ভাইয়ের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে বোনের মৃত্যু, চিকিৎসাধীন আরেক ভাই; অষ্টগ্রামজুড়ে শোকের ছায়া
এ. আর. সুমন, অষ্টগ্রাম উপজেলা প্রতিনিধি
কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার সদর ইউনিয়নের আলম দিঘীরপাড় এলাকায় একই পরিবারের পরপর দুই সদস্যের মৃত্যুর ঘটনায় এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। পরিবারের সদস্যদের দাবি, ভাইয়ের মৃত্যুর শোক সইতে না পেরে বড় বোনেরও মৃত্যু হয়েছে। এদিকে ভাই-বোনের পরপর মৃত্যুর ঘটনায় তাদের আরেক বড় ভাই গুরুতর অসুস্থ হয়ে বর্তমানে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (২৮ জুলাই ২০২৬) অষ্টগ্রাম উপজেলার আলম দিঘীরপাড় এলাকার বাসিন্দা মো. হাবিল মিয়া (৫৩) অষ্টগ্রাম বড় বাজারে যাওয়ার পথে হঠাৎ অসুস্থ হয়ে রাস্তায় পড়ে যান। স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে বাড়িতে পৌঁছে দেন। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা তাকে কিশোরগঞ্জের সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একই দিন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে তিনি মারা যান।
হাবিল মিয়ার মৃত্যুর সংবাদ পেয়ে ঢাকায় অবস্থানরত তার বড় বোন মোছা. বকুলা বেগম (৫৫) গ্রামের বাড়িতে আসেন। পরিবারের ভাষ্য অনুযায়ী, ভাইয়ের মৃত্যুতে তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন এবং অসুস্থ হয়ে পড়েন। বুধবার (২৯ জুলাই) সকাল ১১টায় হাবিল মিয়ার দাফন সম্পন্ন হওয়ার পর তার শারীরিক অবস্থার আরও অবনতি ঘটে। পরে বিকেল প্রায় ৫টার দিকে তিনিও মারা যান।
এদিকে একই পরিবারের পরপর দুই সদস্যের মৃত্যুতে তাদের বড় ভাই তারা মিয়া (৬২) গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন। বর্তমানে তিনি চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
পরপর দুই মৃত্যুর ঘটনায় আলম দিঘীরপাড় এলাকায় গভীর শোকের পরিবেশ বিরাজ করছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এবং আলম দিঘীরপাড় গণকবরস্থানের প্রতিষ্ঠাতা হাজী আক্রম আলী শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা প্রকাশ করেছেন।
অষ্টগ্রাম উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক আনোয়ার হোসেন আনা বলেন, “এই মর্মান্তিক ঘটনায় আমরা গভীরভাবে শোকাহত। তারা ভাই-বোন জীবদ্দশায় যেমন একসঙ্গে ছিলেন, তেমনি একই সাথে চলে গেলেন। মহান আল্লাহ যেন তাদের জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব করেন এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের এই শোক সহ্য করার শক্তি ও ধৈর্য দান করেন।








