৃথক অভিযান চালিয়ে হাসনাত হাবিব রিফাত, তারেক হাসান ওরফে রুবেল এবং প্রতাপ সরকারকে গ্রেপ্তার করা হয়।
বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন কেএমপির গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া।
গ্রেপ্তার হাসনাত হাবিব রিফাত সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার গুনেরগাতি এলাকার মনোয়ার হোসেনের ছেলে। তিনি কৃষি ব্যাংকের নওয়াপাড়া শাখায় কর্মরত। তারেক হাসান ওরফে রুবেল খুলনার হরিণটানা থানার খানজাহান নগর এলাকার লাল মিয়ার ছেলে। আর প্রতাপ সরকার অভয়নগর উপজেলার ধূলগ্রাম সিদ্দিপাশা গ্রামের শিবপদ সরকারের ছেলে।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আজমুল হত্যা মামলার অন্যতম আসামি রিফাত ঘটনার পর আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে খুলনা ও বরিশাল এসআরবির একটি যৌথ দল সোমবার দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার কুড়িয়ানা আদাবাড়ি এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করে।
পুলিশের দাবি, প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে রিফাত হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ঘটনার সময় তিনি আজমুলকে লাঠি দিয়ে আঘাত করেছিলেন।
রিফাতের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার দুপুরে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের খাজা গেটসংলগ্ন এলাকা থেকে তারেক হাসান ওরফে রুবেলকে গ্রেপ্তার করা হয়। এসআরবির ভাষ্য, জিজ্ঞাসাবাদে রুবেলও ঘটনার সঙ্গে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁর দেওয়া তথ্যমতে, ঘটনার রাতে ‘চোর চোর’ চিৎকার শুনে তিনি ঘটনাস্থলে যান এবং সেখানে আজমুলকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন। পরে তাঁকে হরিণটানা থানায় হস্তান্তর করা হয়।
অন্যদিকে, উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতাপ সরকারের অবস্থান শনাক্ত করে খুলনা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ। মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে বরিশালের উজিরপুর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তার করা হয়।
কেএমপির গোয়েন্দা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ আহাদুজ্জামান মিয়া বলেন, উন্নত প্রযুক্তির সহায়তায় প্রতাপের অবস্থান নিশ্চিত হয় গোয়েন্দা পুলিশের। মঙ্গলবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাকে খুলনা গোয়েন্দা কার্যালয়ে এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে।
এদিকে হরিণটানা থানার উপ-পুলিশ পরিদর্শক মো. রাসেল হোসেন জানান, গ্রেপ্তার ৩ আসামির মধ্যে রিফাত হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দি দিয়েছেন। পরে আদালত তাকে খুলনা জেলা কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।









