সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ হাজার ৭১২

প্রকাশিত: ০৯ আগস্ট ২০২৬, ১২:৫৩ এএম
সাড়ে ৬ বছরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় নিহত ১৫ হাজার ৭১২

সূত্রঃ ফাইল ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক


দেশে গত সাড়ে ছয় বছরে ১৬ হাজার ৬৫টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১৫ হাজার ৭১২ জন নিহত এবং ১৪ হাজার ১৪৩ জন আহত হয়েছেন। ২০২০ সাল থেকে ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত এসব দুর্ঘটনা ঘটেছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ঘটনা ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে।


শনিবার (৮ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো বাংলাদেশ রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।


সংগঠনটির তথ্য অনুযায়ী, ২০২০ সালে ১ হাজার ৩৮১টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ১ হাজার ৪৬৩ জন নিহত হন। ২০২১ সালে ২ হাজার ৭৮টি দুর্ঘটনায় নিহত হন ২ হাজার ২১৪ জন। ২০২২ সালে ২ হাজার ৯৭৩টি দুর্ঘটনায় ৩ হাজার ৯১ জন, ২০২৩ সালে ২ হাজার ৫৩২টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৪৮৭ জন, ২০২৪ সালে ২ হাজার ৭৬১টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬০৯ জন এবং ২০২৫ সালে ৩ হাজার ২৯টি দুর্ঘটনায় ২ হাজার ৬৭১ জন নিহত হন। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৩১১টি দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন ১ হাজার ১৭৭ জন।


প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, মোট দুর্ঘটনার মধ্যে ৩ হাজার ৫৪৮টি বা ২২ দশমিক ০৮ শতাংশ ঘটেছে মুখোমুখি সংঘর্ষে। মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ঘটেছে ৫ হাজার ৪৯৭টি বা ৩৪ দশমিক ২১ শতাংশ দুর্ঘটনা। আর ভারী যানবাহনের ধাক্কায় ঘটেছে ৬ হাজার ৩১৪টি বা ৩৯ দশমিক ৩০ শতাংশ দুর্ঘটনা। অন্যান্য কারণে ঘটেছে ৭০৬টি দুর্ঘটনা।


পণ্যবাহী যানবাহনেই বেশি দুর্ঘটনা


দুর্ঘটনার জন্য দায়ী যানবাহনের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পণ্যবাহী যানবাহন। মোট দুর্ঘটনার ৪০ দশমিক ৩৪ শতাংশ বা ৬ হাজার ৪৮১টির জন্য ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পিকআপ, ট্রাক্টর, ট্রলি ও লরিকে দায়ী করা হয়েছে।


এ ছাড়া মোটরসাইকেল চালক এককভাবে দায়ী ৩৬ দশমিক ২৯ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য। বাস ১৩ দশমিক ৪৭ শতাংশ, তিন চাকার যান ৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ এবং প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, অ্যাম্বুলেন্স ও জিপ ২ দশমিক ৭২ শতাংশ দুর্ঘটনার জন্য দায়ী।


সড়কের ধরন বিশ্লেষণে দেখা যায়, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার ৪১ দশমিক ৬৩ শতাংশ ঘটেছে আঞ্চলিক সড়কে। জাতীয় মহাসড়কে ২৯ দশমিক ৭১ শতাংশ, শহরের সড়কে ১৬ দশমিক ৪৭ শতাংশ এবং গ্রামীণ সড়কে ১২ দশমিক ১৮ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটেছে।


নিহতদের বড় অংশ কিশোর-তরুণ


প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় আক্রান্তদের ৫৮ শতাংশের বয়স ১৩ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। দেশে নিবন্ধিত মোট মোটরযানের ৭১ শতাংশই মোটরসাইকেল। কিশোর ও তরুণদের মধ্যে বেপরোয়া গতিতে মোটরসাইকেল চালানোর প্রবণতা বাড়ায় দুর্ঘটনার ঝুঁকিও বাড়ছে।


গণপরিবহনের সীমাবদ্ধতা, যানজট এবং মোটরসাইকেলের সহজলভ্যতাকেও এর ব্যবহার বৃদ্ধির অন্যতম কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।


সংগঠনটির দাবি, চার চাকার যানবাহনের তুলনায় মোটরসাইকেল প্রায় ৩০ গুণ বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। দুর্ঘটনায় প্রাণহানি কমাতে মানসম্পন্ন হেলমেট ব্যবহার গুরুত্বপূর্ণ। তাদের মতে, মানসম্পন্ন হেলমেট দুর্ঘটনায় মৃত্যুর ঝুঁকি ৪৮ শতাংশ কমাতে পারে।


দুর্ঘটনা কমাতে সুপারিশ


মোটরসাইকেল দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ হিসেবে কিশোর-তরুণদের বেপরোয়া চালানো, ট্রাফিক আইন না মানা, আইনের দুর্বল প্রয়োগ, ত্রুটিপূর্ণ সড়ক অবকাঠামো, প্রযুক্তি ও নজরদারির ঘাটতি, সহজ ও সাশ্রয়ী গণপরিবহনের অভাব এবং অসহনীয় যানজটকে চিহ্নিত করেছে রোড সেফটি ফাউন্ডেশন।


দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি কমাতে মোটরসাইকেলে নিরাপত্তা ও নজরদারি প্রযুক্তির ব্যবহার, মানসম্পন্ন হেলমেট বাধ্যতামূলক করা, ট্রাফিক আইন কঠোরভাবে প্রয়োগ এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতামূলক কার্যক্রম জোরদারের সুপারিশ করেছে সংগঠনটি।


পাশাপাশি নিরাপদ সড়ক অবকাঠামো নির্মাণ এবং সহজ, সাশ্রয়ী ও যাত্রীবান্ধব গণপরিবহন ব্যবস্থা চালুর ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


এমকে