ধর্মের নামে বিভাজনের সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল

প্রকাশিত: ০১ আগস্ট ২০২৬, ০১:২১ এএম
ধর্মের নামে বিভাজনের সুযোগ নেই: মির্জা ফখরুল

সূত্রঃ ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদক

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বাংলাদেশে ধর্মের নামে বিভাজনের কোনো সুযোগ নেই। হিন্দু, মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিস্টানসহ সব ধর্মের মানুষের সমান অধিকার ও মর্যাদা নিশ্চিত করাই সরকারের লক্ষ্য। ধর্মকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে সমাজে বিভেদ ও অস্থিরতা সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে সরকার সর্বোচ্চ সতর্ক রয়েছে।


শুক্রবার (৩১ জুলাই) রাজধানীর ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে সম্মিলিত সনাতন পরিষদ আয়োজিত ‘সংখ্যালঘুদের সুরক্ষা ও নিরাপত্তা বিধান’ শীর্ষক মতবিনিময় সভা ও প্রতিনিধি সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।


মন্ত্রী বলেন, যুগ যুগ ধরে এ দেশের মানুষ ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সম্প্রীতির পরিবেশে বসবাস করে আসছে। তাই ধর্মের ভিত্তিতে মানুষকে বিভক্ত করার কোনো সুযোগ নেই। তিনি সনাতন সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি কখনোই আপনাদের সংখ্যালঘু মনে করি না। আপনারা এ দেশেরই সন্তান, এ দেশেরই নাগরিক।’


মির্জা ফখরুল বলেন, মহান মুক্তিযুদ্ধ ছিল সব মানুষের স্বাধীনতা, মর্যাদা ও অর্থনৈতিক মুক্তির সংগ্রাম। সেই চেতনাকে ধারণ করেই একটি গণতান্ত্রিক, অসাম্প্রদায়িক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে। রাষ্ট্র পরিচালনায় ধর্মীয় পরিচয়ের পরিবর্তে নাগরিক পরিচয়ই হবে প্রধান ভিত্তি।


তিনি অভিযোগ করেন, একটি মহল ধর্মের নামে বিভেদ সৃষ্টি করে দেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি নষ্টের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ ধরনের অপতৎপরতা প্রতিহত করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশে উগ্রবাদ ও মৌলবাদের কোনো স্থান নেই। সরকার একটি উদার, গণতান্ত্রিক ও সম্প্রীতিপূর্ণ রাষ্ট্র গড়ে তুলতে বদ্ধপরিকর।


সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে সব ধর্মাবলম্বীর জানমাল ও উপাসনালয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি। দুর্গাপূজা, রথযাত্রাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসবে সরকার সর্বাত্মক নিরাপত্তা ও সহযোগিতা দিয়েছে, যাতে কোনো দুর্বৃত্ত সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে।


সনাতন সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নিজেদের সমস্যা ও যৌক্তিক দাবিগুলো সংগঠিতভাবে সরকারের কাছে উপস্থাপন করতে হবে। আলোচনা ও সংলাপের মাধ্যমে সেসব দাবির ইতিবাচক সমাধানে সরকার আন্তরিকভাবে কাজ করবে।


তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাস, মুক্তিযুদ্ধের চেতনা এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে সামনে রেখে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও সমঅধিকারের ভিত্তিতে দেশকে এগিয়ে নিতে হবে।


অনুষ্ঠানে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী উদ্বোধনী বক্তব্য দেন। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, ময়মনসিংহ-৮ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফুল্লাহেল মাজেদসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।