সোহাগ পরিবহনের বাসের ধাক্কায় বাবা-ছেলের মৃত্যু, আইসিইউতে আরেকজন

প্রকাশিত: ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪৮ পিএম
সোহাগ পরিবহনের বাসের ধাক্কায় বাবা-ছেলের মৃত্যু, আইসিইউতে আরেকজন

সূত্রঃ সংগৃহীত

মো. আল-মাহফুজ শাওন, খুলনা প্রতিনিধি


খুলনার কাটাখালী হাইওয়ে এলাকায় সোহাগ পরিবহনের একটি বাসের ধাক্কায় বাবা ও ছেলের মৃত্যুর ঘটনায় ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে স্বজনদের মধ্যে। একই ঘটনায় ইয়াসিন শেখ নামে আরও একজন গুরুতর আহত হয়ে আইসিইউতে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে জানিয়েছেন তাঁর স্বজনেরা।


স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর আহত ইয়াসিন শেখের চিকিৎসার বিষয়ে পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের খোঁজখবর নেওয়া হয়নি। এমনকি নিহত বাবা-ছেলের মরদেহ দ্রুত দাফন করে ঘটনার বিষয়টি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেছেন তাঁরা। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে পরিবহন কর্তৃপক্ষের কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।


যেভাবে ঘটল দুর্ঘটনা


ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত শুক্রবার দুপুর ১২টার দিকে ঢাকা থেকে আসা সোহাগ পরিবহনের একটি বাস কাটাখালী হাইওয়ে এলাকায় ওই দুর্ঘটনা ঘটায়। বাসটির ধাক্কায় ঘটনাস্থলেই অথবা পরে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বাবা ও ছেলের মৃত্যু হয় বলে দাবি স্বজনদের।


দুর্ঘটনায় ইয়াসিন শেখ গুরুতর আহত হন। পরে তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হলে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় আইসিইউতে নেওয়া হয়। বর্তমানে তিনি সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।


তবে দুর্ঘটনায় নিহত বাবা-ছেলের পরিচয়, তাঁদের মৃত্যুর সুনির্দিষ্ট সময় ও আহত ব্যক্তির চিকিৎসা কোথায় চলছে—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য স্বজনদের বক্তব্যের বাইরে স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।


‘কর্তৃপক্ষ কোনো খোঁজ নেয়নি’


ইয়াসিন শেখের স্বজনদের অভিযোগ, দুর্ঘটনার পর থেকে পরিবহন কর্তৃপক্ষের কেউ তাঁর চিকিৎসার খোঁজ নেননি। আইসিইউতে চিকিৎসাধীন একজন রোগীর চিকিৎসা ব্যয় ও পরবর্তী চিকিৎসার দায়িত্ব কে নেবে, সে বিষয়েও তাঁদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হয়নি।


স্বজনদের ভাষ্য, দুর্ঘটনায় তাঁদের পরিবার একদিকে দুই সদস্যকে হারিয়েছে, অন্যদিকে আরেকজন গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন। এমন পরিস্থিতিতে পরিবহন কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে সহযোগিতা না পাওয়ায় তাঁরা ক্ষুব্ধ।


কাউন্টারে তালা, কয়েক ঘণ্টা পর খুলে দেওয়া


ঘটনার বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা ও সহযোগিতার দাবিতে বুধবার দুপুরে ক্ষুব্ধ স্বজনেরা সোহাগ পরিবহনের একটি কাউন্টারে তালা লাগিয়ে দেন। তাঁদের দাবি, দুর্ঘটনার বিষয়ে পরিবহন কর্তৃপক্ষকে জবাবদিহির আওতায় আনতে এবং আহত ইয়াসিন শেখের চিকিৎসার দায়িত্ব নিতে চাপ তৈরি করতেই তাঁরা এ কর্মসূচি নেন।


তবে কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই পরিবহন কর্তৃপক্ষ কাউন্টারটি আবার খুলে দেয় বলে জানা গেছে।


স্বজনেরা জানান, ঘটনার বিষয়ে পরিবহন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করা হলেও তাঁরা বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি।


তদন্ত ও দায় নির্ধারণ নিয়ে প্রশ্ন


দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ কী ছিল, বাসটি কীভাবে দুর্ঘটনায় জড়াল, চালকের কোনো গাফিলতি ছিল কি না কিংবা এ ঘটনায় আইনগত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে কি না—এসব প্রশ্নের উত্তর এখনো স্পষ্ট নয়।


একই সঙ্গে দুর্ঘটনার পর আহত ব্যক্তির চিকিৎসার দায়িত্ব কে নিয়েছে, পরিবহন কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে কোনো আর্থিক বা চিকিৎসা সহায়তা দেওয়া হয়েছে কি না এবং নিহতদের পরিবারের সঙ্গে কোনো সমঝোতা বা যোগাযোগ হয়েছে কি না—এসব বিষয়েও স্পষ্ট তথ্য পাওয়া যায়নি।


স্বজনদের অভিযোগ, দ্রুত মরদেহ দাফন সম্পন্ন করে ঘটনাটি আড়াল করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এ অভিযোগের পক্ষে স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং পরিবহন কর্তৃপক্ষের বক্তব্যও এ বিষয়ে জানা যায়নি।


সুষ্ঠু তদন্তের দাবি


স্বজনেরা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত করে দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ ও দায়ীদের শনাক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি আইসিইউতে চিকিৎসাধীন ইয়াসিন শেখের চিকিৎসার দায়িত্ব নেওয়া এবং নিহত বাবা-ছেলের পরিবারের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।


তাঁদের দাবি, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণহানির ঘটনা যেন কেবল মামলা বা দাফনের মধ্য দিয়ে শেষ না হয়। দুর্ঘটনার প্রকৃত কারণ তদন্ত করে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ন্যায্য সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।


ঘটনার বিষয়ে পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ কিংবা সংশ্লিষ্ট পরিবহন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে প্রতিবেদনে তা সংযুক্ত করা হবে।